মুলাদীতে অধ্যক্ষ’র বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

37

কল্যাণ কুমার চন্দ, বরিশাল থেকেঃ পর্যায়ক্রমে বিষয় ভিত্তিক ১১ জন প্রভাষক নিয়োগে বিপুল পরিমান অর্থ বাণিজ্য, কলেজ উন্নয়নের জন্য সরকারীভাবে বরাদ্দকৃত চাল, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নগদ অর্থ আত্মসাতসহ কলেজের আয়ের বিপুল পরিমান অর্থ কলেজ অধ্যক্ষ আত্মসাত করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি বরিশালের মুলাদী উপজেলার পূর্ব হোসনাবাদ ডিগ্রী কলেজের।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সময়ে এসব অভিযোগের ভিত্তিতে গঠিত তদন্ত কমিটির নেতৃবৃন্দরা প্রতিটি অভিযোগের সত্যতা পেয়ে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। তার পরেও রহস্যজনক কারণে বিএনপি দলীয় সাবেক সাংসদের ভাইয়ের ছেলে অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান হুমায়ুন অধ্যক্ষ পদে এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছেন। ফলে স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
তদন্ত কমিটির দাখিল করা রিপোর্ট সূত্রে জানা গেছে, কলেজ উন্নয়নের জন্য সরকারীভাবে দুই কিস্তিতে ছয় মেট্রিক টন চাল বরাদ্ধ করা হয়। অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান হুমায়ুন চাল বিক্রির অর্থে কলেজে কোন কাজ না করে পুরো টাকা আত্মসাত করেছেন। এছাড়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তর থেকে স্কুলে নতুন টয়লেট নির্মানের জন্য এক লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্ধ করা হয়। ওই বরাদ্ধকৃত টাকা দিয়ে নতুন টয়লেট নির্মান না করে অধ্যক্ষ ঠিকাদারের সাথে আতাত করে পুরাতন টয়লেট রং করে পুরো টাকা আত্মসাত করেছেন। সূত্রে আরও জানা গেছে, ২০১৫ সাল থেকে অদ্যবর্ধি কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রসংশাপত্র বাবদ পাঁচ শ’ টাকা ও সার্টিফিকেট বাবদ পাঁচ শ’ টাকা হারে তিন লাখ টাকা আদায় করে প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব নাম্বারে জমা না দিয়ে অধ্যক্ষ পুরো টাকা আত্মসাত করেছেন। এমনকি কলেজেটি ডিগ্রী শাখা খোলার জন্য পর্যায়ক্রমে বিষয় ভিত্তিক ১১জন প্রভাষক নিয়োগের সময় তিনি (অধ্যক্ষ) মোটা অংকের টাকার নিয়োগ বাণিজ্য করেছেন। এছাড়া ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান জালজালিয়াতির মাধ্যমে অধ্যক্ষ হয়ে কলেজ উন্নয়নের ২৫ লাখ টাকা আত্মসাত করেন।
কলেজ সূত্রে আরও জানা গেছে, পূর্ব হোসনাবাদ কলেজটি এমপিও ভুক্ত হওয়ার পূর্বে আবিদুর রহমান হুমায়ুন ওই কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ছিলেন। মহাজোট সরকারের সময় কলেজটি এমপিও ভুক্ত হওয়ার পর কৌশলে সে অধ্যক্ষ বনে চলে যান। এজন্য তিনি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি কিংবা নিয়োগ বোর্ড এবং ফলাফলের সিট পর্যন্ত শিক্ষা অধিদপ্তরে দাখিল করেননি। বিষয়টি সর্বত্র ছড়িয়ে পরলে স্থানীয় সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দরা অধ্যক্ষর দুর্নীতির বিষয়টি লিখিতভাবে শিক্ষা মন্ত্রীর বরাবরে আবেদন করেন। পরবর্তীতে শিক্ষামন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে পৃথক চিঠিতে অধ্যক্ষ আবিদুর রহমানের নিয়োগ বৈধভাবে হয়নি মর্মে উল্লেখ্য করে কলেজ গবনিং বডির সভাপতিকে অবহিত করা হয়। তৎকালীন সভাপতি ওই চিঠি পেয়েও অধ্যক্ষর নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে কোন কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। পরবর্তীতে শিক্ষামন্ত্রণালয় থেকে তৎকালীন জেলা প্রশাসককে তদন্তপূবর্ক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সব দপ্তর ম্যানেজ করে ভুয়া কাগজ বানিয়ে অধ্যক্ষ পদে বহাল রয়েছেন।
এ ব্যাপারে কলেজ গবনিং বর্ডির সভাপতি এ্যাডভোকেট আব্দুর বারি’র সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঢাকায় আছেন জানিয়ে বলেন, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে সে বিষয়ে খতিয়ে দেখে কলেজ গবনিং বর্ডির সদস্যদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।