মুসলমান ছেলেকে দেবতা হিসেবে পূজা

69

যুগবার্তা ডেস্কঃ স্কুলে বন্ধুবান্ধবরা তাকে ভীষণ উত্ত্যক্ত করে। চলে মারধরও। কারণ? তার গোটা শরীরে প্রচুর লোম। এমনকি মুখেও। এ ছাড়া ওই কিশোরের দুই ঠোঁট যথেষ্ট পুরু, দুই ভ্রু ক্রমশ মিলিয়ে গিয়েছে মাথার চুলের সঙ্গে। নাকটাও অসম্ভব রকমের চওড়া এবং থ্যাবড়া।
এই কিশোরের নাম মোহাম্মদ রাইহান। বয়স মেরেকেটে ১৩ হবে! সহপাঠীদের অনেকেই তাকে নেকড়ে বাঘ বলে ডাকে। কিন্তু, এ সবে কিছু মনে করে না রাইহান।
এর একটা উল্টো দিক আছে। যে কারণে তার সহপাঠীদের তাকে নেকড়ে বাঘ বলে মনে হয়, ঠিক একই কারণে রাইহানের গ্রামের লোকদের তাকে হনুমান বলে মনে হয়। সেখান থেকেই তাকে পুজো করার শুরু।
শুধু তার গ্রাম নয়, আশপাশের বহু গ্রামের মানুষের কাছেই সে হিন্দুদের ভগবান ‘হনুমানজি’। ওই ‘ভক্ত’দের মতে, সে আসলে হনুমানজির এ যুগের অবতার। সেই ভাবনা থেকেই মুসলমান ওই কিশোরের পুজোপাঠ।
কিন্তু, মানুষ রাইহান এ সবে কিছু মনে করে না। তার কথায়, ‘কিছু মানুষ আমাকে দেখে হাসে। অন্যেরা আমার কাছে আশীর্বাদ চাইতে আসে। আমি এ সবে মোটেও গুরুত্ব দিই না।’
রাইহান বলে, ‘আমার খুব হাসি পায় যখন দেখি আমাকে এক বার শুধু দেখবেন বলে অনেক সময় বহু দূর দূর গ্রাম থেকে মানুষজন আসেন।’
কিন্তু, রাইহান কি নিজেকে দেবতা বলে মনে করে? ইন্দোনেশিয়ার উত্তর কালিমান্টানের ওই গ্রামীণ কিশোর রাইহান বলে, ‘বহু মানুষ ভাবেন- আমি ভগবান এবং আমার বিশেষ ক্ষমতা আছে। আসলে আমি তো অন্যদের থেকে একেবারেই আলাদা দেখতে। আর সে কারণে কেউ যদি এ সব ভাবে, আমি তো সেই ভাবনা আটকাতে পারব না।’
আসলে রাইহান জানে, চিকিৎসকরা তাকে নিয়ে কী বলেছেন। তারা বলেছেন, হরমোনের সমস্যার কারণেই তার শরীরে এত লোম।
এ জন্য লেজার চিকিৎসার পরামর্শও দিয়েছেন তারা। কিন্তু, রাইহানের স্বামীহারা মায়ের পক্ষে অত টাকা জোগাড় করা অসম্ভব। রাইহানকে পুজো করতে দেয়ার সম্মতি দেয়া ছাড়া তার আর কিছুই করার উপায় নেই যে!নিউজওয়ার্ল্ডবিডি.কম