বেতন থেকে কর কর্তনের বিধিমালা জারি

যুগবার্তা ডেস্কঃ সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন থেকে উৎসে কর কর্তন সংক্রান্ত বিধিমালা জারি করেছে সরকার। এখন থেকে ঘোষিত বিধিমালা অনুযায়ী চাকরিজীবীদের বেতন থেকে উৎসে আয়কর কেটে রাখা হবে বলে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। সরকার রাজস্ব বাড়ানোর অংশ হিসেবেই এ কার্যক্রম গ্রহণ করেছে বলে সূত্র জানিয়েছে। সূত্র জানায়, আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা ১৬ ও প্রতিবছর জাতীয় সংসদ কর্তৃক অনুমোদিত অর্থ আইনের মাধ্যমে নির্ধারিত করমুক্ত আয়সীমা অতিক্রমকারী ব্যক্তিদের আয়ের ওপর আয়কর প্রযোজ্য। একইভাবে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও প্রাপ্ত বেতন-ভাতা উক্ত করমুক্ত সীমা অতিক্রম করলে আয়ের ওপর আয়কর দেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সরকার কর্তৃক প্রদত্ত মূল বেতন, উৎসব ভাতা ও বোনাসকে করযোগ্য আয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে এবং অন্যান্য ভাতাকে করমুক্ত করা হয়েছে। ফলে মূল বেতন, উৎসব ভাতা ও বোনাস বাবদ প্রাপ্ত মোট অংক নির্ধারিত করমুক্ত সীমা অতিক্রম করলে উক্ত অংকের ওপর কর দিতে হবে। উৎসে আয়কর কর্তন কী এবং কেন: আয়কর সংগ্রহ সারা বিশ্বের মতো প্রচলিত ব্যবস্থা হিসেবে বাংলাদেশেও উৎসে আয়কর কর্তন বা সংগ্রহ কতিপয় ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ পদ্ধতিতে অর্থ পরিশোধকালেই প্রযোজ্য হারে আয়কর কর্তন করা হয় এবং কর্তিত কর পরবর্তী আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় প্রদেয় করের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিলের সময় অতিরিক্ত আয়কর পরিশোধ করতে হয় অথবা আয়কর প্রত্যর্পন সৃষ্টি হয়। করযোগ্য আয়ের সীমা ও ন্যুনতম আয়কর: অর্থ আইন, ২০১৬ অনুযায়ী একজন পুরুষ ও মহিলা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা যথাক্রমে ২ লাখ ৫ হাজার টাকা এবং ৩ লাখ টাকা। ফলে বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী, ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদকালে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রাপ্ত মূল বেতন, উৎসব ভাতা ও বোনাসের যোগফল মোট করযোগ্য আয় হিসেবে বিবেচিত হবে। এর ফলে যার বেতন বার্ষিক আড়াই লাখ টাকা তাকে কোনও আয়কর দিতে হবে না। ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের ওপর ১০ শতাংশ, ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ১৫ শতাংশ, ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত ২০ শতাংশ ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত ২৫ শতাংশ এবং অবশিষ্ট মোট আয়ের ওপর ৩০ শতাংশ হারে আয়কর দিতে হবে। ন্যুনতম আয়করের পরিমাণ: এলাকাভিত্তিতে বিভিন্ন এলাকায় ন্যুনতম আয়করের পরিমাণ ভিন্ন। এর মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় ৫ হাজার টাকা এবং অন্যান্য সিটি করপোরেশন এলাকায় ৪ হাজার টাকা। সিটি করপোরেশন ছাড়া অন্যান্য এলাকায় ন্যুনতম আয়করের পরিমাণ ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আয়কর কর্তন ও সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার পদ্ধতি: অর্থবছরের শুরুতে ড্রয়িং অ্যান্ড ডিসবার্সিং অফিসার (ডিডিও) নিজের বা অধঃস্তন কর্মচারীদের সম্পূর্ণ বছরের সম্ভাব্য মূল বেতন, উৎসব ভাতা এবং বোনাস বাবদ প্রাপ্য অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করবেন এবং মোট করযোগ্য আয় নিরূপণ করবেন। নিরূপিত করযোগ্য আয়ের ওপর অর্থ পরিশোধকালীন করবর্ষের জন্য প্রযোজ্য হারে আয়কর পরিগণনা করবেন এবং তা থেকে বিদ্যমান হারে কর রেয়াত বাদ দিয়ে নীট প্রদেয় করের পরিমাণ নির্ধারণ করবেন। এ ক্ষেত্রে ১০ লাখ টাকা আয় হলে এর ওপর সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশের ওপর ১৫ শতাংশ হারে এবং পরবর্তী ২০ লাখ টাকা আয়ের ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ বিনিয়োগের ওপর ১২ শতাংশ হারে বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তা বা কর্মচারী কেউ ব্যক্তিগত গাড়ির মালিক হলে গাড়ির ফিটনেস নবায়নকালে পরিশোধকৃত অগ্রিম আয়কর বাদ দিয়ে নীট প্রদেয় করের পরিমাণ নিরূপণ করবেন। এ পদ্ধতিতে নিরূপিত নীট প্রদেয় কর ১২ দিয়ে ভাগ করে মাসিক প্রদেয় করের পরিমাণ নির্ধারণ করে প্রতি মাসের বেতন বিলে উক্ত পরিমাণ অর্থ কর পরিশোধ হিসেবে বাদ দিয়ে নীট প্রাপ্য বেতন ভাতার পরিমাণ নিরূপণ করে বেতন বিল প্রণয়ন করবেন। সংশ্লিষ্ট সার্কেলের উপ-কর কমিশনারের কাছ থেকে প্রত্যয়নপত্র গ্রহণ সাপেক্ষে অর্থবছরের অবশিষ্ট সময়ে কর কর্তন না করা বা কম হারে কর কর্তন করা যাবে। বেতন বিল থেকে কর্তিত আয়কর সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ দপ্তর আয়কর আইনের ৫০(বি) দারা ও আয়কর বিধিমালা, ১৯৮৪ এর বিধি ১৮ এ অনুযায়ী পরবর্তী ৩১ জুলাই এর মধ্যে নির্ধারিত ফরমে সনদ দেবে।