ব্যক্তি স্বার্থ, দ্বন্দ্ব-ক্ষমতার লিপ্সায় বাম দলগুলোর ভাঙ্গন

রফিক আহমেদ : বাংলাদেশের বিভিন্ন বাম দলের নেতারা বলেছেন, ব্যক্তি স্বার্থ, পদ-পদবির জন্য দ্বন্দ্ব, ক্ষমতার লিপ্সা এবং মস্কোপন্থী ও চীনপন্থী আদর্শের লড়াইয়ের কারণে বাম দলগুলো ভেঙ্গে বিভক্ত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার একাধিক বাম দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমাদের অর্থনীতির সঙ্গে এসব কথা বলেন।
সূত্রমতে, বাংলাদেশের বাম দলগুলো সমাজতন্ত্র কায়েমের মধ্যদিয়ে দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মঙ্গলের জন্য ভাল উদ্দেশ্য নিয়ে দল গঠন করলেও এক পর্যায়ে এসে নানা কারণে দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পড়ে। বিগত দিনে ব্যক্তি স্বার্থ, পদ-পদবির জন্য দ্বন্দ্ব, ক্ষমতার লিপ্সা এবং মস্কোপন্থী ও চীনপন্থী আদর্শের লড়াইয়ের কারণে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ), বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট কেন্দ্র ও বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টিসহ আরো অনেক বাম দল বিভক্ত হয়েছে। এই দলগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটে রয়েছে জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, সাম্যবাদী দল, কমিউনিস্ট কেন্দ্রসহ এসব দলের একাংশ। অপরদিকে, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের আরেকাংশ রয়েছে বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন ২০দলীয় জোটে। এছাড়াও সিপিবি, বাসদ ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি বিভিন্ন ইস্যুতে রাজপথে আন্দোলন করছে বলে জানা যায়।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বলেন, বামপন্থীদের আন্দোলনে বিগতদিনে অনেক বড় ধরনের ভুল ভ্রান্তি এবং তার থেকে সঠিক শিক্ষা নিয়ে পরবর্তীতে কর্মসূচি সাজাতে না পারার কারণে বাম আন্দোলন এখনো সেই ক্ষতি পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি, তবে এ কথা ঠিক যে আমাদের দেশের রাজনৈতিক সংগ্রামের ইতিহাসে সকল প্রগতিবাদী তথা শিক্ষা আন্দোলন, স্বাধীনতা আন্দোলন, সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী আন্দোলন, সাম্প্রজ্যবাদ ও স্বৈরতন্ত্র বিরোধী আন্দোলনসহ সকল ক্ষেত্রেই বামপন্থীরা মূর্খ্য ভূমিকা পালন করেছিল। যদিও পরিণতিতে সাফল্য ধরে রাখতে পারেনি। আগামী দিনে বামপন্থী আন্দোলন বিকাশের একটা পরিবেশ ও সামাজিক চাহিদা বিশ্ব জুড়ে এবং আমাদের দেশের অভ্যন্তরে তৈরি হয়েছে। এতে আমরা আশাবাদী।
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরোর সদস্য বিমল বিশ্বাস বলেন- সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ, সাম্প্রজ্যবাদ এবং দেশি-বিদেশি শোষক শ্রেণীর যে কোনো অন্যায় পদক্ষেপের বিরুদ্ধে বামপন্থীদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ও জনগণের প্রতিরোধ গড়ে তোলা একান্তভাবে অপরিহার্য্য কর্তব্য। তিনি বলেন, বামপন্থীদের রাজনৈতিক বিরোধের নামে বুঝে না বুঝে জনগণের ন্যায্য আন্দোলনের ক্ষেত্রে ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ নেওয়া হলো দেশি-বিদেশি শোষক শ্রেণীর পক্ষেই যায়।