মোংলায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার লক্ষ্যে সম্প্রীতির বন্ধন ও সমাবেশ

মোংলা থেকে মোঃ নূর আলমঃ.শারদীয় দুর্গাপূজায় কুমিল্লা, রংপুরসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা,ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুঠপাটের প্রতিবাদে মোংলায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সম্প্রীতির বন্ধন ও সমাবেশ করেছে বিভিন্ন ধর্মের কয়েকশ মানুষ।
১৯ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় মোংলা উপজেলা পরিষদের সামনে উপজেলা প্রশাসন ও দি হাঙার প্রোজেক্ট বাংলাদেশের ব্রেভ প্রকল্প যৌথভাবে এই সম্প্রীতি বন্ধন সমাবেশের আয়োজন করে। “সংঘাত নয়, ঐক্যের বাংলাদেশ চাই” শ্লোগানে বৈরি আবহাওয়াকে উপক্ষো করে সম্প্রীতির সমাবেশে ইমাম পরিষদ,পুরোহিত, পুজা উদযাপন পরিষদ, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তারা, পুলিশ সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার কয়েকশ মানুষ এই সম্প্রীতির বন্ধন ও সমাবেশে অংশ নেন। তাদের হাতে ছিল নানা সম্প্রীতির স্লোগান সংবলিত ব্যানার। একে অপরের হাত ধরে সম্প্রীতির বন্ধনের কথা জানান দিচ্ছিলেন তারা। সমাবেশে বক্তারা বলেন, গত কয়েকদিন ধরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদেরসবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজায় কুমিল্লাসহ বিভিন্ন স্থানে হিন্দুদের উপর যে সম্প্রদায়িক হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুঠপাট হয়েছে তাতে আমরা মর্মাহত হয়েছি। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। কোন ধর্মই সংঘাতকে সমর্থন করেনা। যারা ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্ব সংঘাতের সৃষ্টি করছে তারা ধর্মেরও শত্রু। এদের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার থাকতে হবে। সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মিলন মেলা হয়েছে। এটা অটুটরাখার দায়িত্ব আমাদের। দেশে ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক দাঙায় আজ প্রকৃতিরও হ্নদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। গত দুইদিন ধরে দেশজুড়ে অঝরে বৃষ্টি ঝরছে। সৃষ্টিকর্তারও মন খারাপ। মোংলায় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণে এমন একটি সম্প্রীতির সমাবেশ দেশের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে বলে মত দিয়েছেন অংশ গ্রহণকারীরা। তাই কোন ধরনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার চেষ্টা করবেন না। ভবিষ্যতে কেউ যদি এই ধরনের অন্যায় কাজে জড়ায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। সম্প্রীতির বন্ধন সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমলেশ মজুমদার। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পৌরসভার মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আব্দুর রহমান, মোংলা মোংলা সার্কেল’র সহকারি পুলিশ সুপার মোঃ আসিফ ইকবাল, থানার ওসি ঠাকুর দাস, মোংলা পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি পীযুস কান্তি মজুমদার, ইমাম পরিষদের সভাপতি মাওলানা রেজাউল করিম, সাধারণসম্পাদক আব্দুর রহমান, মন্দিরের পুরোহিত সঞ্জয় চক্রবর্তী, দি হাঙার প্রজেক্ট বাংলাদেশের ব্রেভ প্রকল্পের জেলা সমন্বয়কারী নাজমুল হুদা মিনা ও সুজনের মোংলা উপজেলার সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মো. নূর আলম শেখ।