মহাজোট-জোটের বাইরে বাম-গণতান্ত্রিক বিকল্প গড়ার ঘোষণা

234

যুগবার্তা ডেস্কঃ মহাজোট-জোট-এর বাইরে বাম-গণতান্ত্রিক বিকল্প গড়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা।
মঙ্গলবার ঢাকার কমরেড মণি সিংহ সড়কস্থ মৈত্রী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে বামপন্থীদের আশু দাবিসমূহ ঘোষণা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য রাখেন বাসদ-এর সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান। প্রস্তাব ও আশু দাবি উত্থাপন করেন গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সিপিবি’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাসদ (মার্কসবাদী)-এর কেন্দ্রীয় নেতা শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, গণসংহতি আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক, সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম, বাসদ-এর কেন্দ্রীয় নেতা বজলুর রশিদ ফিরোজ, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুস সাত্তার, বাসদ (মার্কসবাদী)-এর কেন্দ্রীয় নেতা মানস নন্দী, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা বহ্নিশিখা জামালী, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা শহীদুল ইসলাম সবুজ, গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা জুলহাসনাইন বাবু প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, স্বাধীনতা উত্তর শাসক-শোষকশ্রেণি ও তাদের দলসমূহের প্রতারণা, নির্মম শোষণ, লুণ্ঠন, দমন-পীড়ন আর হত্যা-খুনের রাজনীতির কারণে জনগণের মুক্তির স্বপ্ন-আকাক্ষা তারা বিপর্যস্ত করেছে। আওয়ামী লীগ-বিএনপি’র মতো দলগুলোর দুঃশাসন আর বিভিন্ন সময়ে সামরিক শাসনের যাতাকলে অপার সম্ভাবনার বাংলাদেশ আজ দেশি-বিদেশি লুটেরা, সন্ত্রাসী, দাগি অপরাধী ও মাফিয়াদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে; মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে ’৭১ এর গণহত্যাকারী ঘাতক শক্তিসহ নানা সাম্প্রদায়িক জঙ্গিবাদী অপশক্তি।
আরও বলা হয়, মহাজোট সরকারের দুর্নীতি আর দুঃশাসনে মানুষ আজ দিশেহারা। সংবিধান স্বীকৃত গণতান্ত্রিক অধিকারসমূহ এখনও রুদ্ধ, ভোটাধিকারও কেড়ে নেয়া হয়েছে। নিপীড়ন, হয়রানিমূলক মামলা, অপহরণ, গুম-খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের মাধ্যমে আইনের শাসনের ছিটেফোটাও রাখা হচ্ছে না। বিরোধী দল ও মতকে দমন করা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার তকমা আর উন্নয়নের কথা বলে বস্তুত সরকার তাদের যাবতীয় অপকর্মকে জায়েজ করার চেষ্টা করছে। বাতিল করার সমস্ত সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সরকার সংবিধানের ২য়, ৮ম সংশোধনী, প্রধানমন্ত্রীকেন্দ্রীক অগণতান্ত্রিক ক্ষমতা কাঠামোর ভিত্তি সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদসহ সকল অগণতান্ত্রিক, সাম্প্রদায়িক ও ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বাবিরোধী ধারা ও সংশোধনীসমূহ বহাল রেখেছে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে অকার্যকর করে রাখা হয়েছে। এসবের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের ফ্যাসিবাদী প্রবণতা ও চরিত্র বিপজ্জনকভাবে প্রসারিত করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে ঘুষ-দুর্নীতি-লুটপাট-দখলদারিত্ব-অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে আগামী ৯ আগস্ট সিপিবি-বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার ডাকে দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।