মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি

প্রিয় প্রধানমন্ত্রী,
সালাম ও বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা, আমি এই রাষ্ট্রের একজন জন্মগত নাগরিক, একটি বিষয় আমাকে প্রায়ই ভাবাই যা আপনার নিকট পেশ করলাম।
মাননীয়, আপনি জানেন যে, বাংলাদেশের ভাষা-আন্দোলন স্মরণে সৃষ্ট স্মৃতি স্তম্ভ। যে কোনো মহৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে গিয়ে প্রতিপক্ষের আক্রমণে নিহত হলে, নিহত ব্যক্তি শহিদ নামে অভিহিত হয়ে থাকেন।
এই অর্থে যে কোনো শহিদের উদ্দেশ্যে
নির্মিত স্মৃতি স্তম্ভই শহিদ-মিনার নামে
অভিহিত হতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশে
শহিদ মিনার বলতেই ভাষা-শহিদদের
উদ্দেশ্যে নির্মিত স্মৃতি স্তম্ভকেই বুঝায়। যদি তাই বোঝায় তবে স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের শ্রদ্ধাঞ্জলীর ফুল কেন আমরা শহীদ মিনারে স্থানীয় ভাবে অর্পন করি যা কিনা শুধু মাত্র ভাষা শহীদদের জন্যই নির্মিত হয়েছে?
অপরদিকে আপনি এটিও জানেন যে, জাতীয় স্মৃতি সৌধ বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের
সাতটি ধারাবাহিক পর্যায়কে নির্দেশ
করে যা ৫২-র ভাষা আন্দোলন , ৫৪ যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন , ৫৬ শাসনতন্ত্র
আন্দোলন , ৬২ শিক্ষা আন্দোলন , ৬৬ ছয় দফা আন্দোলন , ৬৯ এর গণ-অভ্যূত্থান ও ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ – এই সাতটি ঘটনাকে স্বাধীনতা আন্দোলনের পরিক্রমা হিসাবে বিবেচনা করেই সৌধটি নির্মিত হয়েছে। যেখানে আমরা জাতীয় ভাবে বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবসে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা নিবেদন করে থাকি। এদেশের একজন নাগরিক হিসেবে জানা প্রয়োজন যে জাতীয় ভাবে স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের জন্য শ্রদ্ধাঞ্জলীর ফুল যদি জাতীয় স্মৃতি সৌধে অর্পন করা হয়ে থাকে তবে স্থানীয় ভাবে অর্থাৎ কেন থানা, জেলা, মহানগর গুলোতে শুধু মাত্র ভাষা শহীদদের জন্যই নির্মিত শহীদ মিনারে স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের জন্য শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়? জাতীয় স্মৃতি সৌধের নকশা অনুযায়ী থানা, জেলা, মহানগর গুলোতে স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের উদ্দেশ্যে স্মৃতি সৌধ নির্মান কি খুব ব্যয় বহুল? নাকি এই দীর্ঘ ৪৫ বছর আমাদের উদাসীনতা? আপনি এমন একজন মানুষের কন্যা যিনি কিনা এদেশের স্বাধীনতার স্থপতি! জাতির পিতার কন্যা হিসেবে আপনি কি পারেন না প্রতিটি ইউনিয়ন না হোক শুধু মাত্র প্রতিটি থানা, জেলায় জাতীয় স্মৃতি সৌধের আদলে স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের উদ্দেশ্যে স্মৃতি সৌধ নির্মান? নতুন প্রজন্মের এ বিষয়ে বিভ্রান্তি হচ্ছে। অপরাধ ক্ষমা করবেন মাননীয়, এই বিভ্রান্ত বিষয়ে আপনার সদয় সুদৃষ্টি কামনা করছি।

ইতি
সরকার পল্লব
১৬ ডিসেম্বর, ২০১৬
ঢাকা।