বিপর্যয়ের শঙ্কা ঈদযাত্রায়

34

যুগবার্তা ডেস্কঃ সব কিছু ঠিকঠাক থাকলেও ঈদযাত্রায় বাস, ট্রেন ও নৌপথে বিপর্যয়ের শঙ্কা রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক-মহাসড়ক চলাচল উপযোগী করা সম্ভব হলেও দ্রুত গতিতে চলতে পারবে না যানবাহন। ফলে যানজট বাড়বে। রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ট্রেন এবং নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে নৌযানও চলতে পারবে না স্বাভাবিক গতিতে। এমনই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন সড়ক বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক মো. শামসুল হক। তিনি বলেছেন, ‘এবারে বন্যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অতিবৃষ্টি। গত চার দশকে সড়ক-মহাসড়কে এটি দ্বিতীয় দফা বিপর্যয়। প্রথম বিপর্যয় ঘটেছিল ১৯৮৮ সালে।’

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে এরই মধ্যে সড়কে ঘরমুখো মানুষের ভিড় বেড়েছে। সেই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বড় শহরগুলোতে বেড়েছে গরুবাহী গাড়ির চাপ। চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে এই গাড়ির সংখ্যা আরো বাড়বে। বাড়ি ফেরা মানুষের জন্য এবার দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সড়কপথ। গত এপ্রিল থেকে টানা বৃষ্টিতে সড়ক-মহাসড়কে তৈরি হয়েছে খানাখন্দ। আর ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষের মূল সে াত তৈরি হওয়ার আগেই সড়ক সংস্কারের তোরজোড় চলছে। বাতিল করা হয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নিজেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে তদারকি করছেন সংস্কার কাজ; কিন্তু যানজটের হাত থেকে রেহাই মিলছে না। চার দশকে দ্বিতীয় দফা বিপর্যয়: সড়ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মো. শামসুল হক বলেন, গত সাড়ে চার দশকে সব চেয়ে বেশি ভয়াবহ ছিল ১৯৮৮ সালের বন্যা। পানি না নামার কারণেই বন্যা হয়েছিল; কিন্তু এবারের বিষয়টি ভিন্ন। পানির ঢলের পাশাপাশি অতিবৃষ্টি হয়েছে। আমাদের দেশে বৃষ্টি হলেই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। আমাদের সব সড়কই বিটুমিনের। জলাবদ্ধতার কারণে বিটুমিন চলে গিয়ে সড়কে তৈরি হয়েছে খানাখন্দ। অপরদিকে অনেক রেল ব্রিজের মাটি সরে গেছে। ভেঙে গেছে লাইন। এর ফলে ট্রেনও তার স্বাভাবিক গতির চেয়ে ধীরে চলবে। এছাড়া নৌপথে রয়েছে তীব্র সে াত। এ কারণে নৌযানও স্বাভাবিক সার্ভিস দিতে পারবে না। সে হিসেবে তিন মাধ্যমেই (ট্রেন, বাস ও নৌপথ) দ্রুত গতিতে গন্তব্যে যেতে পারবে না মানুষ।

এক প্রশ্নের জবাবে বুয়েট অধ্যাপক বলেন, আমাদের মতোই গ্রীষ্মপ্রধান দেশ মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন। আমাদের উপরের দিকের দেশ। সেখানে আমাদের চেয়ে প্রচুর বৃষ্টি হয়; কিন্তু তারা মহাসড়কগুলোকে কংক্রিটের রাস্তা বানিয়ে ফেলেছে। তাদের মহাসড়কের আশেপাশে ভূমি ব্যবস্থা এমন যাতে পানি জমতে পারে না; কিন্তু আমাদের রাস্তাগুলো বিটুমিনের তৈরি। আমরা যদি পানি জমতে না দিতাম, ওভারলোডিং না করতাম তাহলে আমাদের রাস্তা দীর্ঘস্থায়ী হতো। এর উপর আমাদের এখানে রাস্তাগুলো মানসম্পন্ন করে তৈরি করা হয় না। তিনি আরো বলেন, আমাদের ঝামেলা অনেক; কিন্তু দেখভাল করার মতো অভিভাবক নেই। সেই কারণেই কিন্তু আমাদের এই প্রায়শ্চিত্ত করতে হচ্ছে।

সোহাগ পরিবহনের এমডি ও বাস ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি ফারুক তালুকদার সোহেল বলেন,

ঢাকায় রেললাইনে ক্রটি, ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত: আগাম টিকিট নেওয়া যাত্রীদের ঈদযাত্রার প্রথম দিন গতকাল রবিবার অধিকাংশ ট্রেনের যাত্রা বিলম্বিত হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গতকাল সকাল সাড়ে ৬টার দিকে নোয়াখালী এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার পর স্টাফ রোডে (ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন ও তেজগাঁও স্টেশনের মাঝামাঝি) লাইনের একটি অংশ ভেঙে যায়। এ কারণে কমলাপুর স্টেশন থেকে ট্রেন ছেড়ে যেতে বিলম্ব হয়।

কমলাপুর রেলস্টেশনের ম্যানেজার সীতাংশু চক্রবর্তী বলেন, সকাল সাড়ে ৮টার পর থেকে এ সমস্যা দেখা দেয়। তবে সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক ছিল। সে সময় পর্যন্ত ১৮টি ট্রেন স্টেশন ছেড়ে যায়। পরে সকাল পৌনে ১১টার দিকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

রেল সচিব মোফাজ্জল হোসেন জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন মেরামত করা হয়েছে। আশা করি আর কোনো সমস্যা হবে না। তিনি জানান, গতকাল পার্বতীপুর-দিনাজপুর, মেলান্দহ-দেওয়ানগঞ্জ, জামালপুর-তারাকান্দি রুটে রেল যোগাযোগ শুরু হয়েছে। তবে পঞ্চগড় রুট চালু হতে কিছুটা সময় লাগবে।-ইত্তেফাক