ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পযর্ন্ত মহাসড়ক প্রশস্ত’র দাবী বাস চালক ও মালিকদের

নাজির আহমেদ সজল: পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ঢাকার সঙ্গে দেশের শেষ প্রান্ত সাগর কন্যা কুয়াকার সাথে সরাসরি সড়কপথে যোগাযোগ স্থাপন হবে। এরমধ্য দিয়ে ফেরির জন্য দীর্ঘ অপেক্ষাসহ ঘাট সংক্রান্ত বিভিন্ন হয়রানির অবসান ঘটবে। এতে করে বরিশাল হয়ে সাগরকন্যা কুয়াকাটা পর্যন্ত মহাসড়কে যানবাহনের চাপও বাড়বে। বাড়তি যানবাহনের চাপ সামাল দিতে এখনও প্রস্তুত হয়নি ভাঙ্গা থেকে বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত সড়কপথটি। দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি নেই ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পযর্ন্ত ফোর লেনের সড়ক উন্নয়ন কাজ।
বাস মালিকরা বলছেন, পদ্মা সেতুতে যান চলাচল শুরুর দিন থেকে প্রথম ৬ মাসে শুধুমাত্র ঢাকা-বরিশাল-কুয়াকাটা রুটে যাত্রীবাহী পরিবহনের সংখ্যাই বাড়বে কয়েকগুন। সেই সঙ্গে বেড়েছে পণ্য পরিবহনের যানবাহনের সংখ্যা। সেতুর চালুর পরে এর সংখ্যা আরো কয়েকগুন বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু বাড়তি যানবাহনের চাপ সামাল দিতে প্রস্তুত নয় ভাঙ্গা থেকে বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত সড়ক পথটি।

বাস মালিক জগলুল হাওলাদার বলেন, ব্রিজ উদ্বোধনের আগের সল্প সময়ে সড়ক প্রশস্তকরনের কাজ সম্ভব নয় এ কথা সত্য। কিন্তু যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে এবং নিরাপদ সড়ক যোগাযোগের জন্য অন্তত সড়কের পাশে থাকা হাট-বাজারসহ স্থাপনাগুলো সরিয়ে নেওয়া হোক। ব্যস্ত হয়ে পড়া এই মহা সড়কে দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পাবে।
বাস চালক কালাচাঁদ দাস বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে গাড়ি চালনার জন্য বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে ভাঙ্গা থেকে কাঠালবাড়ি এবং মাওয়া থেকে যাত্রাবাড়ি পর্যন্ত এক্সপ্রেস ওয়ে হচ্ছে সবথেকে নিরাপদ। সেই তুলনায় কুয়াকাটা থেকে শুরু করে বরিশাল হয়ে ভাঙ্গা পর্যন্ত গোটা মহাসড়ক যেমন সরু। পাশাপাশি সড়কের কোন কোন স্থানে গড়ে উঠা হাট-বাজারও চেপে ধরেছে সেই মহাসড়ককে। বিশেষ করে বরিশালে থেকে ভাঙ্গা যেতে উজিরপুরের ইচলাদি, সানুহার, বাটাজোর, মাহিলাড়া, গৌরনদী, ভুরঘাটা, কালকিনি, মস্তফাপুর, টেকেরহাট, বরিশাল থেকে কুয়াকাটা যেতে বকেরগঞ্জে বারো আউলিয়া, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, গোলচত্বর, আমতলী, কলাপাড়া, খেপুপাড়া, শেখের হাটসহ বেশকিছু এলাকায় মহাসড়ক ঘিরেই চলে ব্যবসায়ীক কর্মকান্ড। এতে দুরপাল্লাসহ যে কোনো ধরনের যানবাহনই চালনায় হিমশিম খেতে হয় চালকদের।

পদ্মা সেতুর পুরোপুরি সুফল ভোগ করতে হলে ভাঙ্গা থেকে বরিশাল পর্যন্ত সড়কের প্রশস্ততা এখনই প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে মহাসড়কের পাশের হাট-বাজারসহ স্থাপনাগুলো উঠিয়ে দেওয়া উচিত। আর নতুন করে যারা স্থাপনা তৈরি করবে তারা যেন মহাসড়কের নিয়ম মেনে তৈরি করে সেদিকেও খেয়াল রাখা উচিত। পাশাপাশি প্রশস্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত মহাসড়েক থ্রি হুইলার চলাচল বন্ধের পাশাপাশি মহাসড়কের পাশের জায়গা খালি করা।

বরিশাল মেট্রোপলিটনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) শেখ মো. সেলিম বলেন, বিআরটিএ এর হিসেব অনুযায়ী পদ্মা সেতু চালু দিন থেকে ঢাকা-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে শুধু মাত্র একহাজারের বেশী নতুন বাস চলাচল করবে। এর বাহিরে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, মিনিবাস, ট্রাকসগ অন্যনান পন্যবাহী কয়েকহাজার গাড়ি চলাচল করবে। ফলে সড়কে যানচলাচলে চাপ তিন থেকে চারগুন বৃদ্ধি পাবে। সেই হিসেবে রাস্তার জায়গা কিন্তু তাৎক্ষণিক বাড়ছে না। ঈদের সময় এবারের দৃশ্যটা ভিন্নই হবে। আমরা কতদুর সামাল দিতে পারবো জানি না। তবে চেস্টা থাকবে। আমাদের ডেডিকেশনের কতটুকু পারবো তা জানি না, তবে মাঠে থাকবো। আমরা আপাতত গড়িয়ারপার থেকে শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সেতু পর্যন্ত বেশ কিছু জায়গায় সাইড সোল্ডার বাড়ানো এবং তিনটি স্থানে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের জন্য সড়ক ও জনপদ বিভাগকে বলেছি।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (বরিশাল অঞ্চল) এ কে এম আজাদ রহমান বলেন, ফরিদপুর থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত সার্ভিস লেনসহ মহাসড়ক ফোরলেনে উন্নিত করার যে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে তার ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি এবং ডিজাইনও সম্পন্ন করা হয়েছে। অর্থের যোগানের মধ্য দিয়ে যার কাজ শুরু হবে। প্রকল্পের কাজ শুরু আগে আমরা কিছু উদ্যোগ নিয়েছি। ফরিদপুর থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত মহাসড়কের যেসব জায়গাতে ট্রাফিক সৃষ্টি হয় সেগুলোকে শনাক্ত করা। সড়কের উপরে যেসব স্থানে হাট বাজার রয়েছে সেখানকার রাস্তার দুইপাশ প্রশস্ত করন। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে থাকা বাক সহজ করা। যেহেতু বাইপাস সড়ক প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় লাগবে তাই বরিশাল সিটিকরপোরেশনের মধ্যে থাকা মহাসড়কের অংশে প্রয়োজন অনুযায়ী অতিদ্রুত নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে সিটি মেয়র সার্বিক সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন।