আজ থেকে হাট শুরু। ভারত সীমান্ত সিথিল হওয়ায়, কোরবানীর ঈদে গরু সংকট থাকছেনা

78

যুগবার্তা ডেস্কঃ কোরবানির ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, তত ভারতসহ প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে গরু আমদানি বাড়ছে। শুরুতে হাটগুলোতে যেভাবে দাম হাকিয়েছিল ব্যবসায়িরা তাতে চিন্তিত হয়ে পড়েছিল ক্রেতারা। ব্যবসায়িরা ছিল ফুরফুরে মেজাজে। কিন্তু ভারত থেকে গরু আসায় চাহিদার তুলনায় বেশী গরু পাওয়া যাচ্ছে। ফলে কোরবানির ঈদে গরুসহ গবাদি পশুর আর সংকট থাকছে না, দামের বিষয়টিও থাকবে নাগালের মধ্যে।
গত মার্চে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর বক্তব্যের পর বাংলাদেশে গরু আসা অনেকটা বন্ধ হয়ে যায়। এতে দেশে যেমন গরুর মাংসের দাম বেড়ে গিয়েছিল, তেমনি কোরবানিতে গরুর সংকট দেখা দিতে পাওে এমন শঙ্কাও তৈরি হয়েছিল জনমনে। কিন্তু সরকারের নানামুখী উদ্যোগের পর সম্প্রতি অন্যান্য বছরের চেয়ে ভারত থেকে গরু আমদানি বেড়েছে।
গরু ব্যবসায়ী ও সীমান্ত সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানা যায়, ভারত থেকে বাংলাদেশে গরু আনার বিষয়ে ভারতের মনোভাব আগের চেয়ে অনেক নমনীয় দেখা যায়। ফলে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর নজরদারিও সীমান্তে শিথিল হয়েছে। প্রতিদিনই ভারত থেকে বিভিন্ন পথে গরু বাংলাদেশে ঢুকছে। ভারত থেকে গরু আমদানির বৈধ কোনও পথ না থাকায় সীমান্ত এলাকার লোকজন ঝুঁকি নিয়ে ভারত থেকে চোরাই পথেগরু নিয়ে আসে। গরু আনতে গিয়ে প্রায়ই বিএসএফ-এর গুলিতে প্রাণ হারান বাংলাদেশি রাখালরা। একইভাবে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে একইভাবে বাংলাদেশে গরু নিয়ে আসছেন তারা। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সেটা আরও বাড়বে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
সংশ্লিসূত্রে জানা গেছে, গত বছর কোরবানিতে সারাদেশে প্রায় ৬৬ লাখ গবাদিপশু জবাই করা হয়। এবার দেশে কোরবানির জন্য সর্বোচ্চ ৪০ লাখ গরুর প্রয়োজন হতে পারে। এরমধ্যে প্রায় ৩০ লাখের মতো গরু দেশেই মজুদ রয়েছে। সারাদেশে গরুর খামার রয়েছে প্রায় ৬০ হাজার। এছাড়া দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছোটবড় অনেক খামার রয়েছে। এ সব খামারের মালিকরাও কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে খামারে গরু লালন-পালন করেন। এরইমধ্যে ভারত ও আশে-পাশের দেশগুলো থেকে ছয় থেকে সাত লাখ গরু এসেছে। আগামী কয়েকদিনে বাকি চাহিদাও পুরণ হয়ে যাবে। ফলে এ বছরও কোরবানিতে গরু কিংবা গবাদিপশুর কোনও সংকট হবে না।