মওলানা ভাসানী ছিলেন গণমানুষের মুক্তিদূত-মেনন

যুগবার্তা ডেস্কঃ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খানমেনন এমপি বলেছেন, মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী ছিলেন আফ্রো এশিয়া ল্যাটিন আমেরিকার গণমানুষের মুক্তিদূত। নিপীড়িত মানবাত্মার রোদন ধ্বনি তাঁকে ব্যথিত ও বিক্ষুদ্ধ করতো তাই ফ্যাসিস্ট-সাম্রাজ্যবাদীর রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে নির্ভীক চিত্তে উচ্চারণ করছিলেন ‘খামোশ’। পশ্চিম পাকিস্তানী শাসক ও শোষকচক্রের বৈষম্য, বঞ্চনা আর নির্যাতনের বিরুদ্ধে তিনি রুখে দাঁড়িয়ে তাদেরকে আসসালামুআলাইকুম জানিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির ধারক। জিয়াউর রহমানের সময় তৎকালীন বিমান বাহিনীর প্রধান তোয়াব খানকে দিয়ে সিরাতুন্নবী (স.) মাহফিল এর নামে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি সংগঠিত হবার পায়তারা করছিলো, অসুস্থ মওলানা হাসপাতাল থেকে জিয়াউর রহমানকে তার অশুভ খেলা বন্ধ করতে হুশিয়ারী উচ্চারণ করেছিলেন। মওলানার ঐ বিবৃতির ফলে সিরাতুন্নবী মাহফিলই বন্ধ হয়নি এর কিছুদিনের মধ্যেতোয়াব খানকেও বিদায় নিতে হয়েছিলো।

তিনি রোববার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে মওলানা ভাসানীর ৪০ তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে ভাষানী ফ্রন্ট আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, আজকে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক শক্তি আবারও মাথাছাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। নাসিরনগর আর গোবিন্দগঞ্জের হামলা একই সূত্রে গাথা। এদের উদ্দেশ্য বাংলাদেশকে একটি সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের প্রলেপ দিয়ে এর উন্নয়ন ও অগ্রগতি বিঘিœত করা। এর বিরুদ্ধে প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আর এখানেই ম্ওলানা ভাসানীর প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভূত।

তিনি মওলানা ভাসানীকে শুধু স্মরণ নয় তাঁকে অনুসরণ করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

ভাসানী ফ্রন্টের সভাপতি মমতাজ চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের (এমএল) সাধারণ সম্পদক দিলীপ বড়ুয়া, এনডিপি নেতা আলমগীর মুজমদার প্রমুখ বক্তৃতা করেন।