বিমানবন্দর নিরাপত্তায় জিরো টলারেন্সের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

67

যুগবার্তা ডেস্কঃ দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জিরো টলারেন্স দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কেউ অবৈধভাবে বিমানবন্দরে প্রবেশের চেষ্টা করলে বা প্রবেশ করলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (০৭ ডিসেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে অনির্ধারিত এক আলোচনায় তিনি এ নির্দেশ দেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৈঠক শেষে একাধিক মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা ‍যায়।

বৈঠক সূত্র বাংলানিউজকে জানায়, বেসরকারি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বিমানবন্দরে নিরাপত্তার বিষয়টি বৈঠকে তোলেন।

এ সময় রাশেদ খান মেনন বলেন, অনেক সময় ভিআইপিদের আসা-যাওয়াকে কেন্দ্র করে অনেক লোকজন বিমানবন্দরে ঢুকে পড়ে। এতে বিমানবন্দরের নিরাপত্তার সমস্যা হয়। কোনো কোনো দেশ বিমানবন্দরের নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলে ফ্লাইট বাতিলের কথা বলছে।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে হবে। এ ব্যাপারে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।

তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, বিমানবন্দরের নিরাপত্তার ব্যাপারে জিরো টলারেন্স দেখাতে হবে। অবৈধভাবে যারা প্রবেশ করবে আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদেরকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। আইনে যা আছে তার বাইরে যেন কেউ জোর করে কিছু করতে না পারে। আইন যে ব্যবস্থা নিতে বলে সেই ব্যবস্থাই নেবেন।

এ সময় অন্যান্য দুই একজন মন্ত্রীও আলোচনায় অংশ নেন।

বৈঠকে পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজের অগ্রগতি ও সেতু নির্মাণ নিয়ে বিশ্ব ব্যাংকের দুর্নীতির অভিযোগের বিষয় নিয়েও আলোচনা হয় বলেও জানা গেছে।

বৈঠক সূত্র আরও জানায়, বৈঠকে আগামী ১২ ডিসেম্বর পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের প্রসঙ্গটি উঠলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পদ্মা সেতুর কাজ আরও আগেই শুরু হয়ে যেতো। কাজ অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার কথা কিন্তু বিশ্বব্যাংক এখানে দুনীতি খোঁজে। একে সরিয়ে দিতে হবে ওকে সরিয়ে দিতে হবে দাবি তোলে। আমার পরিবারকে জড়ানোর চেষ্টা করে। মামলা করে তারা কোনো অভিযোগ পায়নি। আসলে উদ্দেশ্য ছিলো আমাকে, আমার পরিবারকে জড়ানোর। আমরা এখন নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করতে যাচ্ছি এটাই আমাদের সফলতা।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রীদের উদ্দেশ্যে আরও বলেছেন, আমাদের অনেক সফলতা আছে। আমাদের এই সরকারের আর তিন বছর সময় আছে। আপনারা যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। যে সব প্রকল্প রয়েছে সেগুলো কাজ যাতে ভালোভাবে শেষ হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন। নিজেরা দায়িত্ব নিয়ে তদারকি করবেন। শুধু প্রকল্প নিলেই হবে না প্রকল্পের কাজগুলো যাতে সুন্দরভাবে হয় সে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

এছাড়া বৈঠকে বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে পাকিস্তানি ও তাদের দোসরদের অত্যাচার নির্যাতন, গণহত্যার চিত্র ভালোভাবে তুলে ধরা উচিত বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছি, কেন করছি এর যৌক্তিকতা তুলে ধরতে হবে। আমাদের মিডিয়াগুলোর এ ব্যপারে যথেষ্ট দায়িত্ব রয়েছে। তারা ৭১ এ কি করেছিলো তা ভালোভাবে মিডিয়াতে তুলে ধরা উচিত। বাংলা নিউজ২৪.কম