বিজিএমইএ ভবন ভাঙার দিন গণনা শুরু : অ্যাটর্নি জেনারেল

যুগবার্তা ডেস্ক:বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) ভবন ভাঙার বিষয়ে আদালত যে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন তা আজ থেকেই গণনা শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। রোববার রায় ঘোষণার পর অ্যাটর্নি জেনারেলের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বিজিএমইএর একটি অবৈধ ভবন আদালত থেকে রায় ঘোষণা করেছিল ভবনটি ভেঙে ফেলার জন্য। এখন বিজিএমই কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ আদালতের রায় মানতে বাধ্য। তারা ভবন থেকে বিভিন্ন জিনিসপত্র সরানোর জন্য তিন বছর সময় চেয়েছিল। আদালত তাদের ছয় মাস সময় দিয়েছেন।

তিনি বলেন, যেহেতু এসব ব্যবসায়ী আন্তর্জাতিক রফতানির সঙ্গে যুক্ত তাই আমিও আদালতকে এক বছর সময় দিতে বলেছিলাম। আদালত ছয় মাস সময় দিয়েছেন। এখন তারা এই আদেশ পালন করতে বাধ্য। আজ থেকে দিন গণনা শুরু হবে।

রোববার সকালে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের তিন বিচারপতির বেঞ্চ ছয় মাসের মধ্যে বিজিএমইএর অবৈধ ভবন ভাঙতে আদেশ দেন। বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ তিন বছর সময় চাইলেও আদালত তা না মঞ্জুর করে তাদের ছয় মাস সময় বেঁধে দেন।

এর আগে গত ৫ মার্চ বিজিএমইএ ভবন অবিলম্বে ভেঙে ফেলতে সর্বোচ্চ আদালতের দেয়া রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে (রিভিউ) করা আবেদন খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। এরপর ভবনটি ভাঙার জন্য তিন বছর সময় চেয়ে আবেদন করে বিজিএমইএ।

বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে হাইকোর্টের দেয়া রায় গত বছরের ২ জুন বহাল রেখেছিলেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বেঞ্চ। ৮ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ৩৫ পৃষ্ঠার রায় প্রকাশিত হয়। পরে ডিসেম্বরে এ রায় রিভিউ চেয়ে আবেদন করে বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ।

১৯৯৮ সালের ২৮ নভেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিজিএমইএ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ভবন নির্মাণ শেষ হলে ২০০৬ সালের ৮ অক্টোবর বিজিএমইএ ভবন উদ্বোধন করেন সে সময়কার প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। এরপর থেকে ভবনটি বিজিএমইএর প্রধান কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।