ভোলায় পুলিশ বিএনপি’র নেতা-কর্মীদের তালিকা সংগ্রহ করছেন

ভোলা প্রতিনিধি॥ ভোলায় পুলিশ বিএনপি ও সহযোগি অঙ্গ-সংগঠন সমূহের নেতা-কর্মীদের তালিকা সংগ্রহ করছে বলে অভিযোগ করছেন বিএনপি।
বিএনপি একাধিক নেতাকর্মীরা জানান, ভোলা জেলার থানাগুলোতে পুলিশ বিএনপিসহ বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করার নামে হয়রানি করছেন এবং দেশে চলমান গনতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে বিরাজমান ভয়ের পরিস্থিতিকে আরো আতঙ্কগ্রস্ত করে তুলছেন। এছাড়া পুলিশ বিএনপি’র নেতা-কর্মীদের এসব তালিকা সংগ্রহ করছেন আ’লীগ ও তার অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে।
ভোলা জেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন লিটন বলেন, পুলিশের এ ধরনের কার্যক্রম একদিকে যেমন নাগরিকের গোপনীয়তার অধিকার ক্ষুন্ন করছে অন্যদিকে তেমনি নাগরিকের আইনি অধিকার ভোগ করা এবং তার ব্যক্তি স্বাধীনতার উপর নগ্ন হস্তক্ষেপ করছেন। পুলিশ সাধারন মানুষের নিরাপত্তা না দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। পুলিশ আ’লীগের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সারা দেশের ন্যায় গ্রাম-গঞ্জেও বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টির পায়তারা করছেন। তারা যা করছেন তা বাংলাদেশের সংবিধান বিরোধী ও আইনের লঙ্ঘন।
ভোলা জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাধারন সম্পাদক এডভোকেট মো. আমিরুল ইসলাম বাছেদ বলেন, পুলিশের এ ধরনের কার্যক্রম কোন ভাবেই বাংলাদেশের সংবিধান সম্মত নয়। যা ফৌজদারী কার্যবিধির ৪২ এবং ৪৪ ধারায় একজন নাগরিক যুক্তিসঙ্গত কারণে কোনো পুলিশ কর্মকর্তাকে সহযোগিতা করবে বলে বলা হয়েছে। সেই প্রেক্ষিত ভিন্ন। ফৌজদারী কার্যবিধির আওতায় যদি কোনো পুলিশ কর্মকর্তা কোন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করার এখতিয়ার ধারণ করে বা আমলযোগ্য অপরাধের সম্পৃক্ততার যুক্তিসম্মত কারণ পায় এবং সে ব্যক্তি যদি পালানোর চেষ্টা করে কিংবা তার শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গ করার কোনো আশঙ্কা থাকে বা সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে বা ৪৪ ধারায় উল্লেখিত দ-বিধির কোনো অপরাধ সংঘটনের তথ্য থাকে তবেই কেবল ওই পুলিশ কর্মকর্তা একজন নাগরিকের সহযোগিতা চাইতে পারে, অন্য কোনো কারণে নয়। ওই ৪২ ও ৪৪ ধারা প্রয়োগ করতে গেলেও আগে প্রমাণ করতে হবে যে নাগরিকের কাছ থেকে কোনো তথ্য বা সহযোগিতা চাইতে হলে যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকতে হবে এবং সে কারণ অবশ্যই উল্লেখিত আইনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হতে হবে।
ভোলা জেলা বিএনপি’র সাধারন সম্পাদক হারুন আর রসিদ ট্রুম্যান বলেন, বিভিন্ন থানা এলাকায় পুলিশ বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের একজনের কাছ থেকে অন্যজনের তথ্য সংগ্রহে করছেন। পুলিশি এ ধরনের কর্মকা- বাংলাদেশ সংবিধান, ফৌজদারী কার্যবিধি, পুলিশ আইন বা পুলিশ বিধি কিংবা অন্য কোনো আইন দ্বারা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। পুলিশের এ ধরনের কার্যক্রম একদিকে যেমন নাগরিকের গোপনীয়তার অধিকার ক্ষুন্ন করছে অন্যদিকে তেমনি নাগরিকের আইনি অধিকার ভোগ করা এবং তার ব্যক্তি স্বাধীনতার উপর নগ্ন হস্তক্ষেপ বলে প্রতীয়মান হয় যা সংবিধানের ৩১, ৩২ ও ৪৩ অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
তিনি আরও বলেন, চলমান অবস্থায় ইহা প্রতীয়মান হয় যে পুলিশ বিএনপিসহ বিরোধীদের দমনের উদ্দেশে তাদের গণহারে শুধু নাম ঠিকানায় নয়, তাদের পেশা, সন্তান সম্পত্তির বিবরণসহ চৌদ্দ গোষ্ঠীর যাবতীয় বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে যা জনসাধারনের মধ্যে বিরাজমান আতঙ্কের পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তুলছে। ভোলা জেলা বিএনপি এই অবস্থার অবসান চায়।
আমরা পুলিশ কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানাচ্ছি, এইভাবে সাধারণ নাগরিক, রাজনৈতিক কর্মীদের হয়রানি বন্ধ করে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য তারা তাদের সংবিধানিক দায়িত্ব পালন করবেন।
এ ব্যাপারে ভোলা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, এসব কথা ভিত্তিহীন, এগুলো আমাদের পুলিশের রুটিন কাজ। বিভিন্ন রকমের খোঁজ খবর নেওয়া। পুলিশ বাড়তি কিছু করছে না। তারা কে, কি বলছে আমার জানা নেই।