মহাকালের অমোঘ নিয়মে অকালে প্রয়াণ : বাউফলের মেধাবী সন্তান সাহিদুজ্জামান সুমনের কর্ম চিরঞ্জীব

24

আহমেদ জালাল : নক্ষত্র কিন্তু হারিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আঁধারে নিমজ্জিত হয়ে যায়! অথচ চেতনার আকাশের যে নক্ষত্রটি মহাকালের গর্ভে বিলীন হলো সেটি আঁধারে আবৃত না হয়ে, বরং আলো ছড়িয়ে,চিরকালের আলোর মশাল প্রজ্জলিত করে হারিয়ে গেলো! বলছিলাম-বাউফলের নওমালার মেধাবী সন্তান সকলের প্রিয় সাহিদুজ্জামান সুমনের কথা। তিনি গেছেন না ফেরার দেশে। প্রকৃতির অমোঘ নিয়মেই চিরপ্রস্থান হয়েছে তাঁর। তবুও তাঁর অকাল মৃত্যু যেনো শুধুই বিষাধ। মহাকালের অমোঘ নিয়মে সাহিদুজ্জামান সুমনের এই অপ্রত্যাশিত অকালে চলে যাওয়া সমাজের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। প্রিয়জনদের কাঁদিয়ে চলে গেছেন তিনি, তবে রেখে গেছেন তাঁর অমর কৃতিত্বের নানা উজ্জল দৃষ্টান্ত। যা স্মরনীয় ও বরনীয়। ‘বৈচিত্রের মধ্যে সৌন্দর্য্য’ এটাই ছিল তাঁর সাংস্কৃতিক মানস। তাঁর অকালমৃত্যু শোকস্তব্ধ করুক, দূর্বল যেন না করে।
অসাম্প্রদায়িক চিন্তা-চেতনা ধারণ করে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের প্রতি অবিচল আস্থা ছিল তাঁর আমৃত্যু। এই অগ্রসর মানুষের বিদায়ে সমাজ-সংসারে শূন্যতা সৃষ্টি করলে তা পূরণ হওয়ার নয়। সকলের অকৃত্রিম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে বিদায় নিলেন মেধাবী সাহেদুজ্জামান সুমন। তিনি চলে গেলেন কিন্তু রেখে গেছেন কর্মময় এক বর্ণাঢ্য জীবনপঞ্জি। যা আগামী প্রজন্মের পাথেয় হিসেবে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
বাউফলের মেধাবী সন্তান সাহিদুজ্জামান সুমনের অকালে প্রয়াণ হলেও তাঁর কর্মই চিরঞ্জীব। মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া নিয়তির এক অমোঘ নিয়ম। মৃত্যুজনিত শূন্যতা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। তবুও চিরাচরিত নিয়ম। নওমালার মেধাবী সন্তানকে অকালে হারানোর বেদনা সর্বত্র তাড়া করে ফিরছে। আদর্শবান মানুষ সাহিদুজ্জামান সুমনের জ্যোতিময় মনন-প্রজ্ঞা, সৃষ্টি-সোচ্চারে এ যেনো আলোকবর্তিকার দিশা। তাঁর আদর্শ চিরঞ্জীব। প্রখর ও প্রজ্ঞাবান এ মেধাবীর প্রয়াণ হলেও তাঁর কর্মই উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। যা নওমালার মেধার বিকাশে অগ্রযাত্রার সারথি হয়ে থাকবে। তিনি আজ এই জগৎসংসারে না থাকলেও কিন্তু তাঁর কর্ম নওমালায় আলোর দিশোরী হয়ে থাকবে যুগযুগান্তর। কিছু মানুষ সূর্যের মতো উদিত হয়, মেধা, মনন আর সৃষ্টির কল্যাণে আলোকিত হয়ে ওঠে। পৃথিবী থেকে চলে গেলেও তাদের কর্মে স্মরণীয় হয়ে থাকেন/থাকবেন যুগ যুগ ধরে। তেমনি আলোকিত মানুষদের প্রতিনিয়তই হারিয়ে যাচ্ছে সময়ের পরিক্রমায়। মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া নিয়তির এক অমোঘ নিয়ম। মৃত্যুজনিত শূন্যতা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। তবুও চিরাচরিত নিয়ম! এক আদিম রহস্যের নাম মৃত্যু। অমোঘ, অজেয়, অনিবার্য। মানুষের দৈহিক মৃত্যু হলেও কিন্তু তাঁর জীবনের কর্মই তাকে পৃথিবীতে অমরত্ব দান করে।
১৭ জুলাই শনিবার রাতে বেপরোয়া ট্রাকে বাউফলের মেধাবী সন্তান সাহিদুজ্জামান সুমনের (৩৮) প্রাণ কেড়ে নিল। নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বড়াইগ্রামের বনপাড়া বাইপাস মোড়ের তুহিন কাউন্টারের সামনে ট্রাকের চাপায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনি। উপজেলার নওমালা ইউনিয়নের মেধাবী সন্তান সুমন মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষকতা করতেন। কাদিরাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুলে শিক্ষক ছিলেন তিনি। আর নিজ জন্মভূমি নওমালা ইউনিয়নে মেধাবী,শান্ত-শিষ্ঠ,ভদ্র,অমায়িক হিসেবে তাঁর পরিচিতি। গৌরবোজ্জ্বল নওমালা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কৃতি ছাত্র ছিলেন সাহিদুজ্জামান সুমন। নিজ এলাকায় সকল শ্রেনী পেশার মানুষের কাছে সবার প্রিয় সাহিদুজ্জামান সুমনের এই অন্তিমযাত্রা মেনে নিতে পারছেনা পরিবার,স্বজন,বন্ধু-বান্ধব,শুভাকাঙ্খী ও শ্রদ্ধাভাজনরা। শোকের আবহ বিরাজমান পুরো এলাকায়। মূলত : বিয়ের একদিন পর শ্বশুর ও শ্বাশুড়িকে বাসে তুলে দিয়ে ফেরার পথে লাশ হন সাহিদুজ্জামান সুমন। শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বড়াইগ্রামের বনপাড়া বাইপাস মোড়ের তুহিন কাউন্টারের সামনে অজ্ঞাত ট্রাকের চাপায় ঘটনাস্থলেই শিক্ষক সুমন নিহত হন। তৎসময়ে আহত হন শিক্ষক সুমনের মামা শ্বশুর জাকির হোসেন (৪২)। তাকে স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। সুমনের মামা শ্বশুর জাকির হোসেন এর ভাষ্য, ১৬ জুলাই শুক্রবার রাতে কাদিরাবাদ ক্যান্টনমেন্ট লাগোয়া নিজ বাসায় বিয়ে কার্য সম্পাদন করে সুমন। তাঁর স্ত্রীর নাম লামিয়া জেবিন। বাড়ি দশমিনা এলাকায়। ১৭ জুলাই শনিবার রাতে শ্বশুর-শাশুড়িকে বরিশালগামী তুহিন পরিবহনে তুলে দিয়ে বাসার দিকে ফিরছিলেন। কাউন্টার থেকে সড়কের পাশ দিয়ে হাঁটার সময় তিনি স্ত্রীর সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলছিলো। হঠাৎ পেছন দিক থেকে কুষ্টিয়াগামী অজ্ঞাত ট্রাক তাদের দু’জনকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই সুমনের মৃত্যু হয়। এবং আহত হন মামা শ্বশুর জাকির হোসেন। বনপাড়া হাইওয়ে থানার ওসি খন্দকার শফিকুল ইসলাম জানান, ট্রাকটি চিহ্নিত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
বলাবাহুল্য : নওমালার বটকাজল গ্রামের বাসিন্দা অহিদুজ্জামান মামুন আর সাহিদুজ্জামান সুমন এই দুই ভাই নওমালা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে তৎকালীন সময়ে পড়ালেখার গুরুত্বে অনেকটা শৃঙ্খলা নিয়ে আসছিল। তাদের বোন লিজাও ব্যাপক পড়াশুনা করতো। অহিদ-সুমন-লিজার পিতা প্রয়াত আব্দুর ছাত্তার মিয়া জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে দক্ষতার সঙ্গে শিক্ষকতা পেশায় নিযুক্ত ছিলেন। আদর্শবান মানুষ সকলের আপনজন সুমনের অকাল মৃত্যুতে শোকে কাতর সব শ্রেনীর মানুষ। যদিও মৃত্যু অবধারিত এবং স্বাভাবিক। এটাই বাস্তবতা। যদিও কোন কোন মৃত্যু মানুষকে কাদাঁয়,ভাবায় অনন্তকাল। তবে মৃত্যু নিয়ে কোন ব্যক্তি বিশেষের প্রাধাণ্য থাকে না। আবার এটাও সত্য কোন কোন মৃত্যু মেনে নেয়া যায় না!! পরিশেষে-এটা দুর্ঘটনা নাকি স্রেফ হত্যাকাণ্ড এহেন বর্বরতার বিষয়টি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাসহ দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিবর্গ কর্তৃক গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখে জড়িত দোষীদের চিহৃিত বরে আইনের আওতায় আনাটা বাঞ্চনীয়। এবং ট্রাকের মাধ্যমে প্রাণ কেড়ে নেওয়ার চরম ঘৃর্নিত অপরাধের শাস্তি নিশ্চিত হোক এরকমই প্রত্যাশায়…। আর যেনো কারো প্রাণ কেড়ে নেওয়া না হয়, এজন্য সর্বস্তরে ঘুনে ধরা সমাজ পরিবর্তনের কাঠামো ব্যবস্থার সকল অসঙ্গতি, অযৌক্তিতা দূর করে কল্যানকর ব্যবস্থায় দিকে অগ্রসর হোক।

-লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক বিপ্লবী বাংলাদেশ।
Mail : Ahmedjalalbsl@gmail.com