মেডিকেল চেক আপ শেষ, প্রস্তুত ফাঁসির মঞ্চও

98

যুগবার্তা ডেস্কঃ মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের মেডিকেল চেকআপ সম্পন্ন হয়েছে। অপরদিকে তাদের ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রস্তুত করা হয়েছে দুই জল্লাদকেও।
বৃহস্পতিবার রাতে দু’জন কারা চিকিৎসক তাদের মেডিকেল চেকআপ সম্পন্ন করেন। চেকআপে অংশ নেয়া ডা. বিপ্লব কান্তি সাংবাদিকদের বলেন, আমিসহ আর একজন চিকিৎসক বৃহস্পতিবার রাতে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের মেডিকেল চেকআপ করেছি। তারা দু’জনেই সুস্থ আছেন। মানসিকভাবেও শক্ত আছেন।
শুক্রবার সকালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, সাকা চৌধুরী ও মুজাহিদের রায়ের কপি কারাগারে পৌঁছানোর পর ফাঁসির মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু হয়। বৃহস্পতিবার রাত ২টার মধ্যে এ কাজ সম্পন্ন হয়। মঞ্চটি ধোয়ামোছা শেষে এর চারপাশে শামিয়ানা টানানো হয়েছে। তিনি আরো জানান, ফাঁসি কার্যকর করতে শাহজাহান ও রাজু নামের দুজন জল্লাদকে প্রস্তুত করা হয়েছে।
দুই জল্লাদের পরিচয়
বিভিন্ন মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, জল্লাদ শাহজাহান ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রথম যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করেন। অন্যদিকে, চলতি বছরের ১২ এপ্রিল আরেক জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকরে ভূমিকা রাখেন জল্লাদ রাজু।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্রে জানা যায়, শাহজাহান ১৪৩ বছরের বেশি কারাদ-প্রাপ্ত আসামি। ৩৬ বছর ধরে তিনি কারাগারে আছেন। আর রাজু ১৫ বছর ধরে কারাগারে আছেন।
শাহজাহান বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পাঁচ আসামি, এরশাদ শিকদারসহ বিভিন্ন আসামির মৃত্যুদ- কার্যকর করেছেন।
বুধবার মানবতাবিরোধী অপরাধে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের রিভিউ আবেদন নিষ্পত্তি করে তাঁদের মৃত্যুদ-াদেশ বহাল রেখে রায় দেন আপিল বিভাগ। এর একদিন পর গতকাল রিভিউ আবেদন খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি কারাগারে পৌঁছানো হয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে সুপ্রিম কোর্টের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার আবু তাহের ভূঁইয়া দুটি রায়ের কপি ট্রাইব্যুনালে পৌঁছে দেন। তারপর রাত পৌনে ৯টার দিকে সেখান থেকেই মৃত্যু পরোয়ানা তৈরি করে তা লাল কাপড়ে মুড়িয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জ্যেষ্ঠ জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবীর সাংবাদিকদের জানান, দুজনকেই রায় পড়ে শোনানো হয়েছে। এ সময় তাঁদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করবেন কি না। তখন দুজনেই জানান, তাঁরা এ ব্যাপারে আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেবেন। তখন তাঁদের জানানো হয়, আইনজীবীর সঙ্গে সাক্ষাতের আর কোনো সুযোগ নেই। তখন তাঁরা পরিবারের সঙ্গে আবার দেখা করতে চেয়েছেন।আমাদের সময়.কম