মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সাথে ইউনেস্কো প্রতিনিধি দলের মতবিনিময়

89

মংলা থেকে মোঃ নূর আলমঃ বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ সুন্দরবনের বর্তমান অবস্থা দেখতে আসা ইউনেস্কো রিএ্যাকটিভ মনিটরিং মিশনের প্রতিনিধি দল গত তিনদিন সুন্দরবনের করমজল, নির্মাধীন রামপাল কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র, রামপালের সরকারি কর্মকর্তা-জনপ্রতিনিধি দল-স্থানীয় জনগন, কয়লা-সার-তেল ভর্তি কার্গো ডুবির ঘটনাস্থল, হারবারিয়া বন্দরের মাল লোড-আনলোড স্থান পরিদর্শন শেষে ২৫ মার্চ শুক্রবার সন্ধ্যায় মংলার পর্যটন হোটেল পশুরে মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এ্যাডমিরাল রিয়াজ উদ্দিন আহমেদের সাথে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন ইউনেস্কো রিএ্যাকটিভ তিন সদস্যের প্রতিনিধি দলের সদস্য ফ্যানি এ্যাডোলফিনেম ডোউভার, নাউমি ক্লার ডোয়াক ও মিজুকি মুরাজী। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মংলা কর্তৃপক্ষের মেম্বর অপারেশন মোঃ আলতাপ হোসেন, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক প্রশাসন মোঃ নুরুল আলম, পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনার পরিচালক ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. দিলীপ দত্ত, অধ্যাপক শফি উদ্দিন, মংলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আলী প্রিন্স, রামপাল উপজেলা নির্বাহি অফিসার রাজীব কুমার রায় প্রমূক। উল্যেখ্য সুন্দরবনের বিশ্ব ঐতিহ্য সংরক্ষনের বর্তমান পরিস্থিতি এবং রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও পশুর নদী ড্রেজিং এর সম্ভাব্য প্রভাব পর্যবেক্ষনের জন্য ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সেন্টার ও আইইউসিএন এর সমন্বয়ে একটি যৌথ কমিটিকে রিএ্যাকটিভ মনিটরিং এর জন্য ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটির আমন্ত্রন জানানোর অনুরোধের প্রেক্ষিতে ইউনেস্কোর এই টিম সুন্দরবন পরিদর্শনে আসেন। কোন বিশ্ব ঐতিহ্যকে বিপদাপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা কিংবা বিশ্ব এতিহ্যের তালিকা থেকে বাদ দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার আগে সাধারনত রিএ্যাকটিভ মনিটরিং করা হয়। উল্যেখ্য বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের জন্য হুমকি রামপাল কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইউনেস্কো বাংলাদেশ সরকারকে প্রথম চিঠি দেয় ২২ মে ২০১৩। ১২ ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখে ইউনেস্কো ইআইএ রিপোর্টের ত্রুটি ও অসম্পূর্নতা উল্যেখ করে সরকারকে চিঠি পাঠায়। মংলার মৈদাড়া পশুর নদীর তীরে নির্মানধীন ওরিয়েন’র কয়লা ভিত্তিক কেন্দ্রের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে ১১ এপ্রিল ২০১৪ তারিখে সরকারকে আবার চিঠি দেয়। সুন্দরবন পরিদর্শনে আসা ইউনেস্কো রিএ্যাকটিভ মনিটরিং মিশনের সদস্যরা ২৭ মার্চ ঢাকায় বনসংরক্ষকের সাথে এবং ২৮ মার্চ আইইউসিএন’র কান্ট্রি প্রতিনিধি, বন ও পরিবেশ মন্ত্রনালয়ের সচিব, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব, নৌপরিবহন মন্ত্রনালয়ের সচিব, পররাস্ট্র মন্ত্রনালয়ের সচিব, পর্যটন মন্ত্রনালয়ের সচিব ও সাংস্কৃতিক মন্ত্রনালয়ের সচিবদের সাথে মতবিনিময় সভায় মিলিত হবেন বলে জানা গেছে।