বিদেশি কর্মীদের দেশে ফিরে যেতে হবে না

25

ফজলুল বারীঃ “নয়া ভিসা নীতি চালু হলে সব বিদেশি কর্মীদের দেশে ফিরে যেতে হবে না। মার্কিন মুলুকে বিজ্ঞান, গণিত, প্রযুক্তি বা কারিগরি শিক্ষায় ডক্টরেট অর্জন করে থাকলে, সেখানে নিশ্চিন্তে কাজ করা যাবে। মার্কিন কংগ্রেসের অধিবেশনে এই মর্মেই এইচ–ওয়ানবি ভিসার সংশোধনী প্রস্তাব পেশ করল ট্রাম্প সরকার। সেটি পাস হলে ভারতীয়রাই বেশি লাভবান হবেন। কারণ এই মুহূর্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠরত বিদেশি পড়ুযাদের মধ্যে, সবথেকে বেশি সংখ্যক ভারতীয় পড়ুয়াই পিএইচডি করছেন। আমেরিকায় প্রশিক্ষিত পিএইচডিদের দেশের অর্থনীতিতে টিকিয়ে রাখা আইনের (‌‌স্টেপল)‌ আওতায় মার্কিন সেনেটে প্রস্তাবটি দিয়েছেন কংগ্রেসের এরিক পলসেন এবং মাইক কুইগলি। এরিক পলসেন বলেছেন, ‘‌উচ্চশিক্ষার জন্য গোটা পৃথিবীর মানুষ মার্কিন মুলুকে ভিড় জমান তাতে কোনও সন্দেহ নেই। এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে তাঁরা নিজের দেশে ফিরে যাবেন এমনটা তো হয় না। এভাবে সকলকে ফেরত পাঠালে আমাদের গবেষণা এবং উন্নত প্রযুক্তি তৈরির পথে বাধা সৃষ্টি হবে। উন্নত শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ দিয়ে আমরাই যখন তৈরি করছি, তখন নিজেদের অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য ওই সমস্ত দক্ষ কর্মীকে কাজে লাগানো উচিত। গোটা বিশ্বে যে হারে প্রতিযোগিতা চলছে, তাতে যোগ্য ব্যক্তিদের প্রাপ্য সম্মান দিলে মার্কিন অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাবই পড়বে।’‌ তাঁর মতে, ‘এইচ–ওয়ানবি ভিসা চালু হলে ‌বহু মার্কিন সংস্থায় হাজার হাজার শূন্যপদ তৈরি হবে। তখন দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন পড়বে। স্টেপল আইনের মাধ্যমেই সেগুলি পূরণ করা যাবে। সুদক্ষ এবং প্রশিক্ষিত কয়েকজনকে গ্রিনকার্ড এবং ভিসা দিলে উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে তাঁরা যদি নতুন নতুন আবিষ্কার করেন তাতে আমাদেরই লাভ। দেশের অর্থনীতির আরও মজবুত হবে।’‌ কর্মক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার সপক্ষে গত বছর নির্বাচনী প্রচারের সময়ই হুঙ্কার ছেড়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বছর জানুয়ারি মাসে ক্ষমতায় এসেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে উঠেপড়ে লাগেন তিনি। বিদেশি কর্মী নিয়োগ করতে গেলে দ্বিগুণ বেতন দিতে হবে বলে নির্দেশ জারি করেন। এতে সমস্যায় পড়েন সেখানে কর্মরত লক্ষ লক্ষ বিদেশি নাগরিক। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন এরিক পলসেন এবং মাইক কুইগলি। ২০১১ সালে ‘‌আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট’‌–এর একটি সমীক্ষা তুলে ধরে বলেন, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, গণিত এবং কারিগরি ক্ষেত্রে মার্কিন ইউনিভার্সিটি থেকে প্রশিক্ষিত ১০০ জন অতিরিক্ত পিএইচডি কর্মী থাকলে, ওই একই ক্ষেত্রে প্রায় ২৬২ মার্কিন কর্মী রয়েছেন।”