ভোটের মাঠ গোছাচ্ছে ইসি

যুগবার্তা ডেস্কঃ একাদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে ভোটের মাঠ গোছাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এজন্য জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মহাকর্মযজ্ঞ। এর মধ্যে রয়েছে- ভোটার তালিকা বানানো, নির্বাচনী আইন সংস্কার, রাজনৈতিক দল-সুশীলসমাজ, সাংবাদিক ও এনজিওগুলোর সঙ্গে সংলাপ; ৩০০ সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ, নতুন দলের নিবন্ধন এবং নির্বাচনে ব্যবহারে জন্য ডিজিটাল মেশিন বা ডিভিএম-ইভিএম প্রস্তুতকরণ। এসব কাজের টাইমফ্রেম নির্ধারণ করে তৈরি করা হয়েছে নির্বাচনী রোডম্যাপের খসড়া। এতে ২৩টি এজেন্ডা রাখা হচ্ছে। আগামী ১৪ মে রোডম্যাপ নিয়ে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসবে ইসি।
ইসির কর্মকর্তারা জানান, ২০১৮ সালের নভেম্বরের মাঝামাঝিতে একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ডিসেম্বরের শেষে অথবা জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ভোট গ্রহণের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে এই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। ভোটের জন্য প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ইসির মাঠ কর্মকর্তাদের। ভোট গ্রহণের জন্য তাদের দেওয়া হবে প্রশিক্ষণ।
অন্যদিকে আগামী সংসদ নির্বাচনে তিনটি বিষয়কে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে সংসদ নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, সবার জন্য সমান সুযোগ তথা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা এবং প্রতিটি ভোটার যাতে আনন্দমুখর পরিবেশে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন তার ব্যবস্থা করা। সম্প্রতি আঞ্চলিক ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত ইসির এক বৈঠকে এই চ্যালেঞ্জের বিষয়গুলো উঠে আসে। ওই বৈঠকে এই তিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে মাঠ কর্মকর্তাদের প্রস্তুত হতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে : নির্বাচন এক বিশাল কর্মযজ্ঞ। তাই নির্বাচন কমিশনের সামনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ, অনেক চ্যালেঞ্জ। আগামী বছরের শেষে বা ২০১৯ সালের শুরুতে একাদশ সংসদ নির্বাচন হবে। নির্বাচন সামনে রেখে কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। এই কর্মপরিকল্পনা সম্মিলিতভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। এজন্য সবাইকে প্রস্তুত হতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
যা থাকছে খসড়া রোডম্যাপে : রোডম্যাপে অগ্রাধিকার পাচ্ছে- ১. নির্বাচনী আইনের সংস্কার। ২. সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ। ৩. নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন। ৪. ভোটার তালিকা প্রস্তুত। ৫. ভোট কেন্দ্র প্রস্তুত। ৬. রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সভা বা সংলাপ। ৭. ডিজিটাল ভোটিং মেশিন প্রস্তত করা। এ ছাড়া আগামী দিনে ইসির বিভিন্ন কার্যক্রমের পরিকল্পনাও রাখা হবে রোডম্যাপে।
সংলাপ, আইন সংশোধন : একাদশ সংসদ নির্বাচনের খসড়া রোডম্যাপে চলতি বছরের জুলাইয়ের মধ্যে রাজনৈতিক দল-সুশীলসমাজ, সিনিয়র সাংবাদিক ও এনজিও প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপ করা হবে। নির্বাচনী আইন সংস্কারের বিষয়ে তাদের পরামর্শ নেওয়া হবে। এরপর আগস্টে প্রস্তাবিত আইন-বিধির খসড়া তৈরি করা ও সেপ্টেম্বরের মধ্যে তা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সেই সঙ্গে ডিসেম্বরের মধ্যে সব আইন-বিধি চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের আগস্টে নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণে জিআইএস-সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করবে ইসি। এরপর ডিসেম্বরের মধ্যে ৩০০ সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ করার সময়সীমা রাখা হচ্ছে। ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারিতে ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা, ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন সম্পন্ন করা এবং ফেব্রুয়ারির মধ্যে সংসদ নির্বাচনে ব্যবহার্য ডিজিটাল মেশিন প্রস্তুত করার সময় কাঠামো ঠিক করে দেওয়া হচ্ছে রোডম্যাপে। অন্যদিকে রোডম্যাপ বা কর্মপরিকল্পনায় একাদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য ভোট কেন্দ্র প্রস্তুত করা, মালামাল সংগ্রহ, ভোটের আগে দ্বিতীয় দফায় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ, নির্বাচনী আইন সংশোধনসহ বেশকিছু বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ইসি সচিবালয়।
নিবন্ধন : অক্টোবরের মধ্যে নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের জন্য আবেদন আহ্বান করা হবে। এজন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তিও দেবে ইসি। এরপর ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে আবেদন যাচাই-বাছাই করে নতুন দলের নিবন্ধন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আর নতুন দলের নিবন্ধন শেষ করে একাদশ সংসদ নির্বাচন করার আগে দ্বিতীয় দফায় সব দলের সঙ্গে সংলাপ করার পরিকল্পনাও রয়েছে ইসির।
ভোটার তালিকা : ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারির মধ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করে খসড়া প্রস্তুত করবে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগ। এরপর ভোটারদের দাবি-আপত্তি শেষ করে ৩১ জানুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। ফেব্রুয়ারির মধ্যে ৩০০ আসনের সীমানা অনুযায়ী ভোটার তালিকার সিডি প্রস্তুত করে তা মাঠপর্যায়ে পাঠানো হবে।
ডিজিটাল ভোটিং মেশিন প্রস্তুত : ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে ডিজিটাল ভোটিং মেশিন প্রস্তুত করা হবে। এরপর তা ব্যবহারের বিষয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ৩০ দিন আগে প্রচার শুরু করা হবে। এ ছাড়া প্রয়োজনে মক-ভোটিংয়ের ব্যবস্থাও করবে ইসি।
নির্বাচনী মালামাল সংগ্রহ : একাদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য ২০১৮ সালের এপ্রিল থেকে আগস্টের মধ্যে নির্বাচনী মালামাল সংগ্রহ করা হবে। তফসিল ঘোষণার আগে সংগ্রহ করা হবে ব্যালট বাক্স, সিল। এ ছাড়া আগস্টের মধ্যে প্রার্থীদের নির্বাচনী এলাকা অনুযায়ী ছবি ছাড়া ভোটার তালিকার সিডি প্রস্তুত করে মাঠপর্যায়ে পাঠানো হবে।
এ বিষয়ে ইসি সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রোডম্যাপের খসড়া উপস্থাপন করা হবে। ১৪ মে এই কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কমিশন সভা হবে। কমিশনের অনুমোদনের পর প্রস্তাবিত সময় ধরে কাজ এগোবে। সে ক্ষেত্রে ইসি সচিবালয় ও মাঠ কর্মকর্তারা তা বাস্তবায়ন করবেন।-বাংলাদেশ প্রতিদিন