মখা আলমগীরের ফারমার্স ব্যাংকে শত শত কোটি টাকার অনিয়ম

143

যুগবার্তা ডেস্কঃ যাত্রা শুরুর তিন বছর না যেতেই শত শত কোটি টাকা ঋণ বিতরণে অনিয়ম ধরা পড়ায় ফারমার্স ব্যাংককে কড়া নজরদারিতে এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ জন্য একজন পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর মালিকানাধীন ব্যাংকটিতে।

চারশ’ কোটি পরিশোধিত মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করা বেসরকারি এই ব্যাংকটিতে সমপরিমাণ অর্থের অনিয়ম ধরা পড়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রবিধি ও নীতি বিভাগ বেসরকারি ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ও কোম্পানি সচিবকে চিঠি দিয়ে পর্যবেক্ষক নিয়োগের কথা জানায়।

ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মো. রাজী হাসান বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও ঋণ শৃঙ্খলায় কিছু অনিয়ম পাওয়া গেছে। তার পরিপ্রেক্ষিতে পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে।”

এই ব্যাংকটিতে পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পালন করবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক এ এন এম আবুল কাশেম।

এখন থেকে ফারমার্স ব্যাংকের প্রতিটি পর্ষদ বৈঠকের আগে সব ধরনের এজেন্ডা নথিসহ পাঠাতে হবে পর্যবেক্ষককে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভংকর সাহা এ বিষয়ে বলেন, একটা ব্যাংকের যখন অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা ও ঝুঁকি এবং ঋণ শৃঙ্খলা উন্নয়নের দরকার হয় তখন বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যবেক্ষক নিয়োগ করে।

এর আগে কয়েকটি ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

২০১৩ সালে জুন মাসে লাইসেন্স পাওয়া ফারমার্স ব্যাংক ৩৮টি শাখা নিয়ে কাজ চালাচ্ছে। তখন আরও আটটি ব্যাংক লাইসেন্স পায়, যা রাজনৈতিক বিবেচনায় দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

ফারমার্স ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মহীউদ্দীন আলমগীর। এর আগে তার স্ত্রী ছিলেন এই পদে।

ব্যাংকটির ২১ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদে ভাইস চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন মো. আতাহার উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে রয়েছেন চৌধুরী মোশতাক আহমেদ। অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে আছেন এ কে এম শামীম।

ব্যাংকটির পাঁচ সদস্যের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান হলেন মাহবুবুল হক চিশতী (বাবুল চিশতী), অডিট কমিটির চেয়ারম্যান হলেন চৌধুরী নাফেজ শরাফত।

ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, ফারমার্স ব্যাংকে ব্যাপক ঋণ অনিয়ম হয়েছে। নামে-বেনামে ঋণ দেওয়া হয়েছে। ব্যবস্থাপনায়ও সঙ্কট আছে।

পৌনে তিন বছরের কার্যক্রমেই ব্যাংকটিতে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার ঋণ অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই কর্মকর্তা জানান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ পরিদর্শন দল অনিয়মের জন্য ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যানকে দায়ী করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকটির আমানতের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৪৫৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। আর ঋণের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৪১৪ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ আমানতের প্রায় ৭০ শতাংশ ঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংকটি।

পুরো ব্যাংক খাতে যেখানে ঋণ প্রবৃদ্ধি ১৩ দশমিক ২২ শতাংশ, সেখানে ফারমার্স ব্যাংকের ঋণের প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১৬৫ শতাংশ।

সংশ্লিষ্ট তদন্ত দলের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ব্যাংকটির গুলশান, মতিঝিল ও শ্যামপুর শাখা কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই প্রধান কার্যালয়ে ঋণ আবেদন পাঠিয়েছে। অনুমোদনও হয়েছে ওইসব আবেদন। আবার ঋণ অনুমোদনের আগে গ্রাহককে দেওয়া হয়েছে সাময়িক অনুমোদনপত্র।”নিউজওয়ার্ল্ডবিডি.কম