ভোটচুরি,রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষ,সহিংসতায় উজিরপুরে ইউপি নির্বাচনে গুলি,১৫টি মটর সাইকেল ভাংচুর, আহত ৫০। ১০ প্রার্থীর নির্বাচন বর্জন, ১টি কেন্দ্র স্থগিত

59

কল্যাণ কুমার চন্দ,প্রতিনিধি উজিরপুর,(বরিশাল)ঃ
ভোট কারচুপির কারনে ব্যাপক সংঘর্ষ ও সহিংসতার মধ্য দিয়ে উজিরপুর উপজেলার ৭ ইউনিয়নের মধ্যে ৭ ইউনিয়নে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবারের ইউপি নির্বাচনে পাল্টা-পাল্টি হামলায় চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ কমপক্ষে ৬০ জন আহত হয়েছে এবং প্রত্যেক ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী ব্যতীত অন্যান্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের এজেন্ট বের করে দেওয়া, জোর করে ব্যালট পেপার ও বক্স ছিনিয়ে নেওয়া, প্রকাশ্যে নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে বাধ্য করা,প্রিজাইডিং অফিসারদের মাধ্যমে ভোট কাটার অভিযোগে ৭ ইউনিয়নে বিএনপির ৭ চেয়ারম্যান প্রার্থী ওয়ার্কাস পার্টির ১, সতন্ত্র ২ জনসহ মোট ১০ চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচন বর্জনের ঘোষনা দিয়েছেন।

সকাল ৮ টায় ভোট গ্রহন শুরুর সাথে সাথেই উপজেলার হারতা ইউনিয়নের জামবাড়ি সঃ প্রাঃ বিদ্যালয় কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী ডাঃ হরেন রায় ১০ টি মটর সাইকেল যোগে ৩০/৪০ জন সমর্থক নিয়ে জামবাড়ী কেন্দ্র দখল করে চেয়াম্যানদের ব্যালট পেপার ও বাক্স ছিনিয়ে নিয়ে প্রকাশ্যে সীল দেয়া শুরু করে। এ ঘটনায় উত্তেজিত এলাকাবাসী ও উপস্থিত ওয়ার্কার্স পার্টির কর্মী সমর্থকরা আ’লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী হরেন রায়কে ১ ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখে এবং তার সাথে আসা সন্ত্রাসী বাহিনীর ৭টি মটর সাইকেল গুরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো: নুরুল ইসলাম (পিপিএম) বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশের ষ্টাইকিং ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী হরেন রায় ও ছিনতাইকৃত ব্যালট বাক্স উদ্ধার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। পরে ওই ভোট কেন্দ্রের অবস্থা বেশ ঝুঁকিপূর্ন হওয়ায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কেন্দ্রটির নির্বাচন স্থগিত ঘোষনা করেন। এ সময় উভয় পক্ষের হামলায় সুধাংশু রায়(৪৭), দুলাল মজুমদার(২৭), নরেশ বাড়ৈ(৩০), তাপস মলি¬ক(৪০), মনোরঞ্জন মলি¬ক(৪০), উত্তম ভাংরা(৪৫), বিমল বাড়ৈ(১৮), নির্মল বল¬ভ(৪৫), হরেন মুড়ি(৪৫), ডাঃ আশুতোষ মলি¬ক(৪০) আহত হয়। গুরুত্বর আহত মনোরঞ্জন মল্লি¬ক ও সুধাংশুকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এছাড়া সকাল সাড়ে ১০ টায় হারতা ইউনিয়নের মধ্য কালবিলা (বড়ইভিটা) কেন্দ্র থেকে আ’লীগের সমর্থকরা ৩’শ ব্যালট পেপার জোর করে ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় ওয়ার্কার্স পার্টির সমর্থকদের সাথে দফায় দফায় সংর্ঘর্ষ হয়। ফলে ১ ঘন্টা ২০ মিনিট সেখানে ভোট গ্রহন স্থগিত ছিল।

শোলক ইউনিয়নের কচুয়া সঃ প্রাঃ বিদ্যালয় কেন্দ্রে আ’লীগ-বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে সোহাগ(৩২), মাহমুদা(২৮) আহত হয় এবং প্রিজাইডিং অফিসার আল-আমিন মিঞা সকাল ১০টা থেকে ২ ঘন্টা কেন্দ্রটির ভোট গ্রহন বন্ধ থাকে। বাবরখানা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দুপুর ১ টায় ২ মেম্বর প্রার্থীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে এতে হাতেম বেপারী, কামরুল বেপারী, শাওন হাওলাদার, সিদ্দিক হাওলাদার আহত হয়। এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করার জন্য ২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এছাড়া ওই ইউনিয়নের উত্তর শোলক ভোট কেন্দ্রে বিএনপি প্রার্থীর চাচাকে আ’লীগ সমর্থকরা পিটিয়ে গুরুত্বর আহত করেছে।

বড়াকোঠা ইউনিয়ন ডিগ্রী কলেজ কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ৯টায় নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা ভোটারদের উপস্থিতিতে ভোট কাটতে গেলে ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকরা বাধা দিলে তাদের সাথে সংর্ঘর্ষ শুরু হয়, সেখানেও পরিস্তিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশের ৭ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে এবং দুপুর ২টায় সেখানে কোন ভোটারদের উপস্থিতি দেখা যায়নি কিন্তু সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারদের নৌকার ভোট কাটতে দেখা গেছে। ওই ইউনিয়নের দরগাবাড়ী কেন্দ্রে আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শাহ-আলম হাওলাদার ও আ’লীগের মনোনিত প্রার্থী এ্যাড: শহিদুল ইসলাম এর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি এনায়েত হোসেন গুরুতর আহত হয় এবং তাদের ৪টি মটর সাইকেল ভাংচুর করে আ’লীগ প্রার্থীকে ১ ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। একই ইউনিয়নের মিয়াবাড়ী ভোটকেন্দ্রে সকাল ১০টায় মেম্বার প্রার্থী ইকবাল বেপারী অপর প্রার্থী প্রফুল্ল হালদারকে পিটিয়েছে।

পশ্চিম সাতলা কেন্দ্রে দুই মেম্বর প্রার্থীর মধ্যে ভোট কাটা নিয়ে সংঘর্ষে মোঃ রিপন গুরুত্বর আহত হয় এবং ৪টি মটর সাইকেল ভাংচুর হয়।

জল্ল¬া ইউনিয়নে গড়ই বাড়ী কেন্দ্রে আ’লীগ মনোনিত প্রার্থীর সমর্থকরা আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী উর্মিলা বাড়ৈর ছেলে অচিন্ত বাড়ৈ ও মেয়ে ডলি বাড়ৈকে লাঞ্জিত করেছে। উত্তর মুন্সির তাল¬ুক কেন্দ্রে ঐ ২ জনকে ১ ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখে।

ছিন্ন-বিছিন্ন এ সকল ঘটনায় শোলক ইউনিয়নের বিএনপির প্রার্থী মশিউর রহমান মনির সকাল সাড়ে ১০ টায়, ওটরার কামরুজ্জামান টুলু সকাল ১০ টায়, সাতলার মেজবাহ উদ্দিন আহম্মেদ সকাল পৌনে ১০ টায়, বামরাইলের আব্দুল মতিন সরদার নান্টু বেলা ১২ টায়, জল্ল¬ার অধ্যাপক মিজানুর রহমান সকাল ১১ টায়, হারতায় মাও: সিদ্দিকুর রহমান সকাল সাড়ে ১১ টায়, আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী উর্মিলা বাড়ৈ সকাল সাড়ে ১১টায়, হারতায় ওয়ার্কাস পার্টির বিমল চন্দ্র করাতী দুপুর ১ টায় নিজ নিজ এলাকায় নির্বাচন বর্জনের ঘোষনা করেন। বিকেলে উপজেলা নির্বাচন অফিসারের বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং এ সময় উপজেলা চত্তরে সকল বর্জনকৃত প্রার্থীরা একযোগে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন বর্জনের ঘোষনা দিয়েছেন। এছাড়াও কচুয়া সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়ে স্থগিত করার পরেও পূনরায় ভোট গ্রহন করায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। উপজেলা নির্বাচন অফিসার জসীম উদ্দিন জানান সংঘর্ষের কারণে জামবাড়ী কেন্দ্রটি বন্ধ ঘোষনা করা হয়।