মেয়র পদে বসতে আর বাধা নেই বুলবুলের

রাজশাহী অফিস: রাজশাহী সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে বসতে আর কোনো বাধা নেই মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের। রোববার বেলা ১১টার দিকে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ আগের রায়টি পূন:বহাল রেখে রায় ঘোষণা করেন। সেই সঙ্গে যে নোটিশে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছিলো তা অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে আগের রায় বহালের আদেশ দেন। সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী আমিনুল হক হেলাল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এরআগে, বুলবুলকে বরখাস্ত করা অবৈধ বলে ২০১৬ সালের ৩ মার্চ হাইকোর্ট রায় দেয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছিলো সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে। সেই আপিলের রায়েও ২০১৬ সালে ২৪ মার্চ বহাল রেখেছিলেন প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ। সেই রায়টির বিরুদ্ধে আবারো আপিল করা হয়েছিলো।

সে আপিলের শুনানি শেষে আগের রায় পূন:বহাল রেখে আবারো রোববার রায় দেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ।

সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী আমিনুল হক হেলাল বলেন, এ রায়ের ফলে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল রাজশাহী সিটি করপোরেশনে বসতে আর কোনো বাধা নেই। যে চিঠির বলে মেয়র বুলবুলকে বরখাস্ত করা হয়েছিলো তা অবৈধ ঘোষনা করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ২০১৬ সালে হাইকোর্টে বিচারপতি এমদাদুল হক ও বিচারপতি মজিবুর রহমান মিয়ার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ বুলবুলের বরখাস্ত আদেশকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে হাইকোর্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র নিযাম উল আযীমকেও অবৈধ ঘোষণা করেছিলেন। আদেশের একদিন পর সরকারের পক্ষে চেম্বার জজ আদালতে আপিল করা হলে হাইকোর্টের আদেশটি স্থগিত করা হয়। তবে আবেদনটি নিষ্পত্তির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেয়া হয়। ওই বছরই ২৪ মার্চ আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ শুনানি শেষে হাইকোর্টের আদেশকেই বহাল রাখা হয়েছিলো।

সেই রায়ের বিরুদ্ধে আবারো আপিল করা হয়েছিলো। তবে, শেষে রোববার (৫ মার্চ) এক রায়ে আগের রায়ই বহাল রাখা হয়েছে।

২০১৫ সালের ৭ মে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে বরখাস্ত করে আদেশ জারি করে।

আদেশে বরখাস্তের কারণ দেখানো হয় তার বিরুদ্ধে এক ফৌজদারি মামলায় পুলিশের দেয়া আদালতে চার্জশিট হওয়াকে। মন্ত্রণালয়ের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে বুলবুল হাইকোর্টে রিট করেছিলেন। হাইকোর্টের রায়ে মন্ত্রণালয়ের এ কারণকেও অবৈধ উল্লেখ করে বিষয়টি বাতিলের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি যতক্ষণ না আদালতের রায়ে অভিযুক্ত বা দÐপ্রাপ্ত হবেন ততক্ষণ পর্যন্ত তাকে অপসারণ করা যাবে না- বলে মন্ত্রণালয়ের যে আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে তা লংঘন করা হয়েছে বলে ওই আদেশে বলা হয়।