বিপদসীমা ছুঁই ছুঁইঃ বাড়ছে শঙ্কা, ফুলছে পদ্মা

রাজশাহী অফিসঃ আরো ফুলে ফেঁপে উঠেছে রাজশাহীর পদ্মা। পদ্মার পানি বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। প্রতি তিন ঘণ্টায় এক থেকে দুই সেন্টিমিটার করে পানি বাড়ছে। পানি এভাবে বাড়তে থাকলে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় রাজশাহীতে পদ্মা বিপদসীমায় পৌঁছাবে। রাজশাহীতে পদ্মার বিপদসীমা ১৮ দশমিক ৫০ মিটার।

শুক্রবার সন্ধ্যায় পদ্মায় প্রবাহ ছিলো ১৮ দশমিক ৩৩ মিটার। রাত ৮ টায় প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ৩৪ মিটারে। এর আগে সকাল ৬টায় প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ১৮ দশমিক ২৬ মিটার।

রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের বড়কুঠি গেজ পাঠক শহিদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সকালের দিকে পানির প্রবাহ বাড়ছিলো দ্রুতই। প্রথম তিন ঘণ্টায় প্রবাহ বেড়েছে ২ সেন্টিমিটার। এরপর থেকে প্রতি দিন ঘণ্টায় এক সেন্টিমিটার করে প্রবাহ বাড়ছে। বিপদসীমার মাত্র ২০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পদ্মা।

তবে সোমবারের আগেই রাজশাহীতে পদ্মা বিপদসীমায় পৌঁছাবে বলে জানিয়েছেন রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি বিজ্ঞান প্রকৌশল বিভাগের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী এসএম আলী মর্ত্তুজা। তিনি জানান, শনিবার রাতেই পদ্মায় প্রবাহ বিপদসীমায় পৌঁছাবে। ফারাক্কা খুলে দেয়ার পদ্মায় এ পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে।
বিপদসীমা অতিক্রমের পর শহর রক্ষা বাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ হলে বা বাঁধে কোনো গর্ত থাকলে এসব পয়েন্ট দিয়ে পানি শহরে পানি প্রবেশ করতে পারে। তবে যমুনায় পানি কম থাকায় তা দ্রুতিই নেমে যাবে বলে আশাবাদী এ প্রকৌশলী।

পরিস্থিতি নীবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ চলছে বলে জানিয়েছেন রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমান। তিনি জানান, তারা শহর রক্ষা বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোয় সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন। প্রবাহ ১৮ মিটার অতিক্রমের পর থেকেই এনিয়ে সতর্ক তারা। তাদের তালিকায় রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধের অন্তত: পাঁচটি পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ।

লোকজনকে সতর্ক করতে এসব পয়েন্টে লাল পতাকা টাঙিয়ে দেয়া হয়েছে। শহর রক্ষা বাঁধের উচ্চতা ১৯ দশমকি ৬৭ মিটার। ফলে বিপদসীমা অতিক্রম করলেও শহরে পানি প্রবেশের আশঙ্কা নেই। বাঁধের কোন অংশ ক্ষতিগ্রস্থ হলে দ্রুত তারা ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান নির্বাহী প্রকৌশলী।

এদিকে, নগরীর পুলিশ লাইন এলাকায় দুটি স্থানীয় পদ্মার তীর রক্ষা প্রকল্প সামান্য দেবে গেছে। শহর রক্ষা বাঁধ থেকে এ পয়েন্টের দূরুত্ব প্রায় ২০০ মিটার। এতে হুমকিতে পড়েছে বাঁধের ওই অংশ। তবে এনিয়ে কোন আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী রুহুল আমীন। তিনি বলেন, ২০০৩ সালের বাঁধের ওই অংশ দেবে গিয়েছিলো। এরপর থেকে ওই অবস্থায় রয়েছে। তারা বিষয়টি দেখভাল করছেন।

পদ্মায় অব্যহত পানি বাড়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। বিশেষ করে রাজশাহী শহরে পশ্চিমাংশ, পবা ও বাঘা উপজেলার পদ্মা তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন। এরই মধ্যে রাজশাহী শহরের ওপারে ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষা বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা বিলীন হয়েছে পদ্মায়।

অবশিষ্ট অংশেও দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। এসব এলাকায় দেখা দিয়েছে বন্যা। তলিয়ে গেছে শহরের জিয়ানগর ও পঞ্চবটির চরাঞ্চল, জেলার চারঘাট ও গোদাগাড়ী উপজেলার নিচু এলাকা। আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছে সবস্ব্য হারানো মানুষ। নেই পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তাও।

তবে দুর্গতের পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী আশরাফ উদ্দিন। তিনি বলেন, দুর্গত এলাকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা বিষয়টি দেখভাল করছেন।

এছাড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানগণ দুর্গত এলাকায় যাচ্ছেন। তাদের দেয়া তালিকা ধরে বিতরণ করা হচ্ছে ত্রাণ। পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুদও রয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।