বিদ্রোহী কবির ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

যুগবার্তা ডেস্কঃ বিদ্রোহী ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪০তম প্রয়াণ দিবস আজ । তিনি মানব মুক্তির জন্য বিদ্রোহ করেছেন বলে তার যাপিত জীবনের অভিধা অনেক সময় বিদ্রোহ ছাড়িয়ে প্রেমের কবির অভিধায় অভিহীত হন।

বাঙালির অকৃ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া।

কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানী ঢাকা, কবির স্মৃতিধন্য ময়মনসিংহের ত্রিশালসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পালিত হচ্ছে নানা কর্মসূচি।

আজ সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশে কবির সমাধিতে ফুলেল শ্রদ্ধা জানাচ্ছে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন, কবির ভক্ত ও অনুরাগীরা। এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও রাজনৈতিক দল নানা কর্মসূচি পালন করবে। এর মধ্যে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

বাংলাদেশ বেতার, টেলিভিশন ও বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে সন্ধ্যা ৬টায় আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে।

রবিবার বিকেল ৪টায় বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে নজরুল বিষয়ক একক বক্তৃতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
শরীরী পদচারণা না থাকলেও শিল্প-সাহিত্যের নানা শাখায় আজও কাজী নজরুল ইসলামের ‘উন্নত মম শির’। তাই কাজী নজরুল ইসলাম এখনও প্রাসঙ্গিক।

কবির জীবনকাল ৭৭ বছরের। ১৯৪২ সালে অসুস্থ হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি সৃষ্টিশীল ছিলেন। এ সময়ের মধ্যে কবি শিল্প-সাহিত্যকে যা দিয়েছেন তা এক বাংলা তথা বিশ্ব পরিম-লেই অমূল্য সম্পদ।

১৮৯৯ সালের ২৫ মে (১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কবি নজরুল।

দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত হয়েও তিনি কখনও আপস করেননি লোভ-লালসা, খ্যাতি, অর্থ-বিত্ত ও বৈভবের কাছে। শোষিত-বঞ্চিত মানুষের মুক্তির জন্য আজীবন তিনি সংগ্রাম করে গেছেন।

মানবতার মুক্তির পাশাপাশি সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার, কূপম-ুকতার বিরুদ্ধেও তিনি সোচ্চার ছিলেন। ভালোবাসা, মুক্তি এবং বিদ্রোহ ইত্যাদি বিষয় তার সাহিত্যকর্মে প্রাধান্য পেয়েছে। তিনি ছিলেন একাধারে কবি, সাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ এবং সৈনিক।কবির জীবনের শেষ দিনগুলো কাটে তৎকালীন পিজি হাসপাতালে। ৭৭ বছর বয়সে সেখানেই ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট (১২ ভাদ্র) তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।