মসুলে ৮’শ বছরের প্রাচীন মসজিদ উড়িয়ে দিল আইএস জঙ্গিরা

24

যুগবার্তা ডেস্কঃ ইরাকের মসুলে ঐতিহাসিক আন-নুরি মসজিদ ধ্বংস করে দিয়েছে আইএস জঙ্গিরা। এই মসজিদ থেকেই আইএস জঙ্গিরা ২০১৪ সালে ইসলামি খেলাফত প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাস শুরু করে। ইরাকে যৌথ বাহিনী আইএস সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে আসছে তারই ধারাবাহিকতায় তারা কোনঠাসা হয়ে পড়ে। তারা মসুলের ১ লাখ মানুষকে মানব ঢাল ব্যবহার করেই শেষ রক্ষা করতে পারেনি। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অগ্রাভিযানের মুখে আরেকটি ভয়াবহ অপরাধ করল জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস। তারা নগরীর ৮’শ বছরের পুরনো মসজিদ ধ্বংস করে দিয়েছে। এ মসজিদের মিনারটি ইরাকের মসুল শহরের এক ঐতিহ্যবাহী প্রতীক ছিল। বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে লাখ লাখ দর্শণার্থী এ মসজিদটি দেখতে আসতেন।তবে আইএস তাদের অনলাইন আমাক’এ দাবি করেছে বিমান হামলায় আন-নুরি মসজিদটি ধ্বংস হয়েছে।
আরবি নিউজ চ্যানেল আল-আলম জানিয়েছে, ইরাকের সেনাবাহিনী যখন এই ঐতিহাসিক মসজিদটি থেকে মাত্র ৫০ মিটার দূরে ছিল তখন ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এটি ধ্বংস করে দেয় আইএস জঙ্গিরা। মসুল শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন ছিল আন-নুরি মসজিদ ও এটির ‘আল-হাদবা’ মিনারটি।
মসুল থেকে নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে আল-আলম জানিয়েছে, মসজিদটি ধ্বংস করার আগে আইএস জঙ্গিরা শহর থেকে পলায়নরত ৬০টি পরিবারের সব সদস্যকে ধরে এনে মসজিদের মধ্যে আটকে রাখে। বিস্ফোরণে হতভাগ্য এসব মানুষের সবাই নিহত হয়েছে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল-এবাদি আইএস জঙ্গিদের এধরনের ঘৃণ্য অপরাধযজ্ঞের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, খেলাফতের প্রতীক আন-নুরি মসজিদ ধ্বংস করে আইএস জঙ্গিরা আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের পরাজয় ঘোষণা করেছে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার সালিম আল-জাবুরি বলেছেন, আইএস জঙ্গিদের উগ্র মতবাদ যে মারাত্মক ব্যাধিতে আক্রান্ত তা মসজিদ ধ্বংসের মধ্যে দিয়ে প্রমাণিত হলো। উগ্র এই জঙ্গি গোষ্ঠীর অপরাধযজ্ঞ সব কিছুর সীমা অতিক্রম করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ভূ-উপগ্রহ থেকে তোলা ছবিতে দেখা যাচ্ছে মসজিদটি কংক্রিটের ভগ্নস্তুপে পরিণত হয়েছে। ইরাকে যৌথ অভিযানে অংশ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের একজন সিনিয়র কমান্ডার মেজর জেনারেল জোশেফ মার্টিন বলেন, মসুল ও ইরানের এক বড় ধনসম্পদ হিসেবে বিবেচিত মসজিদটি আইএস জঙ্গিরা ধ্বংস করেছে। এটা মসুলের মানুষের বিরুদ্ধে এমনকি ইরাকের সকল মানুষের বিরুদ্ধে কৃত বড় ধরনের অপরাধ। এবং এটি একটি কারণ কেন আইএস জঙ্গিদের মত সন্ত্রাসীদের খতম করা প্রয়োজন। এই সন্ত্রাসীরা ইরাক ও সিরিয়ায় অনেক প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ধ্বংস করেছে।
ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনীগুলো ছাড়াও কুর্দির পেশমার্গ যোদ্ধা, সুন্নি আরব উপজাতি ও শিয়া মুসলিমরা যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে দেশটিতে আইএস সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ১৭ অক্টোবর থেকে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। ইরাক সরকার গত জানুয়ারি মাসে পূর্ব মসুল আইএস জঙ্গিমুক্ত এলাকা ঘোষণা করলেও শহরটির পশ্চিমাঞ্চলে যৌথ অভিযান অব্যাহত ছিল।
ইরাকে আইএস জঙ্গি তৎপরতা শুরু হওয়ার এক মাসের মাথায় ২০১৪ সালের এক জুম্মার খুৎবায় আইএস জঙ্গি নেতা বাগদাদি মসজিদটির মিম্বরে দাঁড়িয়ে খেলাফত ঘোষণা করে। একই সঙ্গে ইসলামি আইন চালুর কথাও জানায়। মসুল শহরটিই আইএস জঙ্গিদের সর্বশেষ দখলে ছিল। গত রোববার যৌথ অভিযানের কমান্ডাররা চূড়ান্ত আক্রমণের ঘোষণা দেন। এ অভিযানে মসুলের আইএস জঙ্গিদের লক্ষ্য করে চারদিক থেকে আক্রমণ পরিচালনা করা হয়। যৌথ বাহিনীর ধারণ মসুলে এখনো শ’তিনেক আইএস জঙ্গি আছে। গত অক্টোবরে এ সংখ্যা ছিল ৬ হাজার। এ সপ্তাহের শুরুতে বিমান থেকে প্রচারপত্র ফেলে স্থানীয় বাসিন্দাদের খোলা জায়গা এড়িয়ে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়। রেডক্রসের আন্তর্জাতিক কমিটি বলছে, মসুলের পশ্চিমাঞ্চলে আহত মানুষদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাদের অধিকাংশই গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন।-আমাদের সময়.কম