মূল কাঠামো ও নদী শাসনে বাড়ছে পদ্মা সেতুর ব্যয়

94

যুগবার্তা ডেস্কঃ অতিরিক্ত অর্থের বরাদ্দ চেয়ে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ এই প্রকল্পের সংশোধিত প্রস্তাব মঙ্গলবার একনেক সভায় উপস্থাপিত হতে যাচ্ছে বলে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ওই সভায় এই প্রস্তাব অনুমোদন পেলে পদ্মা সেতুর নির্মাণ ব্যয় দাঁড়াবে ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।
“মূলত নদী শাসন ও মূল কাঠামোর দুই খাতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হওয়ার কারণেই প্রকল্পটির ব্যয় বাড়ছে, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন পদ্মা সেতুর প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম।
দেশের দক্ষিণাঞ্চলকে সড়ক পথে রাজধানীসহ মধ্যাঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করতে পদ্মা নদীর উপর ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণর কাজ গত ১২ ডিসেম্বর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
বলা হচ্ছে, এই সেতু নির্মাণ হলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি বাড়বে ১ দশমিক ২৩ শতাংশ, দারিদ্র্য কমবে শূন্য দশমিক ৮৪ শতাংশ হারে।
সেতু সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২০১৮ সালে যাতায়াতের লক্ষ্য নিয়ে এরই মধ্যে প্রকল্পের ২৭ শতাংশের কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে মূল সেতুর পাইলিং।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের নথিপত্রে দেখা যায়, ২০ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্য ছিল। এখন ব্যয় ৮ হাজার ২৮৬ কোটি টাকা বাড়ছে।
প্রকল্প পরিচালক শফিকুল বলেন, “সংশোধিতপ্রস্তাবে মূলত নদী শাসন এবং মূল সেতু নির্মাণে ব্যয় বেড়েছে বেশি। কারণ মূল সেতুর জন্য চায়না মেজর ব্রিজের সঙ্গে প্রকল্পের প্রথমবারের হিসাবের চেয়ে বেশি দরে চুক্তি করতে হয়েছে।
“একইসঙ্গে নদী শাসনে চীনের আরেক কোম্পানি সিনোহাইড্রোর সঙ্গেও বেশি দরে চুক্তি করতে হয়েছে। এটি ইতোমধ্যে পারচেজ কমিটি থেকে অনুমোদন নেওয়া হয়েছে।”
‘চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি ১২ হাজার ১৩৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকায় সেতুর মূল কাঠামো তৈরি করছে। নদী শাসনে সিনোহাইড্রো করপোরেশনকে দিতে হচ্ছে ৮ হাজার ৭০৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা।
২০১১ সালের প্রথম প্রস্তাবে এ দুই খাতে ব্যয় ধরা হয়েছিল যথাক্রমে ৯ হাজার ১৭২ কোটি ১৭ লাখ এবং ৫ হাজার ৩৬২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।
পদ্মা সেতুর নির্মাণযজ্ঞ (ফাইল ছবি) পদ্মা সেতুর নির্মাণযজ্ঞ (ফাইল ছবি)
এছাড়া জাজিরা ও মাওয়া সংযোগ সড়ক এবং সার্ভিস এলাকা নির্মাণেও ব্যয় বাড়ছে বলে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এ তিন অংশে ব্যয় হচ্ছে যথাক্রমে ১ হাজার ৯৭ কোটি ৩৯ লাখ, ১৯৩ কোটি ৪০ লাখ ও ২০৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা। এ তিন অংশের কাজই যৌথভাবে করছে বাংলাদেশের আবদুল মোনেম লিমিটেড ও মালয়েশিয়ার এইচসিএম কনস্ট্রাকশন।
দুই ধাপে পদ্মা সেতুর নির্মাণ তদারকিতে ব্যয় করা হচ্ছে ৫১৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। এছাড়া জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে ১ হাজার ৫১৫ কোটি এবং পরিবেশগত ব্যবস্থাপনায় ১২৯ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।
২০০৭ সালে একনেক ১০ হাজার ১৬১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পটি অনুমোদন করেছিল। পরে নকশা পরিবর্তন হয়ে দৈর্ঘ্য বেড়ে যাওয়ায় নির্মাণ ব্যয়ও বেড়ে যায়। ২০১১ সালে ২০ হাজার ৫০৭ কোটি ২০ লাখ টাকার সংশোধিক প্রকল্প একনেকে অনুমোদন পেয়েছিল।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এই অবকাঠামো নির্মাণে তখন বিশ্ব ব্যাংকের ১২০ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থাটি দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনেছিল। এনিয়ে তাদের সঙ্গে টানাপড়েনের পর ২০১৩ সালে সরকার বিশ্ব ব্যাংককে না করে দিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে বহু প্রতীক্ষিত এই সেতু তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়।
২০১১ সালে মূল সেতু নির্মাণ কাজ শুরুর কথা থাকলেও এই জটিলতার কারণে তা চার বছর পিছিয়ে যায়।
এর মধ্যে নির্মাণ সামগ্রীর দাম এবং ডলারের বিনিময় মূল্য বেড়ে যাওয়ার কারণে পদ্মা সেতুতে ব্যয় বাড়ছে, বলেন সেতু বিভাগের এক কর্মকর্তা। বিডি নিউজ২৪.কম