বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে জঙ্গিবাদের উত্থান রোধে প্রয়োজন গণতান্ত্রিক রাজনীতির চর্চা

যুগবার্তা ডেস্কঃ ‘বাঁচাও শিক্ষাঙ্গণ, বাঁচাও সুন্দরবন’ শ্লোগানকে সামনে রেখে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারাদেশে অব্যাহত জঙ্গিবাদের উত্থান ও সুন্দরবনবিনাশী রামপাল কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র চুক্তির প্রতিবাদে সমাবেশ করেছে ছাত্র ইউনিয়ন। আজ বিকালে ধানমন্ডি শংকরের প্রতিবাদ সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ সভাপতি আরেফিন মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক কফিল উদ্দীন মোহাম্মদ শান্ত’র সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক মশিউর সজীব, কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ সহ-সভাপতি জ্যোতির্ময় চক্রবর্তী, সহ-সভাপতি শাহাদাত হোসেন কিরণ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক সূর্য পলাশ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দপ্তর সম্পাদক প্রণব কান্তি মিস্ত্রি, ছাত্র ইউনিয়ন স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ধানমন্ডি ক্যাম্পাস শাখার আহ্বায়ক খন্দকার সুজাত সহ বিভিন্ন ছাত্র নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, আজকে সারাদেশে মাদ্রাসা, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে কিছু বিপথগামী তরুণ হিংসাত্মক জঙ্গিবাদী মতাদর্শের সাথে জড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু কিছু বিপথগামী তরুণের জন্য আজকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সামাজিক মানহানির শিকার হতে হচ্ছে।
বক্তারা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও বিপথগামী জঙ্গি সংশ্লিষ্ট তরুণ পাওয়া গেছে, কিন্তু বিশেষভাবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে সামাজিক মানহানির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এর অন্যতম কারণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্ধকারের প্রতিক্রিয়াশীল মতাদর্শের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল ছাত্র রাজনীতির একটি ধারা চলমান। যেই প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক চর্চার সুযোগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নেই। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। ক্ষমতাসীন সরকার জঙ্গিবাদের উত্থানের কারণে সমগ্র জাতি যখন নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শংকাগ্রস্ত তখন জনগণকে পাশ কাটিয়ে সুন্দরবনবিনাশী রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বাস্তবায়িত হলে সুন্দরবন ধ্বংস হয়ে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ অদূর ভবিষ্যতে স্থায়ী জলাবদ্ধতার শিকার হবে।
বক্তারা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল চর্চার আন্দোলনকে সংঘবদ্ধ করতে সাধারণ শিক্ষার্থীসহ প্রয়োজনে সকল প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনকে সংগঠিত করে কাজ করার আহ্বান জানান।