ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৮৭,৮৮৭ কোটি টাকা

32

যুগবার্তা ডেস্কঃ নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়িত হলে রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটবে বলে আশা করা হলেও আগামী অর্থবছরে এ খাত থেকে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা খুব একটা বাড়ছে না। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ভ্যাট বা মূল্য সংযোজন কর বাবদ রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৮৭ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা। এটি চলতি অর্থবছরের মূল লক্ষ্যমাত্রা থেকে ১৫ হাজার ১২৩ কোটি টাকা বেশি। আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার হচ্ছে চার লাখ কোটি টাকারও বেশি অঙ্কের।

মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর বড় অংশই কার্যকর হবে আগামী ১ জুন সংসদে বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনের দিনই। বাজেট ঘোষণায় বিভিন্ন পণ্য ও সেবার ওপর সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো ও কমানোর যে প্রস্তাব করা হবে, তা ওই দিন থেকেই কার্যকর হবে। এ ছাড়া ‘দি এক্সাইজ অ্যান্ড সল্ট অ্যাক্ট, ১৯৪৪’-এর আওতায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কোনো ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে থাকা ঋণ ও আমানতের ব্যালান্সের (স্থিতি) ওপর আরোপিত আবগারি শুল্ক এবং বিমানের টিকিটের ওপর নির্ধারিত শুল্কহারও ১ জুন থেকেই কার্যকর হবে। তবে নতুন আইনে সাতটি মৌলিক খাতে বিভিন্ন পণ্য ও সেবাকে যে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, তা কার্যকর হবে নতুন অর্থবছরের প্রথম দিন বা আগামী ১ জুলাই। ফলে বাজেট ঘোষণায় নতুন করে যেসব পণ্য ও সেবার ওপর ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করা হবে, তা ভোক্তাদের দিতে হবে ১ জুলাই থেকে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ভ্যাট আইনের দ্বিতীয় তফসিল এবং এক্সাইজ অ্যান্ড সল্ট অ্যাক্টের প্রস্তাবগুলো ‘দ্য প্রভিশনাল কালেকশন অব ট্যাক্সেস অ্যাক্ট, ১৯৩১’ অনুযায়ী জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের তারিখ থেকেই কার্যকর করা হবে।

এক্সাইজ ও সল্ট অ্যাক্টের আওতায় ঋণ ও আমানতের ব্যালান্সের ওপর আবগারি শুল্ক আদায় করে এনবিআর। এবার তা দ্বিগুণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া এই আইনের আওতায় বিমানের টিকিটের ওপর থাকা আবগারি শুল্কও দ্বিগুণ হচ্ছে।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক, আবগারি শুল্ক ও টার্নওভার কর বাবদ ৭২ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় রাজস্ব আদায় না হওয়ায় সংশোধিত বাজেটে লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ৬৬ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সংস্থাটির সাময়িক হিসাব অনুযায়ী, গত এপ্রিল শেষে অর্থবছরের ১০ মাসে এ খাত থেকে আদায় হয়েছে ৫২ হাজার ৮৪২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরে একই সময়ে এ খাতে রাজস্ব আয়ের পরিমাণ ছিল ৪৪ হাজার ৬৩১ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।

এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক, আবগারি শুল্ক ও টার্নওভার কর থেকে ৮৭ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা আদায়ের যে লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হচ্ছে, তা চলতি অর্থবছরের মূল লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় মাত্র ১২ শতাংশ বেশি। তবে নতুন লক্ষ্যমাত্রা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৩৩.১৬ শতাংশ বেশি।-কালেরকন্ঠ