মধ্যরাতে ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে তুমুল বৃষ্টি: বজ্রপাতে মৃত ৬, ক্ষয়ক্ষতি

109

শুক্রবার প্রথম প্রহরে হঠাৎ শুরু হওয়া ঝড়ো হাওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত বজ্রপাতে সারাদেশে ৬ জনের মৃত্যুর খবর শুক্রবার সকাল পর্যন্ত পাওয়া গেছে।
ঘড়ির কাটায় তখন বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) দিবাগত রাত ১টা। নগরীতে শুরু হলো দমকা হাওয়া। সেই হাওয়া আবার হিমশীতল। এরপর রাত দেড়টায় শুরু হলো মুষলধারে বৃষ্টি। এ সময় দুই-একটি পরিবহন ছাড়া রাজপথে মানুষ খোঁজে পাওয়া গেলো না।
এদিকে রিদপুরে বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নগরকান্দা উপজেলার চরযশোরদী এলাকায় বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) সন্ধ্যায় বজ্রপাতে মারা যান শ্যামল কুমার মন্ডল (৪০) নামে এক কাঠমিস্ত্রি। কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে বাড়ির অদূরে বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়।
একই সময় বজ্রপাতে ফরিদপুর সদর উপজেলার কৃষ্ণনগর এলাকায় হাসান মোল্যা (১৬) নামের এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়। সন্ধ্যার দিকে বাড়ির পাশের মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে মারা যায় সে।
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাখরনগর এলাকায় বজ্রপাতে হাসু ভূঁইয়া নিউ এইচ.বি.সি ব্রিকস্ ফিল্ডে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় গুরুতর আহত হয়েছেন আরো ছয়জন। বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) বিকেলে ঝড়ো বৃষ্টির মধ্যে এ বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। নিহত শ্রমিকরা হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার মজলেছপুর গ্রামের বাছির মিয়ার ছেলে আল আমিন (৩০) ও একই এলাকার দিলু মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ আলী (২৯)।
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের কামলা গ্রামে বজ্রপাতে দুই দিনমজুরের মৃত্যু হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন আরও একজন। বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন-রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের ছোট কুমারখালী গ্রামের কালিপদ মজুমদার (৫০) ও গড়ঘাটা গ্রামের আব্দুল আজিজ ফরাজীর ছেলে রফিকুল ইসলাম (২৫)।
শুক্রবার প্রথম প্রহরে শুরু হওয়া দমকা হাওয়া ও বৃষ্টির পাশাপাশি বিদ্যুৎ চমকানোর উৎপাত। এতে যে কারোর আঁতকে উঠা অস্বাভাবিক কিছু নয়। রাস্তার পাশে ছিন্নমূল (সুবিধা বঞ্চিত) মানুষদের জবুথবু হয়ে থাকতে দেখা গেলো। বজ্রপাত, দমকা হাওয়া ও বৃষ্টিপাতে নগরীরে পরিবহনগুলোকে ধীরগতিতে গন্তব্য পানে ছুটতে দেখা যায়। সড়কে কোথাও কোথাও পানি জমার দৃশ্যও চোখে পড়লো।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ হিমালয়ের পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গ ও নিকটবর্তী এলাকায় অবস্থান করছে। অপর একটি পূবালি লঘুচাপ পশ্চিমবঙ্গ ও এর আশপাশ এলাকা পযর্ন্ত বিস্তৃত। এ মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গপসাগরে অবস্থান করছে। যে কারণেই দমকা হাওয়া ও বৃষ্টিপাত।
ঢাকা ছাড়া রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে দমকা হওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
আগামী ২৪ ঘণ্টা সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। ঢাকায় বাতাসের গতি দক্ষিণ-পশ্চিম থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার হতে পারে। তবে অস্থায়ী দমকা হাওয়ার গতি ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার হওয়া সম্ভবনা রয়েছে।
ঢাকায় বৃষ্টিপাতের রেকর্ড করা হয়েছে ৯ মিলিমিটার। ঢাকা বিভাগের মধ্যে সব চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে ময়মনসিংহে ২২ মিলি মিটার। এর পরে ফরিদপুরে ৯ মিলিমিটার। ঢাকা বিভাগে কম বৃষ্টিপাত হয়েছে টাঙ্গাইলে মাত্র ২ মিলিমিটার এবং চট্টগ্রামের কুমিল্লায় ৩৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের রেকর্ড করা হয়েছে।
এছাড়া, সিলেটে ১৭, ঈশ্বরদী ৩৬, সৈয়দপুরে ১৩, পটুয়াখালীতে ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের রেকর্ড করা হয়েছে বলেও আবহাওয়া অধিদফতর জানায়।