ভারতের প্রধান বিচারপতিসহ ৭ বিচারপতির কারাদন্ড

94

যুগবার্তা ডেস্কঃ বর্ণবৈষম্য, ষড়যন্ত্র ও আদলাত অবমাননাসহ অপব্যবহারের দায়ে ভারতের প্রধানবিচারপতিসহ ৭ বিচারপতির ৫ বছর কারাদন্ড দিয়েছে আদালত।
সোমবার বিকেলে শীর্ষ আদালতের বিচারপতিদের জেলে পাঠানোর নির্দেশের পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লক্ষ টাকা করে জরিমানাও করেন বিচারপতি কারনান। অনাদায়ে বিচারপতিদের আরও ছয়মাসের কারাদণ্ড ।
রায় ঘোষণার সময় বিচারপতি কারনান বলেন, শীর্ষ আদালতের বিচারপতিরা বর্ণ বৈষম্যমূলক আচরণ করছেন। নির্দেশে তিনি বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে দিল্লির খান মার্কেটে তফশিলি জাতি ও তফশিলি উপজাতির সাংবিধানিক সংস্থা– ন্যাশনাল কমিশনে জরিমানার এই অর্থ জমা দিতে হবে।
দিল্লির পুলিশ কমিশনারকে এই রায় কার্যকর করতে বলা হয়েছে। সোমবার বিচারপতি কারনানের কলকাতার নিউটাউনের বাড়ি থেকে ১২ পাতার এই সুয়োমোটো নির্দেশটি জারি করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্টের সাত সদস্যের বেঞ্চ গত ৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কারনানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনে। গত ৪মে সুপ্রিম নির্দেশে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের ৪ সদস্যের একটি টিম তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে এলে, অস্বীকার করেন কারনান।
এরআগে, ভারতের প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রীম কোর্টের ৭ বিচারকের বিরুদ্ধে বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারী করা হয়। ২৮ এপ্রিল কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি সিএস করনান এই আদেশ জারী করেন। আদেশে বলা হয়,যতদিন তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার নিষ্পত্তি না হবে ততদিন এই আদেশ বহাল থাকবে।
গত ১৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি করনান ১৯৮৯ সালের একটি আইনের অধিনে প্রধান বিচারপতি সহ ৭ বিচারকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার জন্য এক আদেশ জারী করেন। অভিযুক্তরা হলেন, প্রধান বিচারপতি খেহার ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীপক মিশ্র, জে সেলামেশ্বার, রঞ্জন গগৈ,মাদান বি লুকোর, পিনাকি সি ঘোষ ও করন জোসেফ। ২৮ এপ্রিল তাদের আদালতে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর আগে প্রধান বিচারপতি খেহার ও ৬ বিচারক করনারের বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ আনেন। ২৮ মার্চ ৭ জন বিচারপতির গঠিত বেঞ্চে করনারকে আদালতে ডেকে পাঠান এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারী করা হয়। ৩১মার্চ আবার শুনানির দিন ধার্য করা হয়। এর আগে বিচারপতি করনান ২৭ মার্চ তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর বরাবর আবেদন করেন। এবং ২০ জন কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত বিচারকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনেন। সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিদের বিরুদ্ধে এই মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ার জন্যই বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাক্কা জারী করা হয়।