বোতলজাত পানি অস্বাস্থ্যকর!

61

যুগবার্তা ডেস্কঃ আমেরিকায় বেভারেজের রাজা বোতলজাত হচ্ছে বিশুদ্ধ খাবার পানি। যদিও দেশটির এক ডজনেরও বেশি কলেজের ক্যান্টিনে বোতলজাত পানি বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া আমেরিকার ২২টি ন্যাশনাল পার্কে বোতলের পানি বিক্রয় নিষিদ্ধ। আধা ডজন শহরও এই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তারপরও ২০১৫ সালে বোতলজাত বিশুদ্ধ পানি বিক্রি রেকর্ড গড়েছে।
বেভারেজ মার্কেটিংয় ইনক.-এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়, আমেরিকানরা বোতলজাত পানি খেতে পছন্দ করে। ২০১৫ সালে এই পানি খাওয়ার পরিমাণ ৭.৯ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৪ সালে বৃদ্ধি পায় ৭ শতাংশ।
গত বছরের হিসাব অবাক করে দেয়। প্রতিসপ্তাহে আধা লিটার মাপের ১.৭ বিলিয়ন বোতলের পানি পান করেছে মানুষ। সপ্তাহে প্রত্যেক নারী, পুরুষ এবং শিশুর জন্যে ৫টি করে বোতল প্রয়োজন হয়েছে।
গত বছর যাবতীয় পানীয় বিক্রির চেয়ে পানি বিক্রির হার তিন গুন বেশি ছিল। এর সঙ্গে বেশি বিক্রির তালিকায় রয়েছে কার্বোনেটেড সোডা। ২০০০ সালে প্রত্যেক আমেরিকান একবছরে ৫৩.৭ গ্যালন কার্বোনেটেড সোডা পান করেন। কিন্তু ২০১৫ সালে সোডা গ্রহণের পরিমাণ ৩৮.৯ গ্যালনে নেমে আসে। এদিকে, ২০০০ সাল থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে বোতলজাত পানি খাওয়ার পরিমাণ ১৬.৭ গ্যালন থেকে বেড়ে ৩৬.৪ গ্যালনে গিয়ে ঠেকেছে।
এর কারণ হিসাবে মানুষের মনের ভয়কে চিহ্নিত করেছেন অনেকে। বাসা-বাড়িতে সরবরাহকৃত পানির ওপর আর ভরসা করতে পারছেন না আমেরিকানরা। কার্বোনেটেড সোডা বিক্রি এতটাই কমে এসেছে যে, দেশের বড় বড় সোডা নির্মাতারা বোতলজাত পানির ব্যবসা শুরু করেছেন। কোকের ডাসানি ওয়াটার এবং পেপসির অ্যাকোয়াফিনা মিলেই দেশে বিক্রিকৃত বোতলজাত পানির ১১ শতাংশ বাজারজাত করে।
প্লাস্টিক বোতল এবং এর মধ্যকার পানি পরিবেশের জন্যে হুমকি হিসাবে তুলে ধরে দেশের বিভিন্ন কলেজে অ্যান্টি-বোটলড ওয়াটার ক্যাম্পেইন করা হয়। কিন্তু এই ক্যাম্পেইনগুলোর পরিধি এতটাই ছোট যে, এর সম্পর্কে কেউ কোনো তথ্যই পান না।
কার্বোনেটেড সোডা পানেরও নিরুৎসাহিত করা হয় ক্রেতাদের। ১২ আউন্সের এক ক্যান সোডায় ১৪০ ক্যালোরি এবং ৩৯ গ্রাম চিনি রয়েছে। এটি স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের কারণ বলে গণ্য করা হয়।
সোডার সঙ্গে কোকা-কোলা, পেপসি, মাউন্টেন ডিউ এবং ডায়েট পেপসি বা কোকের বিক্রিও কমেছে ৫.৬ শতাংশ। তবে বোতলজাত পানি বিক্রি যতটা বেড়েছে, তাতে করে একে পানীয় গ্রহণের নতুন ট্রেন্ড বলা যেতে পারে।
তবে ক্যাম্পেইন বা সচেতনতা বৃদ্ধিতে অন্যান্য আয়োজন ক্রেতার ক্রয়ের মনোভাব বদলায় না বলেই মনে হচ্ছে।নিউজওয়ার্ল্ডবিডি.কম