ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাতিলে খোলা চিঠি

যুগবার্তা ডেস্কঃ ভারতের এনটিপিসি’র অংশগ্রহণে সুন্দরবনবিনাশী রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিলের উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়ে বাংলাদেশের নাগরিকদের পক্ষ থেকে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি দিয়েছে তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি। আজ সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ’র সভাপতিত্বে ও রুহিন হোসেন প্রিন্সের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ও সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। এ সময় খালেকুজ্জমান, মো. শাহ আলম, সাইফুল হক, সুভ্রাংশু চক্রবর্তী, বজলুর রশীদ ফিরোজ, মোশরেফা মিশু, জোনায়েদ সাকী, বিডি রহমত উল্লাহ, তানজিম উদ্দিন খান, রেহনুমা আহমেদ, মোশাহিদা সুলাতানা, মাসুদ খান, শওকত হোসেন, শামসুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, সুন্দরবন দুই দেশের সম্পদ। এটি ধ্বংস করার অধিকার কারোর নেই। আমাদের যুক্তি তুলে ধরে আমরা আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রীকে সুন্দরবধ্বংসী রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পে বাতিলের আহ্বান জানিয়েছি। এই প্রকল্পের সাথে যেহেতু ভারতের সরকার ও ভারতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান জড়িত এবং ভারতীয় আইনে সুন্দরবনের কাছে এ ধরনের প্রকল্প অনুমোদন করে না তাই আমরা আজ ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকেও আমাদের উদ্বেগের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে খোলা চিঠি দিচ্ছি। নেতৃবৃন্দ বলেন, আজ যেমন ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিচ্ছি একই সাথে আজ দিল্লীতে ভারত ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বরাবরে ভারতীয় নাগরিকদের পক্ষ থেকে খোলা চিঠি দেওয়া হচ্ছে। সমাবেশ শেষে ভারতীয় দূতাবাস অভিমূখে একটি মিছিল মালিবাগ রেল ক্রসিং এর মোড়ে পৌঁছলে পুলিশ রেল গেইট বন্ধ করে বেড়িকেড তৈরি করে এবং সামনে ও পেছনে থেকে কাদানো গ্যাস ও টিয়ার সেল ছোড়ে। এতে গুরুতর আহত হয় ছাত্র ইউনিয়ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক মশিউর সজীব ও বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর হিমেল খান। যারা ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এছাড়া আহত হন জাতীয় কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স, বজলুর রশীদ ফিরোজ, খান আসাদুজ্জামান মাসুম, ছাত্রনেতা সৈকত মল্লিক, উম্মে হাবিবা বেনজীর, দেলোয়ার, ফরিদা ইয়াসমিন ডলি, সফিউল্লাহ গাজী, তন্ময়, নাসিরউদ্দিন প্রিন্স, মুজাহিদ অনিন্দ্যত, রবিসহ প্রায় ৩০ জন নেতাকর্মীরা। এছাড়া পথচারীদের মধ্যে নারী, শিশু, বৃদ্ধ অনেকেই আহত হতে দেখা গেছে। এরপর নেতাকর্মীরা আবার জড়ো হন। এসময় অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ পুলিশী হামলার তীব্র নিন্দা জানান। এবং এই ঘটনার প্রতিবাদে আগামী ২০ অক্টোবর দেশব্যাপী বিক্ষভ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিকেল ৪টায় বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তী প্রকৌশলী বিডি রহমত উল্লাহ’র নেতৃত্বে ৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল ভারতীয় দূতাবাসে যেয়ে দূতাবাস কর্মকর্তার কাছে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর চিঠি হস্থান্তর করেন।