বেতন বোনাসের দাবিতে গার্মেন্টস শ্রমিকদের লাল পতাকা মিছিল

57

যুগবার্তা ডেস্কঃ ২০ রমজানের (২৬ জুন) মধ্যে শ্রমিকদের ঈদ বোনাস ও বেতন ভাতা পরিশোধ না করে আইন লংঘনকারী কারখানা মালিকদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবীতে আজ বৃহষ্পতিবার সকালে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ শেষে গার্মেন্টস শ্রমিক লাল পতাকা বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
মিছিল পূর্ব সমাবেশে শ্রমিক নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে গার্মেন্টস সহ সকল শিল্প প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের ঈদ বোনাস এবং বেতন ভাতা পরিশোধ করার জোর দাবী জানান। প্রায় অর্ধেকেরও বেশি গার্মেন্টস কারখানার মালিকরা সরকারী নির্দেশ অনুযায়ী ২০ রমজানের (২৬ জুন) মধ্যে ঈদ বোনাস ও বেতন ভাতা পরিশোধ করে নাই। শ্রমিক নেতৃবৃন্দ নির্দেশ লংঘনকারী কারখানার মালিকদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য সরকারের প্রতি দাবী জানান।
সমাবেশ শেষে একটি ‘গার্মেন্টস শ্রমিক লাল পতাকা মিছিল’ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুরানা পল্টন মোড়ে শেষ হয়। সমাবেশ ও র‌্যালীতে কয়েকশত শ্রমিক অংশ নেয়।
ফেডারেশনের সভাপতি আমিরুল হক্ আমিন এর সভাপতিত্বে এ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মিস শাফিয়া পারভীন, কেন্দ্রীয় নেতা মোঃ ফারুক খান, মিসেস আরিফা আক্তার, মোঃ রফিক, নাসিমা আক্তার ও মিসেস রানু বেগম ও নাজনীন আক্তার প্রমুখ।
সংহতি বক্তব্য : জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি ও ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরোর সদস্য জনাব কামরুল আহসান এবং একতা গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারন সম্পাদক কামরুল হাসান।
বক্তারা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, লক্ষ লক্ষ গার্মেন্টস শ্রমিক ঈদ বোনাস ও বেতন- ভাতা না পেয়ে গভীর হতাশায় পড়েছেন। তারা পরিবার পরিজন ও সন্তান সন্ততিদের নিয়ে ঈদ উৎসব পালন করতে পারবে কিনা জানে না। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ২০ রমজান (২৬ জুন) এর মধ্যে গার্মেন্টস সহ সকল শিল্প প্রতিষ্ঠানে ঈদ বোনাস এবং বেতন ভাতা পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছিলো। ২০ রমজান পার হয়েছে ৩ দিন আগে অথচ প্রায় অর্ধেকেরও বেশি গার্মেন্টস কারখানায় বেতন ভাতা এবং ঈদ বোনাস এখনও পরিশোধ করা হয় নাই যা শ্রম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অমান্য করার শামিল।
তাঁরা দৃঢ়তার সাথে বলেন, কারখানার মালিকরা হংকং, সিঙ্গাপুর ও ব্যাংককে ঈদ শপিং এবং আমোদ-প্রমোদে লিপ্ত থাকবে, আর শতকরা ৮১ ভাগ রপ্তানী আয় উপার্জনকারী গার্মেন্টস শ্রমিকরা টাকার অভাবে ঈদ করতে পারবে না এ অবস্থা মেনে নেওয়া যায় না।
নেতৃবৃন্দ সরকারী নির্দেশ অমান্যকারী কারখানার মালিকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবী জানান। সরকার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করলে, ভবিষ্যতে আর এ ধরনে অমানবিক পরিস্থিতি হবে না।