মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী*৫৭ ধারা সাংবাদিক হয়রানির জন্য নয়

32

যুগবার্তা ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কোনো সাংবাদিক বা গণমাধ্যমকর্মীকে হয়রানি বা নির্যাতনের উদ্দেশ্যে তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার প্রবর্তন করা হয়নি। গণমাধ্যমকর্মীরা সঠিক নিয়ম-কানুনের মধ্যে থেকে যেন তাঁদের কাজ করতে পারেন সে জন্যই এ ধারা।

গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক মন্ত্রী কালের কণ্ঠকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত এ বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা ছাড়াও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক সূত্র জানায়, মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ৫৭ ধারার বিরুদ্ধে সাংবাদিকরা আন্দোলন করছেন। তাঁরা এই ধারা বাতিল চান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তথ্যমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, ৫৭ ধারায় কতজন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে? এ পর্যন্ত কত মামলা হয়েছে? মামলাগুলো করেছেন কারা?

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ যদি দেশের সুনাম ক্ষুণ্ন করার জন্য রাষ্ট্রবিরোধী কোনো লেখা লেখে অথবা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে যৌক্তিক প্রমাণ ছাড়াই কোনো নিউজ লেখে, তাহলে কী হবে, তার বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না?’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ব্যক্তি যদি ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে যায়, তাহলে এখানে সরকার কী করতে পারে? সবারই আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার আছে। ’

সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হার বেড়েছে : এদিকে চলতি বছর দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে (এপ্রিল থেকে জুন) মন্ত্রিসভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৭১.৬২ শতাংশ। মন্ত্রিসভার বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়ে ২০১৭ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

সচিবালয়ে গতকাল মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদসচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, গত বছর একই সময়ে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ছিল ৭০.৬৫ শতাংশ।

মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, ‘গত এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ৯টি মন্ত্রিসভা বৈঠক হয়। এতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ৭৪টি। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে ৫৩টি। ২১টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। বাস্তবায়নের হার ৭১.৬২ শতাংশ। ’

গত বছরের একই সময়ে ১১টি মন্ত্রিসভা বৈঠক হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, ‘ওই সময় সিদ্ধান্ত হয় ৯২টি। এর মধ্যে ৬৫টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়। সিদ্ধাস্ত বাস্তবায়নাধীন ছিল ২৭টি। বাস্তবায়নের হার ছিল ৭০.৬৫ শতাংশ। ’

শফিউল আলম জানান, গত তিন মাসে (এপ্রিল থেকে জুন) মন্ত্রিসভা বৈঠকে নীতি বা কর্মকৌশল দুটি, ১১টি চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুমোদিত হয়েছে। এ সময় সংসদে আইন পাস হয়েছে পাঁচটি। ২০১৬ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত মন্ত্রিসভা বৈঠকে নীতি বা কর্মকৌশল অনুমোদিত হয় দুটি। চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুমোদিত হয় ৯টি। এ সময়ে সংসদে ২০টি আইন পাস হয় বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদসচিব।

অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি অনুসমর্থনের প্রস্তাব অনুমোদন : ডি-৮ সদস্য দেশগুলোর অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি অনুসমর্থনের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, ২০০৬ সালে মন্ত্রিপর্যায়ের বৈঠকে আটটি মুসলিম দেশের ডি-৮ ফোরাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু এর অনুমোদন ঝুলে ছিল।

সচিব বলেন, মন্ত্রিসভা কিছু পর্যবেক্ষণসহ বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা আইন-২০১৭-এর খসড়া ফেরত পাঠিয়েছে। এটি প্রয়োজনীয় সংশোধনীসহ পুনরায় মন্ত্রিসভায় পেশ করতে তথ্য মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে।-কালেরকন্ঠ