বিদেশিদের কাছে কান্নাকাটি করে কোনও লাভ নেই: খালেদাকে হাসিনা

যুগবার্তা ডেস্কঃ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাক্ষাতের দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বিদেশি কোনও অতিথি এলেই দেখা করে গণতন্ত্র নেই বলে নালিশ করে আসে। গণতন্ত্রের ডেফিনেশন (সংজ্ঞা) কী, বলতে পারে কিনা আমার সন্দেহ। গণতন্ত্র বানান করতে পারবে কিনা, তা নিয়েও সন্দেহ আছে।’
শনিবার গণভবনে দলের জাতীয় কমিটির এক সভার শুরুতে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বিএনপিকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘বিদেশিদের কাছে কান্নাকাটি করে কোনও লাভ নেই। আমরা দেশের উন্নয়ন করে যাচ্ছি, উন্নয়ন করে যাবো।’
তিন দশক পর চীনের কোনো প্রেসিডেন্ট হিসেবে বাংলাদেশ সফর করে যাওয়া শি জিনপিংয়ের সঙ্গে শুক্রবার বিকালে তার হোটেল স্যুটে গিয়ে দেখা করেন খালেদা জিয়া।
এই সাক্ষাৎ দিয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের জনগণকে ‘বিশেষ বার্তা’ দিয়ে গেছেন বলে মনে করছে বিএনপি।
দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন দুপুরে এক অনুষ্ঠানে বলেন, “এটা পরিস্কারভাবে এদেশের জনগণকে চীনের প্রেসিডেন্ট এই মেসেজ (বার্তা) দিয়ে গেলেন যে, এই পার্লামেন্ট (দশম) যেহেতু নির্বাচিত পার্লামেন্ট নয়, এই পার্লামেন্টে জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধি বা বিরোধী দল নেই।
“সেজন্য বিরোধী দলকে মহামান্য চীনের রাষ্ট্রপতি কোনো গুরুত্ব দিলেন না। দিলেন কাকে? দেশের ১৬ কোটি মানুষের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে।”
সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির বৈঠকের শুরুতে তার ওই বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, “তারা (বিএনপি) কোন গণতান্ত্রিক পথে তৈরি? তারা কোন গণতন্ত্রের কথা বলেন?
“অবৈধভাবে যারা ক্ষমতায় এসেছে, জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে, যুদ্ধাপরাধী এবং বঙ্গবন্ধুর খুনিদের মদদ দিয়েছে, পুরস্কৃত করেছে; তাদের মুখ থেকে আবার গণতন্ত্রের ছবক শুনতে হয়। এর থেকে দুঃখের আর কী আছে?”
‘জনরোষের মুখে যাদের পদত্যাগ করতে হয়, তাদের মুখ থেকে ছবক শুনতে হবে?-এ প্রশ্ন তুলে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ১৫ দিনের মাথায় তারা (বিএনপি সরকার) পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিল।
“সেই নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দল অংশ নেয় নাই, শুধু বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের দল ফ্রিডম পার্টি অংশ নেয়।”
শেখ হাসিনা বলেন, “১৯৭৫ এর ১৫ অগাস্ট জাতির পিতাকে হত্যা করার পর সংবিধান লংঘন করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে জিয়াউর রহমান। তারপর সেনাপ্রধান হয়, সেনাপ্রধান থেকেই সেনাবাহিনীর নিয়ম অমান্য করে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীর হাতে গড়ে ওঠা সংগঠন হচ্ছে বিএনপি।”
আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের যে অভিযোগ বিএনপি করে আসছে তা নাকচ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশে গণতান্ত্রিক অধিকার আছে বলেই আজকে মানুষ খাদ্য নিরাপত্তা পাচ্ছে, মানুষের জীবনমান উন্নত হচ্ছে, ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, দারিদ্র্যের হার হ্রাস পেয়েছে, অবকাঠামোর উন্নতি হচ্ছে, এমনকি আমরা নিজের টাকায় পদ্মাসেতু নির্মাণও করছি।”
বিএনপির হরতাল-অবরোধে সহিংসতায় প্রাণহানির প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, “জানি না বাংলাদেশের মানুষ ইতিহাস ভুলে গেছে কি না- যারা ভোট চুরি করে ক্ষমতায় বসল, গণরোষে থাকতে পারে নাই, পদত্যাগে বাধ্য হয়েছে; অথচ ২০১৪ সালের নির্বাচনে তারা আসল না, নির্বাচনে না এসে শিশু থেকে শুরু করে শত শত মানুষ পোড়ালো, জাতীয় সম্পদ নষ্ট করল- এটাই নাকি তাদের আন্দোলন।”
যারা একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানিয়ে ‘লাখো শহীদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করেছে’ তাদের বিচার বাংলার মাটিতে হওয়া উচিত বলে মন্তব্যে করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যুদ্ধাপরাধীদের মদদদাতা, এদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলেছে, যারা মানুষের ধনসম্পদ লুট করেছেতাদের বিচার অবশ্যই বাংলার মাটিতে হবে।
“কাজেই যতো কান্নাকাটি বিদেশিদের কাছে করুক, ওতে লাভ নেই।”
বিএনপি নেতৃত্বের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “যারা এতিমের টাকা লুট করে খায়, মানি লন্ডারিং করে, মানুষ পুড়িয়ে মারে, এদেশের মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে, যুগ যুগ ধরে প্রত্যাখ্যান করবে।”