মার্কিন সরকারের মুখোশ খুলে দিয়েছে রাশিয়া: আসছে নতুন যৌথ বাহিনী

72

আমেরিকার বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক উইলিয়াম অ্যাংদাল বলেছেন, সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে রুশ অভিযান শুরুর পর ওয়াশিংটনের আসল চেহারা সবার সামনে পরিষ্কার হয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেছেন, আমেরিকা এত দিন দাবি করে আসছিল তারা সিরিয়ায় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল’র বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে তাদের হামলা সত্ত্বেও ওই গোষ্ঠীর তৎপরতা ক্রমেই আরও বৃদ্ধি পাচ্ছিল। আসলে সিরিয়ায় তাদের হামলা ছিল শুধুই লোক দেখানো।
অধ্যাপক উইলিয়াম অ্যাংদাল আরও বলেছেন, সিরিয়ার বাশার আসাদ সরকারকে উৎখাতের লক্ষ্যে এক দল সন্ত্রাসীকে ‘মধ্যপন্থী’ আখ্যা দিয়ে তাদেরকে নিয়মিত সব ধরনের সামরিক সহযোগিতা দিয়ে আসছিল ওয়াশিংটন। আমেরিকা মধ্যপন্থী হিসেবে আখ্যায়িত করে যেসব সন্ত্রাসীকে অস্ত্র দিত, তারা কিছু দিন পর আইএসআইএল-এ সঙ্গে যোগ দিত।
তিনি আরও বলেন, আমেরিকা গত কয়েক মাসে সিরিয়ায় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যা করতে পারে নি রাশিয়া চার দিনের অভিযানে তা করে দেখিয়েছে। ওই বিশেষজ্ঞের মতে, সিরিয়ায় কোনো সমাধান চায় না আমেরিকা বরং সন্ত্রাস ও সংঘাত জিইয়ে রাখাই দেশটির মূল উদ্দেশ্য।
যৌথ বাহিনী গড়বে রাশিয়া:
এদিকে রাশিয়া এবং সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত কয়েকটি দেশ যৌথবাহিনী গড়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। সংকটকালে নিজ নিজ সীমান্ত প্রতিরক্ষায় এ বাহিনী তৎপর থাকবে।
আজ (শুক্রবার) কাজাখিস্তানে কমনওয়েলথ অব ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্টেটস বা সিআইএস’র বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বৈঠকে দেয়া ভাষণে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আফগানিস্তান থেকে সম্ভাব্য সন্ত্রাসীদের ঢোকার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। এ জাতীয় হামলা ঠেকানোর জন্য সিআইএস দেশগুলোকে একযোগে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি। পুতিন বলেনে, আফগানিস্তানের পরিস্থিতি শোচনীয় হতে চলেছে। সব সন্ত্রাসীই সেখানে ক্রমেই প্রভাব বিস্তার করছে এবং তাদের নিজস্ব মতবাদ বিস্তারের অভিলাষ আর গোপন রাখছে না।
মধ্য এশিয়ায় ঢোকা তাদের অন্যতম লক্ষ্য উল্লেখ করে রুশ প্রেসিডেন্ট আরা বলেন, এ পরিস্থিতিতে সমন্বিত জবাব দেয়ার জন্য সিআইএস দেশগুলোকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
আফগানিস্তানে মোতায়েন মার্কিন প্রায় ৯৮০০ সেনা আগামী বছরেও সেখানে থাকবে বলে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ঘোষণার মাত্র একদিন পরই এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করলেন পুতিন।