ব্লগার হত্যার কায়দায় রাজশাহীতে শিক্ষক খুন

89

রাজশাহী অফিসঃ ঢাকাসহ দেশের অন্যত্র ব্লগার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) অধ্যাপক ড. এএফএম রেজাউল করিম সিদ্দিকীর হত্যার মিল রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার মো. শামসুদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
এদিকে. অধ্যাপক রেজাউল হত্যার প্রতিবাদে রাবি’র প্রধান ফটক সংলগ্ন ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে অবস্থান নেন ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
খবর পেয়ে দলে দলে বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থী সেখানে জড়ো হন। পরে সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে পুলিশের অনুরোধে তারা সেখান থেকে সরে গিয়ে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে। সমাবেশ থেকে শিক্ষক হত্যার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানোর পাশাপাশি অবিলম্বে শিক্ষকের খুনিদের গ্রেফতার দাবি করা হয়।
এদিকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বেলা ১১টায় শিক্ষক সমিতি জরুরি বৈঠক করে।
ক্যাম্পাস সূত্র জানায়, নিহত শিক্ষক রেজাউল করিম কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তিনি ছিলেন সংস্কৃতিমনা মানুষ।
নিহত অধ্যাপক রেজাউল করিমের ভাই সাজিদুল করিম সিদ্দিকী জানান, অধ্যাপক রেজাউল ‘কোমলগান্ধার’ নামে একটি সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক এবং ‘সুন্দরম’ নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের উপদেষ্টা ছিলেন।
তার ভাইকে কেউ কখনো কোনো ধরনের হুমকি দিয়েছিল কি না, তা জানাতে পারেননি সাজিদুল করিম।
‘সুন্দরম’ এর সভাপতি হাসান জাবের সাংবাদিকদের বলেন, ‘স্যার খুব ভালো সেতার বাজাতেন। তিনি শালবাগানে একটি গানের স্কুল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছিলেন।’
ড. রেজাউল করিমের সহকর্মী রাবির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেম জানান, অধ্যাপক রেজাউল করিম কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তবে প্রগতিশীলতার চর্চা করতেন। তিনি বেহালা বাজাতে পছন্দ করতেন। সঙ্গীত চর্চায়ও তার উৎসাহ ছিল। এছাড়া সবসময় তার হাতে ক্যামেরা দেখা যেত। তার ফটোগ্রাফিতে শখ ছিল।
টনাস্থল পরিদর্শনে আসা রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শামসুদ্দিন বলেন, ‘বিগত সময়ে দেশে যেভাবে ব্লগারদের হত্যা করা হয়েছে, একই কায়দায় অধ্যাপক এএফএম রেজাউল করিম সিদ্দিকী খুন হয়েছেন। হত্যার ধরন দেখে মনে হচ্ছে এ ঘটনায় জঙ্গি সংগঠন জড়িত। সিআইডি, পুলিশ র‌্যাব ও অন্যান্য আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে রয়েছেন।
শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রাবি অধ্যাপক ড. এএফএম রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে (৫৮) কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। শহরের শালবাগান বটতলা মোড়ে নিজের বাসার কাছে এ ঘটনা ঘটে। তিনি ছিলেন ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক।
নিহতের ভগ্নিপতি মাহবুবুল আলম সাংবাদিকদের জানান, সকালে তিনি (রেজাউল করিম) বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন। বাড়ির কাছাকাছি থাকতেই মোটর সাইকেলযোগে দুই-তিনজন দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ঘাড়ে কোপ দেয়। এতে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়।
বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত শুরু করেছে।
নিহত অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকীর গ্রামের বাড়ি রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায়। তাঁর স্ত্রী হোসনে আরা শিরা গৃহবধূ। অধ্যাপক রেজাউল করিমের দুই ছেলে-মেয়ে। ছেলে রিয়াসাত ইমতিয়াজ সৌরভ রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শেষ বর্ষের ছাত্র। মেয়ে রেজওয়ানা হাসিন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী।
এরআগে ২০১৪ সালের ১৫ নভেম্বর দুপুরে খুন হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. একেএম শফিউল ইসলাম। তিনি সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ছিলেন।
২০০৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিজ বাসায় খুন হন ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক এম তাহের।
এর আগে ২০০৪ সালে ক্যাম্পাস সংলগ্ন বিনোদপুর গ্রামে খুন হয়েছিলেন অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মো. ইউনূস আলী। তাকে হত্যার দায়ে দুই জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড হয়।