ভারতের দেশজুড়ে ২৪ ঘণ্টা ধর্মঘট পালন করেছেন ১৫ কোটি শ্রমিক-কর্মচারী

64

ভারতে মোদি ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম এত বড় ধরনের ধর্মঘট হলো। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অর্থনৈতিক নীতির বিরোধিতা করে ১৫ কোটি শ্রমিক-কর্মচারী গতকাল বুধবার দেশজুড়ে ২৪ ঘণ্টা ধর্মঘট পালন করেছেন ।
ভারতের শ্রম আইনে প্রস্তাবিত সংশোধনী এবং রাষ্ট্রায়ত্ত কলকারখানা বেসরকারীকরণের প্রস্তাবের প্রতিবাদে ২৪ ঘণ্টার ‘ভারত বন্ধ্’ পালিত হয় গতকাল। ১০টি ট্রেড ইউনিয়ন এই বনধের ডাক দেয়। এর মধ্যে ব্যাংক, নির্মাণশিল্প ও কয়লাখনির শ্রমিক ও কর্মচারী সংগঠন রয়েছে। ক্ষমতাসীন দল বিজেপির শ্রমিক সংগঠন বিএমএস এবং এনএফআইটিইউ এই ধর্মঘটে শামিল হয়নি।
ধর্মঘটের ফলে ভারতজুড়ে পরিবহন এবং ব্যাংকিং খাত একপ্রকার অচল হয়ে পড়ে। সকালে অফিসগামী যাত্রী এবং স্কুলে যাওয়া ছেলেমেয়েদের লম্বা সারি দেখা যায় রাস্তায়। ট্যাক্সি ও রিকশা না চলায় বিমানবন্দরে হাজার হাজার মানুষ একপ্রকার বন্দী হয়ে থাকে। অল ইন্ডিয়া ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক গুরুদাস দাশগুপ্ত এ ধর্মঘটকে ‘অভাবনীয়’ বলে আখ্যায়িত করেন। ধর্মঘটি সংগঠনগুলোর বক্তব্য, সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলো থেকে শেয়ার বিক্রি এবং অলাভজনক কারখানা বিক্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। তাদের দাবি, এই পরিকল্পনা বাদ দিয়ে সরকার রুগ্ণ শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে সচেষ্ট হোক। ফ্যাক্টরি এস্টাবলিশমেন্ট অ্যাক্ট, বোনাস অ্যাক্ট অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিলেশনসের মতো আইনে প্রস্তাবিত সংশোধনীর ফলে ৭৫ শতাংশ শ্রমিক কাজ হারাবে বলে দাবি করছে শ্রমিক সংগঠনগুলো। সরকার প্রস্তাবিত সংশোধনীতে শ্রমিকের সংখ্যা ৪০-এর কম এমন কারখানাকে শ্রম আইনের আওতার মধ্যে রাখতে চাইছে না। এর ফলে এসব খাতে শ্রমিকের চাকরির নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে বলে অভিমত শ্রমিক সংগঠনগুলোর। প্রস্তাবিত সংশোধনীর ফলে কারখানায় ট্রেড ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণ কমে যাওয়ার আশঙ্কাও এই ধর্মঘটের একটি বড় কারণ। রাজধানী নয়াদিল্লিতে ধর্মঘট শান্তিপূর্ণভাবে চললেও বাসস্ট্যান্ডগুলোতে হাজার হাজার মানুষকে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। রাজপথে কিছু অটোরিকশা এবং ট্যাক্সি চলাচলের চেষ্টা করলে ধর্মঘটের পক্ষের কর্মীরা সেগুলো ভাঙচুর করে।
পশ্চিমবঙ্গে এই ধর্মঘটকে ঘিরে পুলিশ এবং সরকারি দলের সমর্থকদের সঙ্গে বিরোধী ১৭টি দল এবং ১১টি শ্রমিক সংগঠনের কর্মী-সমর্থকদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। কলকাতার লেক টাউনে যশোর রোড, সোদপুরে বিটি রোডসহ রাজ্যের বিভিন্ন জাতীয় সড়ক অবরোধ করা হয়। দুর্গাপুর, রামপুরহাট এবং বর্ধমানে সিপিএম ও তৃণমূলের সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। যাদবপুরে সিপিএমের মিছিলে হামলা হয়। এরপরে পুলিশ এসে অবরোধকারীদের লাঠিচার্জ করে হটিয়ে অনেককে গ্রেপ্তার করে। মুর্শিদাবাদের কান্দিতে সরকারি দলের সঙ্গে বিরোধী দলের সংঘর্ষ হয়। হুগলির কোন্নগড়ে সিপিএম অফিসে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। ধর্মঘটের ফলে পশ্চিমবঙ্গে যান চলাচল ব্যাহত হয়। হাওড়া, শিয়ালদহ স্টেশন থেকে ট্রেন চলাচল বিপর্যস্ত হয়। বহু স্টেশনে অবরোধের কারণে ট্রেন চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। পথে আটকে যায় বহু দূরপাল্লার ট্রেন।