মুখ ঘুরিয়ে নিচ্ছে বিদেশিরা : চাপ কমাতে সরকারের দৌড়ঝাপ

যুগবার্তা ডেস্কঃ দৌড়ঝাপ করেও তেমন ভাল হচ্ছেনা। একের পর এক বিদেশি রাষ্ট্র মুখ ঘুরিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশ থেকে। সর্বশেষ গুলশানে জঙ্গি হত্যাকান্ডের পর বিদেশিরা বাংদেশের ব্যাপারে আরো সর্তক অবস্থানে। আন্তর্জাতিক নানামুখী চাপের মুখে বাংলাদেশ সরকার। অন্যদিকে ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের অনেক দেশ বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা প্রদানে করছে গড়িমসি। পার্শ্ববর্তী ও বন্ধুরা এসব নিয়ে যেমন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা, তেমনি সরকারও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর জন্য পররাষ্ট্র দপ্তর ছাড়াও বিদেশে দৌড়ঝাপ করছেন অন্য মন্ত্রী আমলারাও। গত সপ্তাহে বন্ধু দেশের কাছে নিজের দেশের ভাবমূর্তি বোঝার জন্য ধরণা দিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন। তিনি এও বলে এসছেন যে বাংলাদেশ জঙ্গি রাষ্ট্র এ দেশের জঙ্গি ভাইরাস থেকে বন্ধু দেশকে বাচাঁতে হলে দু’দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা বাড়াতে হবে! অনেকটা খুশি হলো বন্ধু দেশ ভারত। তারা ঢাকার সঙ্গেই বাংলাদেশের ভেতরে জঙ্গি নির্মুলে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। বাংলাদেশে জঙ্গি নেই বলা হলেও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটছে। জঙ্গিবাদ ইস্যু, সন্ত্রাসবাদ, বিচারবহির্ভূত হত্যা, কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপড়েন, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং এমনকি ২০১৪ সালে বির্তকিত নির্বাচনসহ ধাপে ধাপে কয়েকটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে তুমুল সমালোচনা ও চাপের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি গুলশান আর্টিজানে জঙ্গি হত্যাকান্ডের পর অনেকটাই মুখ ফিরিয়ে নিযেছেন বিদেশিরা। মালয়েশিয়া ফের শ্রমিক রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা দিয়েছে। এর আগেও গত ৩/৪ মাস ধরে বাংলাদেশের কার্গো বিমান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র । যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। এমনকি খুব শিগগির ঢাকা-লন্ডন ফ্লাইট বন্ধেরও নির্দেশ আসতে পারে। কিছু দেশ ঢাকা থেকে ভিসা কেন্দ্র সরিয়ে নিয়েছে ভারতের নয়াদিল্লি কিংবা অন্যত্র। যুক্তরাষ্ট্র গার্মেন্টস খাতে জিএসপি পুনর্বহাল করেনি। সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার কারণে আগামী মৌসুমে দুই থেকে আড়াইশত কোটি ডলার মূল্যের পোশাক তৈরির কাজ হারাচ্ছে বাংলাদেশ। জঙ্গি হামলার কারণে নিরাপত্তা শঙ্কায় বিদেশি ক্রেতারা দেশে আসতে ভয় পাচ্ছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ভারত সরকারও সংখ্যালঘু নির্যাতন ও জঙ্গিবাদ ইস্যু টেনে নানা বাংলাদেশের নীতির পরিবর্তন নিয়ে নানা সমালোচনা চলছে শীর্ষ পর্যায়ে থেকে। এদিকে নিরাপত্তার অজুহাতে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি কার্গো বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দেশটি। জাপান : দূতাবাসের ২ কর্মকর্তা ছুটি থেকে আর ফেরত আসছে না বলেও ঘোষণা দিয়েছে। জাইকার কর্মসূচিও বন্ধ ঘোষনা করার আশঙ্কা করছে বাংলাদেশ। জাইকার প্রেসিডেন্ট নিরাপত্তা নিযে শঙ্কিত । তিনি বাংলাদেশে নিরাপত্তা বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য সফর করতে পারেন। ইতিমধ্যে ব্রিটিশ কাউন্সিল নিরাপত্তা আশঙ্কায় তাদের বাংলাদেশ কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করেছে। সিঙ্গাপুর: বাংলাদেশে সফররত সিঙ্গাপুরি নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়বৃহস্পতিবার এই বিষয়ক সতর্কতা জারি করা হয়।সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ভ্রমণ সতর্কবার্তায় বলা হয়, বাংলাদেশে অবস্থানরত সিঙ্গাপুরের নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা গ্রহণের পাশাপাশি স্থানীয় সংবাদ মনিটরিংয়ের পাশাপাশি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেয়া হয়। সৌদি আরব বাংলাদেশ থেকে ‘সিঙ্গেল’ (অবিবাহিত অথবা ব্যাচেলর থাকেন এমন) পুরুষ গৃহকর্মীদের ভিসা দেয়া সাময়িক স্থগিত করেছে সৌদি আরব।যাদের এমন গৃহকর্মী প্রয়োজন তারা যেন অন্য কোন দেশ থেকে তাদের চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আরব নিউজ। আরব নিউজে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে ‘সিঙ্গেল’ পুরুষ গৃহকর্মীর জন্য অস্থায়ীভাবে ভিসা দেয়া স্থগিত করেছে সৌদি আরবের শ্রম ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এমন গৃহকর্মীর চাহিদা মেটাতে সৌদি আরবের নাগরিকদের আহ্বান জানানো হয়েছে অন্য ‘মোসানেদ’ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অন্য দেশ থেকে শ্রমিক খুঁজে নিতে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও অষ্ট্রেলিয়ার বার বার হুমকি: বন্ধ হতে পারে ঢাকা-লন্ডন ফ্লাইট: বন্ধ হতে পারে ঢাকা -লন্ডন ফ্লাইট। শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি না হলে সরাসরি ফ্লাইটটি বন্ধ করে দেবে বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি দিয়েছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন এক চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীকে এ কথা জানিয়েছেন। ডেভিড ক্যামেরন তার চিঠিতে বলেন, ৩১ মার্চের মধ্যে অবস্থার উন্নতির জন্য একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তার দৃশ্যমান বাস্তবায়ন হলে পরবর্তী কোনো পদক্ষেপ, যেমন-বিমানের ঢাকা-লন্ডন সরাসরি ফ্লাইট বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়া হবে না। তবে বুধবার থেকে ঢাকা-লন্ডন সরাসরি কার্গো পরিবহন পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বাতিল করেছে যুক্তরাজ্য। মার্চের শেষে যুক্তরাজ্য যে পর্যালোচনা রিপোর্ট দেবে, তা ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া মেনে নেবে এবং সে অনুযায়ী তারা পদক্ষেপ নেবে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশকে দীর্ঘদিন থেকেই অনুরোধ করে আসছে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য। যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া ঢাকা বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করার জন্য যুক্তরাজ্যকে দায়িত্ব দিয়েছে। কাতার যুক্তরাজ্য নিদের্শে ঢাকা-কাতার কার্গো পরিবহন বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। এ নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের আলোচনার কোন অগ্রগতিও নেই। তুরস্ক জামায়াত ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ফাসিঁর দন্ড কার্যকর করার পর তুরস্ক বাংলাদেশ সরকারের সমালোচনা করে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারকেব কোনভাবে কোন কিছু না জানিয়েই এক কথায় থোরাই কেয়ার করার মতো নিজেদের দূতাবাস বন্ধ করে দেয়। পাকিস্তান সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে কূটনৈতিক সর্ম্পকের চরম অবনতি। যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে সম্প্রতি দুটো দেশের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছে । বৃহস্পতিবার (১০ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আনন্দবাজার বলেছে, এত দিনে পাকিস্তান বাংলাদেশকে দিয়েছে একটি মাত্র পুরোনো বোয়িং বিমান। যার আয়ু ছিল সীমাবদ্ধ। পাওনা নিয়ে কথা বলতে গেলেই কানে তুলো গুঁজছে পাকিস্তান। আবার পাওনার কথা অস্বীকারও করছে না দেশটি। বাংলাদেশের সামনে এখন একটি পথই খোলা। তারা সেই রাস্তায় হাঁটতে চাইছে। এবার আর্ন্তজাতিক আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে আটকে থাকা পাকিস্তানিদের ফিরিয়ে নেয়ার কথাও ভাবছে না পাকিস্তান। আরো সমস্যা হচ্ছে, বাংলাদেশের পাওনা টাকা দিচ্ছে না তারা। পত্রিকাটির ভাষ্য, ভারত চাইলে এ ব্যাপারে কিছুটা করতে পারত। সেটাও হবে না। ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক বিভিন্ন জটিল পথ পরিক্রমা করছে। দুই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, নওয়াজ শরিফ সদ্ভাব রক্ষা করে চললেও, পাকিস্তানের রাজনৈতিক শক্তি ভারতের মতো শক্ত জায়গায় নেই। শরিফের ক্ষমতা সীমাবদ্ধ। তিনি চাইলেও সবকিছু করতে পারেন না। বাধা থাকে। প্রতিকূলতায় সাঁতরাতে গিয়ে বিরুদ্ধে ঢেউয়ে বাধা আটকাচ্ছেন। ভারত বাংলাদেশের বন্ধু প্রতীম সম্পর্কের দেশ ভারতের মন গলাতে পারছে না। জঙ্গি ইস্যু, সংখ্যালঘু ইস্যুসহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে সরকারকে চাপে রাখছে ভারত। এমনকি বাংলাদেশ নীতিতে পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি শীর্ষ নেতা সুব্রমনিয়ম স্বামী। বাংলাদেশে মন্দিরে এবং হিন্দুদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি এমন আভাস দিয়েছেন। এমনকি অভিযোগ এনেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও। বিজেপি শীর্ষ নেতা সুব্রমনিয়ম স্বামী বলেছেন, এই ঘটনায় সরকার সম্পৃক্ত কিংবা অসহায়। তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে উগ্রপন্থাবেড়েছে বাংলাদেশে। এর জের ধরে হত্যার শিকার হয়েছে হিন্দুরা। হিন্দু নারীদের অসম্মান করা হয়েছে আর ধ্বংস করা হয়েছে হিন্দু মন্দির। তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশে হিন্দু পুরোহিতের শিরশ্চেদের ঘটনা ছিল অত্যন্ত মর্মান্তিক। অভিযোগ করেন, এটা মোটামুটি স্পষ্ট যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশটিতে হিন্দু-বিরোধী ফোবিয়াতে হয় অসহায় অথবা সম্পৃক্ত।