মেননের বাজেট বক্তৃতা

203

যুগবার্তা ডেস্কঃ বুধবার জাতীয় সংসদে বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি’র সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি বাজেট বক্তৃতা করেন। তার দেওয়া বাজেট বক্তৃতাটি পাঠকের জন্য যুগবার্তায় তুলে ধরা হলো;
মাননীয় স্পীকার,
আপনাকে ধন্যবাদ। আমি বক্তব্যের শুরুতে দেশবাসীকে মাহে রমজানের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। একই সঙ্গে আমি পার্বত্য চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রামে ভূমিধসে আদিবাসী-বাঙালি যারা নিহত হয়েছেন তাদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।

মাননীয় স্পীকার,
মাননীয় অর্থমন্ত্রী হিসেবে এগারতম বাজেট দিয়েছেন। আমরা আশা করব আগামী বছর একইভাবে বাজেট প্রদান করে এক ডজন বাজেট প্রদানের রেকর্ড করবেন।
অর্থমন্ত্রী তার বাজেটের শিরোনাম দিয়েছেন- উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ : সময় এখন আমাদের। আসলেই সময় এখন বাংলাদেশের। অর্থনীতির সকল ক্ষেত্রে তো বটেই, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা এবং এর বাইরে ক্রীড়া, ডিজিটাশানের সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান বাজেট সেই উন্নয়ন ধারাবাহিকতার বাজেট।

মাননীয় স্পীকার,
অর্থনীতির ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক অর্জনের জন্য সবাই বাংলাদেশকে বাহাবা দিচ্ছে। যে পশ্চিমা দেশগুলো বাংলাদেশের সাথে বিরূপ আচরণ করে চলেছে তারাও বাংলাদেশকে উদীয়মান অর্থনীতির দেশ নামে অভিহিত করছেন। এশিয়ার বাঘ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের। এর প্রকাশ হচ্ছে পোশাক শিল্পে আমরা বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে চলে গেছি। প্রকাশ হচ্ছে বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন ৩২.৮ বিলিয়ন ডলার। প্রকাশ হচ্ছে এ বছরের প্রতিকূল পরিস্থিতি হলেও খাদ্যশস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ কেবল স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়নি, চাল রফতানি করার কথাও ভাবতে পারছি। প্রকাশ হচ্ছে কৃষির ভরা মৌসুমে কৃষি মজুরি ৪০০/৫০০ টাকায় পৌঁছেছে। আর চাহিদা যখন কম থাকে তখনও ১৫০-২০০ টাকার নিচে কাউকে নিয়োগ দেয়া যায় না। এক সময় খেতমজুর ইউনিয়ন আমরা সাড়ে ৩ সের চালের দামের সমান মজুরি নিশ্চিত করার দাবি তুলতাম। কিন্তু এখন চালের মূল্য এবার বৃদ্ধি পেলেও ঐ মজুরি দিয়ে ৫ কেজি চাল কিনতে পারছে লীন মৌসুমেও। প্রকাশ হচ্ছে দেশের স্কুলগুলোতে চার কোটি ছাত্র-ছাত্রী পড়াশুনা করছে যারা বছরের প্রথম দিনে নতুন বই পান। রিক্সাওয়ালার হাতে মোবাইল। নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বিভিন্ন সময় বলেছেন কতিপয় সামাজিক সূচকে বাংলাদেশ ভারত থেকেও এগিয়ে। দেশে দারিদ্র্য হ্রাস পেয়েছে, মঙ্গা দূর হয়েছে। অকৃষি খাতে নানা ধরনের ছোটখাট উদ্যোগ গড়ে উঠছে। গ্রাম-শহরের যোগাযোগ বেড়েছে। আসলে বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন টেকঅফ স্টেজে। এ বক্তব্যকে পরিসংখ্যান দিয়ে সমর্থনের প্রয়োজন নাই। দেশের মানুষের দিকে দেখলেই এ বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠে। পর্যটন মন্ত্রী হিসেবে আমি বলতে পারি ছোটখাট যে কোন ছুটিতে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে আমরা জায়গা দিতে পারি না। গত বছর ৯৮ লাখ অভ্যন্তরীণ পর্যটক দেশের মধ্যে ভ্রমণ করেছেন।

মাননীয় স্পীকার,
এই ব্যতিক্রমী উন্নয়নের পেছনে শক্তি কারা? শক্তি আমাদের কৃষক, বিশেষভাবে দরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষক যারা অর্থের বিনিময়ে জমি ভাড়া নিয়ে বাংলাদেশে একর প্রতি কৃষি উৎপাদনে কয়েকগুণ বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছে। ফলে গ্রামাঞ্চলে খাদ্যাভাব নাই। এক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের কৃষি সহায়ক নীতিমালাও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে। দ্বিতীয় শক্তি পোশাক শিল্পের নারী শ্রমিকরা। কেবলমাত্র উৎপাদন নয়, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও শ্রমে নারীর অংশগ্রহণ-পরিবর্তনের সূচনা করেছে। গার্মেন্টেসের যারা উদ্যোক্তা তাদের অবদানও সমধিক। এ খাতে পুঁজিবাদী শোষণ তীব্র হলেও অধ্যাপক আকাশের মতে এটা নিকৃষ্ট ‘ব্যবসা-আমলা পুঁজি নয়,’ নিছক কমিশনভোগী পুঁজিও নয়। এর একটি কর্মদৃষ্টি ও উৎপাদনমুখী ভূমিকা রয়েছে যদিও মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে লাভের খুবই অসম ও অন্যায় বণ্টন অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশের তৃতীয় শক্তি হচ্ছে Demographic Dividend বা জনসংখ্যার সুফল ও তার ফলাফল হিসেবে প্রবাসী শ্রমিকসহ তরুণ শ্রমবাহিনীর উদ্ভব ও অবদানের কথা। এরা বিদেশে বিপুল পরিশ্রম করে দেশের জন্য মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা আনছেন। তাদের পাঠানো টাকায় গ্রামাঞ্চলে উদ্যোক্তা তৈরি করছে। চতুর্থ শক্তি হচ্ছে এসএমই বা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং তাদের উদ্যোগসমূহ। তবে এ সকলের উদ্যোগ অবদান নেতিবাচক বাধার কারণে পরিপূর্ণ বাস্তবায়িত হচ্ছে না।

মাননীয় স্পীকার,
এতক্ষণ যে উন্নয়নের কথা বললাম এসব শক্তি তার সহযাত্রী হতে পারছে কিনা। নাকি তাদের শ্রমে ঘামে অর্জিত উন্নয়নের পরও তারা চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। আমাদের সংবিধান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২১ রূপরেখা সমতা বিধানের কথা বলা হয়েছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা, Sustainable Development Gool- SDG-তে স্বীকার করে নেয়া হয়েছে নতুন সহস্ররাব্দে উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা হবে ‘বৈষম্য হ্রাস’ অর্থাৎ সমাজের নিম্নতম ৪০ শতাংশের আয় উর্ধ ৬০ শতাংশের চেয়ে বেশি হারে বৃদ্ধি পেতে হবে। কিন্তু উল্টো ঘটনাটাই ঘটছে। বাংলাদেশে আয় বৈষম্য সম্প্রতিকালে বৃদ্ধি পেয়েই চলেছে। ২০১০ সালে পরিমিত আয় বৈষম্যের যিনি সূচক .৪৬ এ দাড়িয়েছে। আর এ ক্ষেত্রে গ্রামে আয় বৈষম্য সর্বদাই ছিল উর্ধমুখী। আসলে গ্রাম ও শহরে ক্রমবর্ধমান আয় বৈষম্যই বাংলাদেশের সাধারণ চিত্র। অধ্যাপক আকাশের প্রকৃত চিত্রটি অন্যভাবে ব্যাখ্যা করলে তাতে যেটা বেড়িয়ে আসে তাতে দেখা সর্বোচ্চ ১০ শতাংশের আয় সর্বনিম্ন ৪০ ভাগের কয়েকগুণ বেশি যা SDG gool এর বিপরীত। আয় বৈষম্যের এই প্রবণতাটি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠে শ্রমের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির হার ও প্রকৃত মজুরি হারের গতি দেখে। আমাদের দেশে শ্রমের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির যে হারে বেড়েছে প্রকৃত মজুরি বৃদ্ধির হার তার চেয়ে কম।

মাননীয় স্পীকার,
বাংলাদেশের এ ধরনের প্রবৃদ্ধি এবং বিদ্যমান আয় বৈষম্যের কারণে গ্রাম-শহর, গরিব ধনীর মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়েছে। জাতি এখন এভাবে বিভক্ত। সুতরাং সরকারের নীতিকে বরংবার মূল্যায়ন করে তাকে আরও গরিবমুখী, গ্রামমুখী, নারীমুখী করতে হবে যাতে সবশ্রেণীর নাগরিকরা সমতার চেতনায় পরস্পরের সাথে ঐক্যবোধ করবে। প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি সমতার দর্শনকে অনুসারণ করতে পারলেই আমরা আমাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করতে পারব। নইলে এই প্রবৃদ্ধি সমতাভিত্তিক হবে না, অসম এক সমাজ সৃষ্টি করবে।

মাননীয় স্পীকার,
অর্থমন্ত্রী অবশ্য সমাজের নিম্নগোত্রীয় মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তার বেড়াজাল ক্রমেই বৃদ্ধি করে চলেছেন। এবারের বাজেটেও সেটা হয়েছে। কিন্তু এদের জন্য যে অর্থ ব্যয় হচ্ছে তা দুর্নীতির কবলে পড়ে অপচয় হচ্ছে। এর কার্যকর ফলাফল পেতে এটা মনিটরিং করা অতীব জরুরি।

মাননীয় স্পীকার,
আমি এবার শ্রমিকদের কিছু কথা বলছি। বাংলাদেশে অনানুষ্ঠানিক খাতের জন্য কোন শ্রম আইন নাই। মাননীয় সংসদ সদস্য ইস্রারাফিল আলম এ ব্যাপারে একটি বেসরকারি সদস্য বিল এনেছেন। এই সংসদের সেটা বিবেচনা করা জরুরি। বাংলাদেশের ৫ কোটি ৬৭ লক্ষ শ্রম শক্তির মধ্যে ৪ কোটি ৭৩ লক্ষ্যই কাজ করেন অনানুষ্ঠানিক খাতে। অর্থাৎ ৮৩ শতাংশ শ্রমিক সকল প্রকার অধিকার ও আইনী সুযোগের বাইরে অবস্থান করছেন। এদের কোন ন্যূনতম মজুরিও নাই। সংগঠিত শ্রমিকের অধিকাংশই পোষাক শিল্পে কাজ করেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তিনদফায় ওদের বেতন বৃদ্ধি করলেও তাদের নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৫ হাজার ৩শ টাকা দারিদ্র আয়ের অর্ধেকের সমান। পাটখাতে অগ্রগতির জন্য মাননীয় মন্ত্রীদ্বয়কে অভিনন্দন জানিয়ে বলতে হয় বিজেএমসি-র অব্যবস্থাপনার কারণে প্রায়শয়ই এদের হপ্তা বাকী পড়ে। প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকাও ঠিকমত পায় না। এসব বিষয়ে অধিকতর দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন।

মাননীয় স্পীকার,
আমি এখন রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে কতিপয় বিধানের কথা বলব। এটা ঠিক যে আমাদের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে রাজস্ব আহরণে বৃদ্ধি ঘটাতে হবে। কিন্তু সেটা যদি সাধারণ মানুষকে আঘাত করে তা’হলেই বিপত্তি ঘটে। এর জন্য প্রয়োজন রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে করের পরিধি বৃদ্ধি করা, তাকে আরও দক্ষ করে তোলা। কিন্তু বাজেটের প্রস্তাব দেখে মনে হয়েছে সেখান থেকে সহজে আদায় করা যাবে যে এনবিআর-এর নজর সেদিকেই পড়েছে। ব্যাংকের আমানতের উপর আবগারী শুল্ক বৃদ্ধি করা তার একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ। কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী সংসদে সঠিকভাবেই বলেছেন যে এমনিতেই আমানতের সুদ নিম্ন পর্যায়ে। এছাড়া রয়েছে মূল্যস্ফিতী। তার উপর রয়েছে ব্যাংকের সার্ভিস চার্জ। সব মিলিয়ে এক লাখ টাকার উপর আমানত রেখে ঘরে ৯৫ হাজার টাকা নিয়ে ফিরতে হবে। অর্থমন্ত্রী ব্যাংকে টাকা রাখা নিরুৎসাহী করছেন কিনা, সেটা বোঝা যাচ্ছে না। না হলে এই করারোপ কোন আরোপ করতে যাচ্ছেন। এ নিয়ে সংসদে মন্ত্রী-এমপি সবাই অনেক আলোচনা করেছেন। সুতরাং এ ব্যাপারে অনড় অবস্থানের কোন অবকাশ নাই। তা’ছাড়া এটা প্রত্যাহার করে নিলে বাজেটে কোন উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হবে না।

অন্যদিকে আগামী ২ মাসের মধ্যে সঞ্চয় পত্রের সুদ কমানো হবে বলে যে কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী সেটাও শেষ বিবেচনায় অযৌক্তিক। এতে নিম্নবিত্ত মধ্যবিত্তের সঞ্চয়ের স্পৃহাই কমবেনা, তারা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্থ হবেন। এ ব্যাপারে বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী লেখক হাসান আজিজুল হক সংবাদপত্রে যে কথা লিখেছেন সেটাকে দেখতে বলব অর্থমন্ত্রীকে। মাননীয় মন্ত্রী ঋণ খেলাপীদের ছাড় দিচ্ছেন, তাদের কারণে ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি করের টাকা দিয়ে ভরছেন, সেখানে পেনশনভোগী, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত সঞ্চয়ীকে কেন কটা টাকা বেশি দেয়া যাবে না। এর কাল হবে মধ্যবিত্তের সঞ্চয় শেয়ার বাজারে যাবে। ফটকাবাজীর শিকার হবে। আরও ঐ ফটকাবাজদের কোনদিন বিচার হবে না।

অর্থমন্ত্রী জুলাই থেকে ১৫% ভ্যাট কার্যকর করার ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞার সবার উপর এই ভ্যাট আরোপের পরিণতি কি হতে পারে সেটা নিশ্চয়ই তিনি জানেন না তা’নয়। এটা ঠিক যে একটা বড় ধরনের অব্যাহতি আছে। কিন্তু নিম্ন ও মধ্যবিত্তের উপর এর আঘাত আসবেই। অর্থমন্ত্রী সংসদের আলোচনা শুনেছেন। নিশ্চয়ই পুনর্বিবেচনা করবেন।

আমি এ ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্টভাবে একটি বিষয় উল্লেখ করতে চাই। আর তা’হল মেভিটেনশনের উপর ভ্যাট আরোপ করা নিয়ে। গত বছর তিনি এ ব্যাপারে আমাদের অনুরোধ রেখেছিলেন। আমাদের পাশের দেশ ভারত যোগকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃত ব্যবস্থা করেছে। ব্রিটিশ সরকারও ২০১১ সালে যোগ মেডিটেশনের উপর থেকে ভ্যাট প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। সুতরাং বর্তমান বছরে একে মুসক বহিভর্‚ত পক্ষ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ করছি।

মাননীয় স্পীকার,
বাজেট প্রসঙ্গে আমি শেষ যে কথাটি বলতে চাই, তা’হল এ কথা বারবার উচ্চারণ করা হয় যে আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়িত করতে চাই। আর সেটা করতে গেলে চুয়াত্তর-পচাত্তর সালে বঙ্গবন্ধুর দেয়া ভাষণগুলো আমাদের বারবার শোনা উচিত। তিনি সব সময় একটি সমতাভিত্তিক সমাজের কথা বলেছেন। সংবিধানে এমনকি সমাজতন্ত্রকে রাষ্ট্রীয় মূল নীতি হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। সমাজতন্ত্রের সেই লক্ষ্যরে কথা এখন বলছি না, তবে অবশ্য তার স্বপ্নের সমাতাভিত্তিক সমাজের কথা আমাদের বলতেই হবে। কেবল কথায় নয়, কাজে। দৃষ্টিভঙ্গির ক্ষেত্রে পুঁজিবাদী উন্নয়ন দর্শনকে পরিহার করতে হবে।
বঙ্গবন্ধু বারবার দুর্নীতি বন্ধের কথা বলেছেন। দুর্নীতি এখন সর্বব্যপ্ত কালোটাকার দৌরাত্ম সর্বব্যাপক। আমাদের দেশে কালো টাকার পরিমাণ এনবিআর-এর হিসাব মতে জিডিপি-র ২০৫% থেকে ৮০ শতাংশ। এর জন্য কোন কর দিতে হয় না। বিদেশে পাচার হয়ে যায় এই অর্থ। এর পরিমাণ কত? অর্থমন্ত্রী নিজেই বলেছেন যে পাচার হওয়া অর্থ এক বছরের বাজেটের সমান। সেই টাকা ফেরত আনা যাবে না। অথচ বাজেটে টাকার সংকুলানের জন্য ভ্যাট-ট্যাক্সের মহোৎসব করব, এটা হয় কিভাবে।

মাননীয় স্পীকার,
আমি এবার দেশের রাজনীতি নিয়ে দু’একটি কথা বলব। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা দেয়ার পর দেশে নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। আর তখনই বিরোধী বিএনপি-শিবির নির্বাচন নিয়ে তাদের পুরানো খেলায় মেতে উঠেছে। তারা বলছে শেখ হাসিনার অধীনে কোন নির্বাচন হবে না, হতে দেয়া হবে না। তবে কার অধীন হবে। তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বদলে এখন সহায়ক সরকারের কথা বলছেন যার কোন ধরনের সাংবিধানিক বৈধতা নাই। নির্বাচন হবে এবং সাংবিধানিকভাবে শেখ হাসিনার অধীনেই হবে। এবার যদি বিএনপি নির্বাচন না করে তবে তারা তাদের জীবনের সর্বশেষ ভুলটি করবেন। আর নির্বাচন প্রতিরোধ বেগম জিয়ার অবরোধের মত কথার ফানুসই থেকে যাবে।

মাননীয় স্পীকার,
নির্বাচনী প্রক্রিয়া ঘোষণার প্রেক্ষিতে রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের প্রচেষ্টা লক্ষ্যনীয়। জামাত নির্বাচনে সেভাবে অংশগ্রহণ করতে না পারলেও বিএনপির ছত্রছায়ায় অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যদিকে হেফাজতসহ বিভিন্ন ইসলামপন্থী দলগুলোর গলা চড়েছে। তারা বিভিন্ন ইস্যুতে ৫ মে-র পুনরাবৃত্তির কথা বলেন। এই ঔদ্ধত্য অতীতেও গ্রহণ করা হয়নি, বর্তমানেও হবে না বাংলাদেশের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার মূলনীতি পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সে অনুসারে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতার কোন জায়গা নাই। আগামী নির্বাচনেও এই অসাম্প্রদায়িক গতিধারাকে অব্যাহত রাখতে হবে।

মাননীয় স্পীকার,
এবার আমি আমার মন্ত্রণালয় সম্পর্কে দু’একটি কথা বলতে চাই।

মাননীয় স্পীকারঃ
এ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থাসমূহ হচ্ছে-
(১) বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, (২) বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, (৩) বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পাবলিক লিমিটেড কোম্পানীসমূহ হচ্ছে- ১। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেড, ২। বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেড, ৩। হোটেলস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড। এ সকল সংস্থার মাধ্যমে এ মন্ত্রণালয়ের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করা হয়।
এ সংক্রান্তে আমি সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করছি।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (CAAB)
মাননীয় স্পীকারঃ
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বিমান পরিবহন সেক্টরে একটি বিশেষায়িত উচ্চ প্রযুক্তি সম্পন্ন প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সেবাধর্মী। বাংলাদেশের আকাশ সীমায় দেশী বিদেশী বিমানের উড্ডয়ণ, নিরাপদে অবতরণ এবং নির্বিঘ্নে চলাচলের নিশ্চয়তা বিধান-ই এর মূল লক্ষ্য। এছাড়াও বিভিন্ন দেশের সাথে বিমান চলাচল চুক্তি ও কার্যক্রম এই কর্তৃপক্ষের আওতাধীন। International Civil Aviation Authority (ICAO) এর আইন ও বিধি বিধান এবং এদেশের সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী CAAB দায়িত্ব পালন করে থাকে। বিদ্যমান আইনসমূহ যুগোপযোগী করার জন্য ইতোমধ্যেই বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৭ মহান সংসদ কর্তৃক পাশ করা হয়েছে এবং বেসামরিক বিমান চলাচল আইন ২০১৭ মহান সংসদে বিবেচনাধীন রয়েছে।
মাননীয় স্পীকারঃ
বর্তমানে ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিমান চলাচল করছে। দেশের ০৭ (সাত) টি গন্তব্যে অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান চলাচল কার্যক্রম চালু রয়েছে।
মাননীয় স্পীকারঃ
উড়োজাহাজের মাধ্যমে বাংলাদেশ হতে কেবল যাত্রীই পরিবহন করা হয় না বরং বিপুল সংখ্যক কার্গোও পরিবহন করা হয়। সাম্প্রতিক বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে যাত্রী পরিবহন এবং কার্গো পরিবহন উভয় ক্ষেত্রেই নিরাপত্তার ইস্যুটি সামনে চলে আসছে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিভিন্ন নিরাপত্তা কার্যক্রম গৃহীত হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি/ ইকুইপমেন্ট সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান আছে। পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার জন্য আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান আছে।
আপনি জেনে খুশী হবেন যে, পৃথিবীর অনেক দেশের বিমানবন্দরে বিভিন্ন অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটলেও সময়োপযোগী কার্যক্রম গ্রহণের ফলে বাংলাদেশের বিমানবন্দরসমূহে এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোন দুর্ঘটনা ঘটেনি।
মাননীয় স্পীকার,
ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং যাত্রী চলাচল বৃদ্ধির কারণে ইতোমধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারনের কাজ বাস্তবায়নের জন্য জাইকার সাথে মন্ত্রণালয়ের Minutes of Meeting (MOM) স্বাক্ষরিত হয়েছে। সিডিউল অনুযায়ী প্রকল্পটি ২০২১ সালের মধ্যে সমাপ্তির জন্য নির্ধারিত হলেও ডিসেম্বর ২০১৯ সালে প্রকল্পের Soft Opening করা হবে। এ লক্ষ্যে প্রকল্পের বিস্তারিত ড্রইং, ডিজাইন রিভিউকরণসহ অন্যান্য কাজ তত্ত্বাবধানের জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হয়েছে। প্রকল্পের ডিপিপি অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে প্রেরণ করা হয়েছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনা ও নির্দেশনা অনুসারে এভিয়েশন সেক্টরকে রিজিওনাল হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মানের কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে জায়গা নির্বাচন সংক্রান্ত সমীক্ষা কাজ সমাপ্তির পথে। কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়েতে সুপিরিয়র বিমান উড্ডয়ন সুবিধা সৃষ্টির জন্য রানওয়ে ৬৭৭৫ ফুট হতে ৯০০০ ফুটে উন্নীত করনের জন্য ১১৯৩.৩২ কোটি টাকা ব্যয় প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া ২৫৫.৭০ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ‘‘কক্সবাজার বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক প্যাচেঞ্জার টার্মিনাল ভবন নির্মাণ” শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছে। প্রকল্প শেষ হলে কক্সবাজার বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে কাজ করবে। বাগের হাটে মংলা বন্দরের কাছাকাছি খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণের কাজ হাতে নেয়া হয়েছে। এছাড়াও ৪৫১৯৭.৭৩ লক্ষ (চারশত একান্ন কোটি সাতানব্বই লক্ষ তিয়াত্তর হাজার) টাকা ব্যয়ে ‘‘সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদ্যমান রানওয়ে ও টেক্সিওয়ের শক্তি বৃদ্ধিকরণ” শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বোয়িং ৭৭৭ এয়ারক্রাফটের মত সুপরিসর বিমান উঠা নামা করতে পারে।
সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নয়ন ও বরিশাল বিমানবন্দর উন্নয়নে বিস্তারিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, ড্রইং-ডিজাইন, মাস্টার প্লান ও ব্যয় প্রাক্কলন নির্ধারনের জন্য আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে।
মাননীয় স্পীকার
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ গত বছর ১০৫.০০ কোটি টাকা নন রেভিনিউ ট্যাক্স জমা দিয়েছে। বর্তমান অর্থবৎসরে ইতোমধ্যে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ পর্যন্ত সময়ে মোট ৮৭৫.০০ কোটি টাকা আয় করেছে। সংস্থাটির আয়ের উর্দ্ধমুখী ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে আমার বিশ্বাস। এছাড়া এভিয়েশন খাতকে যুগোপযোগী ও বাস্তবমুখী করার লক্ষ্যে এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের ক্রমবর্দমান চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এ খাতে দক্ষ জনশক্তি তৈরীর জন্য একটি আন্তর্জাতিক মানের এভিয়েশন ইউনিভার্সিটি স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে; যা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

বাংলাদেশ বিমান
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স দেশের অভ্যন্তরে ও আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রী পরিবহন ও কার্গো পরিবহন করে থাকে। বিশেষ করে ইউরোপে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানীযোগ্য গার্মেন্টস এবং শাক সবজি আকাশ পথে বেশি পরিবহন করা হয়। জাতীয় পতাকাবাহী বাংলাদেশ বিমান অত্যন্ত দক্ষতার সাথে এ কার্যক্রম সম্পাদন করছে। নতুন প্রযন্মের উড়োজাহাজ দ্বারা বিমানবহরকে শক্তিশালী করার জন্য বোয়িং কোম্পানীর সাথে ক্রয় চুক্তির আওতায় ১০ টি উড়োজাহাজের মধ্যে ইতোমধ্যেই ০৪ টি নতুন প্রজন্মের ৭৭৭-৩০০ ই আর উড়োজাহাজ ও ০২ (দুই) টি নতুন প্রজন্মে ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ বিমান বহরে যুক্ত হওয়ায় বিমানের সক্ষমতা বেড়েছে। বর্তমানে ১৫টি আন্তর্জাতিক ও ৭টি অভ্যন্তরীন রুটে বাংলাদেশ বিমান চালু রয়েছে। পরিকল্পনা ও ক্রয় চুক্তি অনুয়ায়ী বিমানবহরে নতুন উড়োজাহান যুক্ত হলে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রুটে বিমানের ফ্লাইট চালু করা হবে।
কক্সবাজার বিমানবন্দরে ইতোমধ্যে ৭৩৭ বোয়িং বিমান চলাচল শুরু হয়েছে যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ০৬ মে ২০১৭ তারিখ উদ্বোধন করেন।

মাননীয় স্পীকারঃ
এটা সত্য যে, যে আকাঙ্খা নিয়ে বাংলাদেশ বিমানকে অধিকতর গতিশীল ও প্রতিযোগিতামূলক করার জন্য ২০০৭ সনে সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানী হিসেবে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল, বিভিন্ন কারণে সে লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। দীর্ঘ ০৭-০৮ বছর বাংলাদেশ বিমানে কোনরূপ নতুন জনবল নিয়োগ করা হয়নি। ফলে জনবলের মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে। এতদসত্বেও পূর্ববর্তী অর্থ বছর সমূহের তুলনায় ২০১৫-১৬ অর্থ বৎসরে যাত্রী সংখ্যা যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে তেমনি রাজস্ব বৃদ্ধিও পেয়েছে। গত অর্থ বৎসরে বিমান মোট ২৩১৮২৩৩ জন যাত্রী পরিবহন করেছে। গত অর্থ বৎসরে বিমান মোট আয় করেছে ৪৮৩৫.৬৩ কোটি টাকা এতে নিট মুনাফা হয়েছে ২৭৫.৯৯ কোটি টাকা। বর্তমান অর্থ বৎসরে এই আয় বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে।
মাননীয় স্পীকারঃ
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের সার্বিক সংস্কার ও উন্নয়নের লক্ষ্যে মতামতসহ প্রতিবেদন প্রদানের জন্য একটি কমিটি ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের সকল কার্যক্রম নিবিড় তদারকি করার জন্য ইতোমধ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় কর্তৃক্ব উচ্চ পর্যায়ের টাক্সফোর্স গঠন করা হয়েছে এবং উক্ত টাক্সফোর্স কার্যক্রম শুরু করেছে। এত্যতব্যতিত বিমানের যাত্রী সেবার মান বৃদ্ধিতে নিম্নরূপ বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে-
* যাত্রী সেবার মান উন্নয়নে SMS সার্ভিসের মাধ্যমে ফ্লাইটের সিডিউল পরিবর্তনের বিষয়টি জানতে পারে। Travel Agency Portal এর মাধ্যমে টিকেট বুকিং সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
* আগমনী ব্যাগেজ এরিয়ায় ২০ মিনিটের মধ্যে প্রথম ব্যাগেজ এবং সর্বশেষ ব্যাগেজ ৮৫ মিনিটের মধ্যে পাওয়ার জন্য ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। সার্বিক গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এর মান উন্নয়নের জন্য IATA এর এক্সপার্টকে কনসালটেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে এবং Ges Joint Venture এর কার্যক্রম এর উদ্যেগ নেয়া হয়েছে। ফ্লাইট হ্যান্ডলিংএ গতিশীলতা আনয়নের লক্ষ্যে সিনিয়র অফিসার দিয়ে RED CAP team গঠন করা হয়েছে।
* কার্গো অপারেশন উন্নয়নের জন্য সেমি-অটোমেশন ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
* অপারেশনাল কার্যাদি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য অটোমেশন প্রক্রিয়া চলমান আছে।
* সর্বোপরি বিমানের কার্যক্রমে সরকারের নজরদারী বৃদ্ধি করা হয়েছে।
* প্রয়োজনীয় সংখ্যক Support Equipment (GSE) ক্রয়ের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ও ট্যুরিজম বোর্ড

মাননীয় স্পীকার,
বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ১৯৭৩ সনে যাত্রা শুরু করে। রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নে পর্যটন শিল্পকে অন্যতম অর্থনৈতিক খাত হিসেবে গড়ে তোলার কাজ চলছে। পর্যটন শিল্পকে Smoke less Industry বলা হয়। একজন বিদেশী লোক দেশে আসলে ১১ জন লোকের কর্মের সুযোগ সৃষ্টি হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০১৬ সনকে পর্যটন বর্ষ হিসেবে ঘোষণা করেন এবং ২০১৬-২০১৮ সন পর্যন্ত Visit Bangladesh কর্মসূচির মাধ্যমে ২০১৮ সালের মধ্যে বাংলাদেশে বিদেশী পর্যটক আগমন সংখ্যা ১০ (দশ) লক্ষে উন্নীতকরণ এবং এ সেক্টরে নতুন তিন লক্ষ কর্মসংস্থানের সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের পাশাপাশি ২০১০ সনে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড গঠন করা হয়। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড বিদেশে বিভিন্ন সেমিনার ও মেলায় অংশগ্রহণ এবং দেশে বিভিন্ন সভা, সেমিনার ও মেলার আয়োজন করে থাকে এবং বেসরকারি ট্যুর অপারেটরদের কে নির্দেশনা ও সহায়তা প্রদান করে। পর্যটন করপোরেশন একদিকে পর্যটন ভৌত অবকাঠামো ও অন্যান্য সুবিধাদির উন্নয়নে কাজ করছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড এই শিল্পকে বিশ্ব পরিসরে তুলে ধরার জন্য প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কর্মসূচী পালন করছে। UNWTO এর সার্বিক সহযোগিতায় সরকার এবং বেসরকারী খাত এক্ষেত্রে এক যোগে কাজ করছে।
পর্যটন করপোরেশন বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর আওতায় ৪২৮৫.৫৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রামে নতুন পর্যটন মোটেল, সৈকত নির্মান করা হয়েছে। চট্টগ্রামের পারকি সৈকতে পর্যটন সুবিধাদি/ স্থাপনাদি গড়ে তোলার জন্য প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় স্থানসমূহে পর্যটন সুবিধাদি প্রবর্তনের লক্ষে বিস্তারিত সমীক্ষা সম্পাদন করা হয়েছে। শ্রীঘ্রই বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে পর্যটন সুবিধাদির উন্নয়ন করা হবে।
এছাড়া পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপের আওতায় কক্সবাজারের বিদ্যমান পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্স, পর্যটন রিসোর্ট ও এন্টারটেইনমেন্ট ভিলেজ উন্নয়ন, কক্সবাজার উপল কম্পাউন্ডের বিদ্যমান মোটেলের স্থানে আন্তর্জাতিক ট্যুরিষ্ট কমপ্লেক্স নির্মান, সিলেটে পাঁচ তারকা মানের হোটেল নির্মান এবং বিদ্যমান মোটেলে বিভিন্ন সুবিধাদি প্রবর্তনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়া পিপিপি’র আওতায় খুলনা জেলার মুজগুন্নীতে এবং বাগের হাট জেলার মংলাতে পর্যটন সুবিধাদি প্রবর্তনের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়ক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেছেন যা বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
মাননীয় স্পীকার,
বাংলাদেশের অতিথি পরায়নতা সারা বিশ্বে স্বীকৃত। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক কনফারেন্স/সভার আয়োজন করে। গত ২৭-২৮ অক্টোবর ২০১৬ তে ঢাকায় International Buddhist Conference এর আয়োজন করা হয়। এতে Buddhist Heritage সমূহ দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে ব্যাপকভাবে পরিচিতি লাভ করে। বিগত ২৩-২৫ নভেম্বর ২০১৬ তারিখে কক্সবাজারে PATA New Frontiers Forum ২০১৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত Forum-এ বাংলাদেশসহ ১৭ দেশের মোট ২৪২ জন দেশি বিদেশি অতিথি অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলেও বাংলাদেশ নেতৃত্বের সুযোগ পেয়েছে। বাংলাদেশ পর পর দু’বার United Nations World Tourism Organization Ges Commission for South Asia এর ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয় এবং ২০১৭ ও ২০১৮ সালের জন্য ওআইসি পর্যটন মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছে। 29th Joint Meeting of the UNWTO Commission for East Asia and the Pacific and the UNWTO Commission for South Asia) গত ১৫-১৭ মে ২০১৭ তে বাংলাদেশের চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়। ইতোমধ্যে UNWTO মহাসচিব জনাব Taleb Refai বাংলাদেশে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রোগ্রামে অংশ নিয়েছেন এবং বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

মাননীয় স্পীকারঃ
আপনি জেনে খুশি হবেন যে, 10th Islamic Conference of Tourism Ministers (ICTM) আগামী ১২-১৪ নভেম্বর ২০১৭, বাংলাদেশের সিলেটে অনুষ্ঠিত হবে। 3rd ACD Tourism Ministers Meeting and 2nd International Conference on Sustainable Tourism and Heritage Cities ২০১৮ সনে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেড এবং হোটেলস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড
বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেড এর রূপসী বাংলা হোটেলের সেবার মান উন্নততর করার লক্ষ্যে হোটেলটি পরিচালনার জন্য আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলস গ্রুপের সঙ্গে ত্রিশ বছর মেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ইন্টারকন্টিনেন্টালের ব্যান্ড ষ্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী বর্তমান রূপসী বাংলা হোটেলের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি ও আধুনিকীকরণের জন্য ৬২২.২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ব্যপক সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সংস্কার কাজ সমাপ্তির পর ২০১৭ সালের প্রথমার্ধে হোটেলটি ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা শিরোনামে বার্ণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করবে।
প্যান প্যাসিফিক সোনরগাঁও হোটেলে ২৭৭ টি বিলাসবহুল অতিথি কক্ষ ও স্যুট রয়েছে। সেবার মান ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে সোনারগাঁও হোটেলের সংস্কার কাজ ইতোমধ্যে সমাপ্ত হয়েছে। এ সংস্থা ১৯৯১ সাল থেকে নিট মুনাফা অর্জন করে আসছে এবং ২০১৬ সালে ২৯.৬১ কোটি টাকা নীট মুনাফা অর্জন করেছে।

মাননীয় স্পীকার,
অর্থমন্ত্রী বরার্ট ফ্রন্টের কবিতায় উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন আমাদের এখনও যোজন যোজন যেতে হবে। তবে সেটা কোন প্রতিশ্রুতি পুরণ করবেন। যোজন পথ অতিক্রম করার আমরা সেই প্রতিশ্রুতি পুরণ করবে যে আমরা সামাজি ন্যায্যতাকে মূল ধরে সমতা ভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলব। সময় এখন আমাদেরই, এ সম্পর্কে সিদ্ধান্তও এখনি নিতে হবে।