মানব সৃষ্ট দুর্যোগে মৃত্যূ আমরা দেখতে চাই না-পরিকল্পনা মন্ত্রী

81

যুগবার্তা ডেস্কঃ পরিকল্পনা মন্ত্রী জনাব আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন , মানব সৃষ্ট দুর্যোগে মৃত্যূ আমরা দেখতে চাই না । বিশ্বের সকল মানুষের মতো আমি মানুষের স্বাভাবিক মৃত্য প্রত্যাশা করি । ঢাকা শহরসহ দেশের কোন এলাকায় কি ধরনের ভবন হবে সে বিষয়ে সকল অঞ্চল ম্যাপিং করে যথাযথ পরীক্ষা-নীরীক্ষা মাধ্যমে চিহ্নিত করতে হবে । গ্রামে গঞ্জেও ভবন নির্মান যথাযথভাবে হচ্ছে কিনা তা দেখতে হবে – ভবন নির্মানের সরকার প্রণীত নীতমালা মেনে সকলকে ভবন নির্মান করতে হবে। আমরা আর কোন রানা প্লাজা দেখতে চাই না । বর্তমান সরকার এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিয়েছে । তিনি এ ব্যাপারে জনসচেতনতা সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন ।

মন্ত্রী আজ ঢাকায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্বব্যাংক ও জাইকা‘র অর্থায়নে বাংলাদেশে ‘আরবান রিসাইলেন্স শীর্ষক আরবান বিল্ডিং সেফটি প্রজেক্ট ও আরবান রিসাইলেন্স প্রজেক্টের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন ।

পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন , মানবসৃষ্ট অনাচারে পৃথিবী আজ কঠিন বিপর্যয়ের মুখোমুখী । জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে আজ এক ডিগ্রী সেলসিয়াস বেশী । এরই প্রভাবে পৃথিবীর অনেক অঞ্চর পানির নীচে তলিয়ে যাচ্ছে । বাংলাদেশের সিডর আক্রান্ত এলাকা আজও স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসেনি । বলা হচ্ছে ইতালির একটি শহর পানির ওপর ভাসমান । ২০৩০ সালের মধ্যে ত্রিশ ইঞ্চি পরিমান পানির ্ উচ্চতা বেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা । জলবায়ুর বিরুপ প্রভাবে হিটওয়েভে মারা যাচ্ছে অগণিত মানুষ । তিনি বলেন গত একশত বছর আগেও তা পরিলক্ষিত হয়নি । গত ছয়মাসে ভারত ও পাকিস্তানে কয়েক হাজার মানুষ হিট ওয়েভে প্রাণ হারিয়েছেন । আমেরিকায় ১৯৮০সালে ১০হাজার ৮৮সালে ১৭হাজার ,ইংল্যান্ডে ১৯৮০ থেকে ১৯৯০সাল এ দশ বছরে ৪০হাজার ,২০১০সালে রাশিয়ায় পাঁচ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে । মন্ত্রী বলেন , অতিসম্প্রতি পৃথিবীর ছয়শত ষোলটি শহরের ওপর একটি জরীপ চালানো হয় যেখান থেকে উঠে আসে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ভয়াবহ বন্যার চিত্র।১৯৯৮সালে ফ্রান্সের নিমস শহর ,২০০৫সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউওরিয়ান্স.২০১০সালে অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেন এবং দুপ্তাহ আগে ভারতের চেন্নাই শহর ভয়াবহ বন্যায় তছনছ হয়ে যায় ।কেবল ঢাকা শহর দুর্যোগের জন্য অত্যন্ত ঝুকিপ্রবন নয় । অপরিকল্পিত বিশেষ করে সঠিক মাটি পরীক্ষাসহ যথাযথ বিল্ডিং কোড না মেনে ভবন নির্মান করায় গোটা দেশের অপরিকল্পিত ভবনগুলো ঝুকিপ্রবণ । তিনি বলেন জলবায়ুর পরিবর্তন জনিত দুর্যোগসহ বেশকিছু দুর্যোগ মোকাবেলা করা কঠিন নয় । তবে এব্যাপারে জনসচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি বিল্ডিং নির্মানে সকলকে আরও সতর্ক থাকতে হবে ।ভবন নির্মান সংক্রান্ত সকল শর্ত প্রতিপালন করে ভবন নির্মানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জোরালো ভুমিকা গ্রহন করছে ।মন্ত্রী বলেন বর্তমান বিশ্বে বেশীরভাগ মানুষ শহরাঞ্চলে বসবাস করায় শহরাঞ্চলের ক্ষতি প্রতিটি দেশের জন্য ব্যাপক ক্ষতির কারণ হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে । তিনি বলেন ১৯৫০সালেও শহরে বসবাস করতো শতকরা ৩৩ভাগ মানুষ । আজ সেটা শতকরা ৫০ভাগে দাঁড়িয়েছে এবং ২০৫০ সালে এ সংখ্যা শতকরা ৮০ভাগে দাঁড়াবে। তিনি বলেন মানব সভ্যতার বিপর্যয় মোকাবেলায় সকলকে কাজ করতে হবে ,শিক্ষিত জনগোষ্ঠী সৃষ্টির পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রশিক্ষিত জনগোষ্ঠী সৃষ্টি করতে হবে , মানবসৃষ্ট দুর্যোগের কারন জানতে হবে এবং প্রতিকারে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে । তিনি এ ব্যাপারে বর্তমান সরকারের গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচি তুলে ধরে বলেন , মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশ দুর্যোগ মোকাবেলার সক্ষমতায় বাংলাদেশের অর্জন প্রশংসিত হয়েছে ।তিনি বলেন দুর্যোগ মোকাবেলায় বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কর্মসুচি গ্রহনের ফলে দেশে দুর্যোগ মোকাবেলার সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে । তিনি বলেন , সচেতনতার মাধ্যমে ভুমিকম্পের মতো অনেক অপ্রতিরোধ্য দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস করা সম্ভব । গ্রামে গঞ্জে গিয়ে দেখতে হবে কিভাবে ভবন তৈরী করা হচ্ছে । এ বিষয়ে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে ।
অনুষ্ঠানে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক এর ভিসি প্রফেসর ড.জামিলুর রেজা মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ।
অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন ,গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দিন আব্দুল্লাহ ,দুর্যোগ ব্যবস্থাপণা ও ত্রান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: শাহ কামাল ,জাইকা‘র সিনিয়র প্রতিনিধি হিরুউকি তমিতা (ঐওজঙণটকও ঞঙগওঞঅ), বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপণা বিষয়ক বিশেজ্ঞ মারু এস ফর্ণি(গঅজঙ ঝ. ঋঙজঘও )এবং জাইকার চীপ রিপ্রেসেনটেটিভ মিকিও হাতাইডা (গওকওঙ ঐঅঞঅঊউঅ)।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন , বাংলাদেশের অধিকাংশ নগর অবকাঠামো ও ভবন তৈরীতে বিল্ডিং কোড মানা হয়নি । তারা বলেন তৈরী পোশাক খাত ৪০লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি জিডিপি‘র শতকরা ১৫ভাগ অবদান রাখছে । কিন্তু এ খাতটির টেকসই সম্প্রসারণ অব্যহত রাখতে ‘সেফটি স্ট্যান্ডার্ড’ একটি বড় চ্যালেঞ্জ ।