ভাষার জন্য প্রাণ গেল ক্যামরুনে

যুগবার্তা ডেস্কঃ হাজার হাজার মানুষ কফিন নিয়ে জড়ো হয়েছে, ভাষার অধিকার আদায়ের দাবিতে নিজেদের পুড়িয়ে মারার ঘোষণা দিয়েছে তারা। ক্যামরুনের বামেন্দা শহরে জড়ো হয়েছে ইংরেজি ভাষাভাষীর মানুষ। ফরাসি ভাষার আধিপত্যে তাদের ভাষা অবহেলিত হচ্ছে প্রতি মুহূর্তে। ফরাসিরাই সেখানেই সংখ্যাগুরু, আর ফরাসিরা নানা সুযোগেই ইংরেজিভাষীদের বঞ্চিত করছে। ইংরেজিভাষী শিক্ষকদের ডাকে রাস্তায় নেমেছে ছাত্র ও জনতা। ফরাসিভাষী সরকার তাদের দমন করার জন্য নামিয়ে দিয়েছে পুলিশবাহিনী। পুলিশ টিয়ার গ্যাস ছুঁড়ছে, রাবার বুলেট ছুঁড়ছে। একজন নিহিত হয়েছে। ১০০ জনকে গ্রেফতার করেছে। আর বহুমানুষ হতাহত হয়ে ভর্তি হয়েছে হাসপাতালে।
দুসপ্তাহ আগে ইংরেজিভাষী আইনবিদদের সমর্থন দিতেই ইংরেজিভাষী শিক্ষকদের এ বিদ্রোহ শুরু। আইনি ও আদালত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়েই তাদের এ বিদ্রোহ। ক্যামেরুনে এমন অনেক আইন পাশ হয়েছে যেগুলো ইংরেজিতে আর অনুবাদ হয়নি। রয়ে গেছে ফ্রেঞ্চ ভাষায়।
পঞ্চদশ শতাব্দীতে ক্যামেরুন আবিষ্কৃত হয় পর্তুগিজদের দ্বারা। অস্টাদশ শতাব্দীতে ক্যামেরুন ছিল জার্মানদের ঔপনিবেশ। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ আর ফ্রান্সরা গিয়ে ক্যামেরুন দখল করে জার্মানদের তাড়িয়ে দিয়ে । তারপর তারা এটাকে দুটো অঞ্চলে ভাগ করে। একভাগ ব্রিটিশ ক্যামরুন, আরেক ভাগ ফ্রান্স ক্যামেরুন।
নিজেদের অধিবাসীদের নাইজেরিয়া অথবা রিপাবলিক ক্যামেরুনে থাকার স্বাধীনতা দিতে ১৯৬১ সালে ব্রিটিশ ক্যামেরুন জাতিসংঘের অধিনে একটি গণভোটের আয়োজন করে। তখন উত্তরাঞ্চলের ব্রিটিশ ক্যামরুনদের মধ্যে দুটো ভাগ হয়ে যায়। একদল নাইজেরিয়ার ইংরেজিভাষীদের পক্ষে ভোট দেয়, আরেকদল ফ্রেঞ্চভাষী অঞ্চলেই থেকে যাওয়ার পক্ষে মত দেয়। সেই গণভোটে ফ্রেন্সভাষী অঞ্চলে থাকতে চাওয়ারাই জয়ী হয়। আগের ব্রিটিশ ক্যামেরুন অঞ্চল এখন দক্ষিণ ক্যামেরুন অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এখানে এখন ৩.২ মিলিয়ন ইংরেজিভাষী মানুষ বাস করে। ১৯৮৪ সাল থেকে উত্তরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত ইংরেজিভাষীরা একটি বিদ্রোহী ঘোষণা করে। নিজেদের স্বাধীন করার জন্য সেই অঞ্চলের বিদ্রোহীরা দুটো অংঞ্চলের সঙ্গেই সংযোগ রাখতে আগ্রহী। অবশ্যই এটা নাইজেরিয়া ও ক্যামেরুনের দুদেশের সরকারের পক্ষেই মেনে নেয়া কষ্টকর। সুতরাং দুদেশের সরকার বিদ্রোহীদের দমন করতে যতোটুকু দরকার ততোটুকু বাঁধা প্রদান করার করছে। এমন কি, রাষ্ট্রের নানা সুবিধা থেকেও তাদের বঞ্চিত করছে। তাদের এখন চাকরি নাই, শিক্ষা নাই। এমন কি, চলাচলের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ রাস্তাও নাই। সর্বশেষ আঘাত আসছে তাদের ভাষার উপর। আমাদের সময়.কম