বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের সমালোচনার মুখে মোদী

53

যুগবার্তা ডেস্কঃ বিহারের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর দলের নির্বাচনী কৌশলের সমালোচনা করেছেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) চার জ্যেষ্ঠ নেতা। ‍

বিবিসি বলছে, মঙ্গলবার এক যুক্তবিবৃতিতে নির্বাচনের এই ফলাফলকে ‘বিপর্যয়কর’ বলে উল্লেখ করেছেন সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী এল কে আদভানি ও দলের অন্য তিন নেতা।

এই বিবৃতিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও দলীয় নেতা অমিত শাহ্র উপর সরাসরি আক্রমণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই দুজনই বিহারের নির্বাচনী প্রচারণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন।

২০১৪ সালে ভারতের সাধারণ নির্বাচনে বিজেপির বিপুল বিজয়ের পর বিহারেই প্রথম বিপর্যয়ের মুখোমুখি হল দলটি।

২০১৩ সালে মোদী বিজেপির নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতারা কোনঠাসা হয়ে পড়েন। কিন্তু বিহার নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে দেয়া এ বিবৃতিতে তাদের বিদ্রোহের লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিবৃতিতে বলা হয়, “দিল্লির বিপর্যয় থেকে কোনো শিক্ষাই যে নেয়া হয়নি তা বিহারের ফলাফলে প্রমাণ হয়েছে। গত বছরে দলকে যেভাবে নির্জীব করা হয়েছে তাই দলের এ পরাজয়ের প্রধান কারণ।”

ফেব্রুয়ারিতে দিল্লি বিধানসভার নির্বাচনেও অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টির কাছে বিজেপি পরাজিত হয়েছিল।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, “এই পরাজয়ের কারণ বের করতে সবকিছু পর্যালোচনা করে দেখা দরকার। পাশাপাশি পুরো দলকে হাতেগোনা কয়েকজনের কাছে নতজানু করার বিষয়টি আর কীভাবে দলের সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চরিত্রটি নষ্ট করা হয়েছে তাও পর্যালোচনা করা দরকার।”

আদভানি ছাড়া বিবৃতিটিতে সই করা অন্য নেতারা হলেন, সাবেক অর্থ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী যশোবন্ত সিনহা, দলের সাবেক সভাপতি ও মানবসম্পদমন্ত্রী মুরলি মনোহর যোশি ও সাবেক মন্ত্রী শান্ত কুমার।

বিহারের নির্বাচনী প্রচারণার ব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রণ করেছেন যারা, দলের সেই নেতাদের মাধ্যমে ‘পর্যালোচনাটি’ না করার কথাও জোর দিয়ে বলেছেন তারা।

এর প্রতিক্রিয়ায় বিজেপি থেকে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জ্যেষ্ঠ নেতাদের ‘দিকনির্দেশনা ও পরামর্শকে’ দল স্বাগত জানাবে।

বিহার নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ বিশ্লেষণের লক্ষ্যে আসছে সোমবার বিজেপি দলীয় পার্লামেন্টারি বোর্ডের একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।