মোংলা থেকে মোঃ নূর আলমঃ দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ আঞ্চলিক খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার এবং জাহাজ হতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে খাদ্যশস্য খালাসের মাধ্যমে অপচয় হ্রাস করার উদ্দ্যেশ্যে বাংলাদেশ সরকার এবং জাপানের জেডিসিএফ’র যৌথ অর্থায়নে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মোংলা বন্দরের জয়মমনিরঘোলে জেটিসহ ৫০ হাজার মেট্রিক টন ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন সাইলো কমপ্লেক্সের নির্মান কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ২৭ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। এর আগে ১৩ নভেম্বর ২০১৩ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস জানান ভিড্ওি কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৭ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় মোংলা বন্দরের জয়মনিরঘোলে জেটিসহ ৫০ হাজার মেট্রিক টন ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন সাইলো কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করবেন। মোংলা সাইলো নির্মান প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার বিমল ভূইয়া জানান আনুষঙ্গিক স্থাপনাসহ এ প্রকল্পে মোট ব্যয় হয়েছে ৫৭৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের ৩৭৭ কোটি টাকা এবং বাকী ২০০ কোটি দিয়েছে জেডিসিএফ। খাদ্য মন্ত্রনালয়ের উদ্যোগে এবং খাদ্য অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে এ প্রকল্পের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান হচ্ছে বাংলাদেশের ’তমা কনস্ট্রাকশন এ্যান্ড কোম্পানী লিঃ’ এবং ভিয়েতনামের ’স্লিপফরম কর্পোরেশন’।
খাদ্য অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মোঃ মেহেদী হাসান বলেন মোংলা সাইলোর কার্যক্রম চালু হলে দক্ষিণাঞ্চলে খাদ্য ব্যবস্থাপনায় গতি আসবে। এতোদিন শুধু মাত্র চট্টগ্রাম সাইলোর মাধ্যমে যান্ত্রিক উপায়ে খাদ্য খালাস করা হতো। এখন মোংলা সাইলোর মাধ্যমে যান্ত্রিক এবং বৈজ্ঞানিক উপায়ে অতি সহজে খাদ্য খালাস করা সম্ভব হবে।
সাইলো প্রকল্প বিষয়ে জানতে চাইলে মোংলা উপজেলা আ্ওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মোঃ ইব্রাহিম হোসেন বলেন মোংলার জয়মনিতে ৫০ হাজার মেট্রিক টন ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন যে সাইলো নির্মিত হয়েছে এটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এটি চালু হলে বেকার ছেলে-মেয়েদের কর্মসংস্থানের যোগান দেবে। আধুনিক এবং যান্ত্রিক খাদ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উন্নয়নকে তরান্বিত করবে।
মোংলা বন্দর ব্যবহারকারী এইচ এম দুলাল বলেন মোংলা বন্দরের জয়মনিরঘোলে ৫০ হাজার মেট্রিক টন ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন সাইলো নির্মান হ্ওয়ার ফলে গমের জাহাজ আসলে আগে যে জটিলতা সৃষ্টি হতো এখন তা হবে না। ফুডের জাহাজ আসলে আগে ৭/১০ দিন লাইটারেজের অভাবে পড়ে থাকতো। এখন জাহাজ সরাসরি সাইলোর গায়ে ভীড়ে পন্য খালাস করে চলে যেতে পারবে। এতে বন্দর ব্যবহারকারীরা উপকৃত হবে।
তমা কনস্ট্রাকশন এ্যান্ড কোঃ লিঃ এর সাইড ইঞ্জিনিয়ার সিফাত উল্লাহ জানান সাইলো প্রজেক্ট’র কাজ শেষ হয়েছে। সিভিল, মেকানিক্যাল এবং ইলেক্ট্রিক্যাল কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। এখন উদ্বোধন করলে খাদ্য অধিদপ্তর অপারেশনে যেতে পারে।
খাদ্য মন্ত্রনালয় সূত্রে জানা গেছে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে এটিই হচ্ছে প্রথম সাইলো প্রকল্প। দেশের আমদানীকৃত খাদ্য পণ্যের ৬০% চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে এবং ৪০% মোংলা বন্দরের মাধ্যমে খালাস করা হয়ে থাকে। চট্টগ্রাম বন্দরে স্বাধীনতার পূর্বে সাইলো নির্মিত হল্ওে মোংলা বন্দরে কোন সাইলো ছিলো না। যে কারনে চট্টগ্রাম বন্দরে স্বয়ংক্রিয় ভাবে খাদ্য শস্য খালাস ্ও সংরক্ষণের সুবিধা থাকল্ওে এতোদিন মোংলা বন্দরে তা ছিলো না। এ কারনে দীর্ঘদিন যাবত মোংলা বন্দর এলাকায় একটি সাইলো নির্মানের জন্য প্রচেষ্টা নেয়া হয়। এ লক্ষ্যে আ্ওয়ামীলীগ সরকারের ৯৬ মেয়াদকালে মোংলা বন্দরে সাইলো নির্মানের জন্য সমীক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। পরবর্তী সরকার সমীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী সাইলো নির্মানের জন্য আর কোন পদক্ষেপ গ্রহন করে নাই। আ্ওয়ামীলীগ পুনরায় সরকার গঠনের পর সমীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়।
খাদ্য অধিদপ্তর মনে করে সাইলো নির্মান প্রকল্প বাস্তবায়ণের ফলে সহ¯্রাধিক দক্ষ ও অদক্ষ জনবলের কর্মসংস্থান হবে পাশপাশি টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি জোরদারকরন, মোংলা বন্দরে খাদ্যশস্যের দ্রুত খালাস নিশ্চিত করা, সঠিক ্ওজন নিশ্চিত করা, দেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে খাদ্যশস্য বিতরনের সুবিধা বৃদ্ধি করা, মোংলা বন্দরে খাদ্যশস্যের ঘাটতি কমিয়ে আনা এবং ঘূর্ণিঝড়প্রবন এলাকায় নিরাপদ খাদ্য মজুদকরন সুবিধা সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।