মংলা বন্দরে আড়াই কোটি টাকার পন্যের চালান আটক

83

মংলা থেকে মোঃ নূর আলমঃ মংলা বন্দরের জেটিতে এশিয়া প্যাসিফিক জোনের ৩৩ টি দেশের শুল্ক গোয়েন্দা অভিযান ’রাইলো’-র অংশ হিসেবে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর ও তদন্ত খুলনা আঞ্চলিক অফিসের উদ্যোগে ২০-২১ জুলাই বিশেষ অভিযান ’আইরিন’ পরিচালিত হয়। অভিযানে আমদানী নীতি আদেশ লংঘন করে পন্য আমদানী করায় ২১ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুরে বন্দর জেটিতে দুটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের আড়াই কোটি টাকার পন্যের চালান আটক করা হয়। এ ব্যাপারে কাস্টমস আইনে মামলা হয়েছে।
অভিযান চলাকালে বিকেল ৩টায় বন্দর জেটিতে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক খালিদ মোহাম্মদ আবু হোসেন প্রেস ব্রিফিং-এ সাংবাদিকদের বলেন দুইটা কনটেইনারে ঘোষণা অনুযায়ী পন্যের অমিল প্ওায়া গেছে, যা কাস্টমস আইন অনুযায়ি অপরাধযোগ্য। কনটেইনার দুটিতে বিধি বহির্ভূত ভাবে আমদানী পন্য মশার কয়েল, স্প্রে, ডিসপোজবল সিরিঞ্জ, ইনফিউশন সেট এবং অক্সিজেন মাস্ক প্ওায়া গেছে। অবৈধ ভাবে এ সকল পন্য আমদানী করায় কাস্টমস আইনে মামলা হবে বলে অতিরিক্ত মহাপরিচালক খালিদ মোঃ আবু হোসেন জানান। আমদানী নীতি আদেশ লংঘন করে আমদানীকৃত এসকল পন্যের আনুমানিক মূল্য আড়াই কোটি টাকা। তিনি আরো জানান আরেকটি কনটেইনারে গার্মেন্টস পন্য আনার ঘোষনা থাকল্ওে কনটেইনার খুলে কোন পন্য প্ওায়া যায়নি। এক্ষেত্রে যদি কোন ধরনের ব্যাংকিং লেন-দেন হয়ে থাকে তাহলে মানি লন্ডারিং মামলা হবে। অক্সিজেন মাস্ক, ইনফিউশন সেট ও সিরিঞ্জ আমদানী কারক প্রতিষ্ঠান হলো নোয়াখালির মাইজদীর প্রাইম হসপিটাল লিঃ এবং মশার কয়েল ও স্প্রে আমদানীকারক প্রতিষ্ঠান হলো ঢাকার ১৮/২ তোপখানা রোডের মেসার্স মীম ট্রেডিং কোম্পানী। অন্যদিকে গার্মেন্টস পন্য আমদানী করার কথা বলে খালি কনটেইনার এর আমদানী কারক প্রতিষ্ঠানের নাম জানাতে মংলা কাস্টমস অফিসের সহকারি কমিশনার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম অপারাগতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন নাম পরবর্তীতে জানানো হবে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র বলেছে গার্মেন্টস পন্য আমদানী করার কথা বলে খালি কনটেইনার আমদানীকারক প্রতিষ্ঠান হলো ঢাকার প্যাকসন লিঃ। অভিযান পরিচালনাকালে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ খুলনার উপ পরিচালক মোঃ জাকির হোসেন, মংলা বন্দর ট্রাফিক বিভাগের উপ পরিচালক মোঃ মোস্তফা কামাল, মংলা কাস্টমস হাউজের সহকারি কমিশনার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম প্রমূখ। শুল্ক গোয়েন্দা অভিযান আগামী ২৩ জুলাই পর্যন্ত চলবে।