বিচারক তদন্ত আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

59

যুগবার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বিচারক তদন্ত আইন ২০১৬ এর খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর ফলে বিচারকদের অভিসংশন ক্ষমতা ফিরে পা”েছ সংসদ। আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।
এই আইনে বলা হয়েছে, সংবিধানে বিচারকদের কোড অব কন্টাক্টের ব্যাত্যায় ঘটলে অথবা সংক্ষুব্ধ কেউ কোন বিচাররকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করলে জাতীয় সংসদের স্পীকার সেটা আমলে নিয়ে তদন্ত করতে পারবে। এজন্য ১০ জন সংসদ সদস্যের সমন্ময়ে একটি প্রাথমিক তদন্ত কমিটি গঠন করবে স্পীকার।
এই কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন স্পীকারের কাছে জমা দিলে এবং প্রতিবেদনে বিচারকের অসদাচরনের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে স্পীকার সাবেক প্রধান বিচারপতি, সাবেক এটর্নি জেনারেল এবং একজন বিশিষ্ট নাগরিকসহ তিনজনের একটি উ”চ ক্ষমতাসম্পন তদন্ত কমিটি গঠন করে দেবে। সেই তদন্ত কমিটি যদি অভিযোগের সত্যতা পায় তাহলে এই অভিযোগটা সংসদে উত্থাপন করা হবে তারপরই সংসদ ব্যাব¯’া ঐ বিচারকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যাব¯’া নেবে।
কেউ যদি মিথ্যা অভিযোগ করে সেই ক্ষেত্রে ২ বছর জেল এবং অনধিক ৫ লক্ষ টাকা জরিমানারও বিধান রাখা হয়েছে খসরায়। ৩ জনকে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমার ১০ দিনের মধ্যে অযিুক্ত বিচারপতি আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাবেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এটি হ”েছ সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। গত ২০১৪ সালের সেপ্টম্বর মাসে সংবিধানের ১৬ তম সংশোধনী হয়। সেখানে ৯৬ ধারার ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮ অনু”েছদ এগুলোকে অ্যামেন্ট করে ২, ৩, ৪ এই তিনটি ধারা নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত (প্রতিষ্ঠাপিত) হয়। ওখানে বিধান করা হয়েছে যে বাংলাদেশের বিচারকগণের বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ উঠে তা তদন্ত করা। তদন্ত করার জন্য একটি আইন করা বিধান রয়েছে ৯৬ ধারায়। সেই সাংবিধানিক বাধ্যবধকতায় এই আইনটি আনা হয়। এই আইনের মূল উদ্দেশ্য হ”েছ বিচারপতি ও বিচারকগণের বিশেষ করে উ”চ আদালত- সুপ্রিক কোর্টের আপিল বিভাগ এবং হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিগণের। মূলত ১৯৭২ সালের সংবিধানে এই আইনটি ছিল, সেখানে ফিরে যাওয়া। ১৯৭৫ সালের পরে এই আইনটি আনা হয় যে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল বিচারকদের বিরুদ্ধে তদন্ত করবে। কিš‘ পরবর্তীতে তা সংশোধন করা হয়নি। সেজন্য সরকার ২০১৪ সালের সেপ্টম্বরে নতুনভাবে সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। এটা হল ১৯৭২ সালের যে সংবিধান ছিল সেখানে ফিরে যাওয়া। মাননীয় বিচারপতিদের কোনো রকম যাতে অসম্মাননা করা না হয় তা সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিচারকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা তদন্ত করে দেখা সেটা শুধু বাংলাদেশে অনুসরণ করা হবে তা নয়। বিশ্বের উন্নত দেশগুলি যেমন আমেরিকা, যুক্তরাষ্ট্র বা অস্ট্রেলিয়ার দেশে বিচারকদের সম্মানের স্বার্থে এ ধরনের আইন করা হয়েছে। বিচারকদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রক্রিয়া আইনের মাধ্যমে করা হয়। আইনের বিষয়টা নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আলোচনার বিষয়ট বিশেষ করে বিচারপতিদের সঙ্গে বসা হবে।
আইনের প্রস্তাবিত কয়েকটি বিষয় মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, দেশের যেকোনো ব্যক্তি বিচারকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনলে তা জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিতে হবে। দাখিলকৃত অভিযোগে সংশ্লিষ্ট বিচারকের বিষয়গুলো বিস্তারিত উল্লেখ করতে হবে। তবে বিচারকের বিরুদ্ধে অসত্য ও মিথ্যা অভিযোগ করা হলে উক্ত ব্যক্তিকে দুই বছর জেল এবং পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা দিতে হবে।
দাখিলকৃত অভিযোগের তথ্য প্রাথমিক নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সদস্যদের মধ্যে ১০ জনকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে। ঘোষিত কমিটি আনিত অভিযোগ সম্পর্কে গোপনীয়তা রক্ষা করে তা ৭ দিনের মধ্যে স্পিকারের নিকট প্রতিবেদন জমা দেবেন। বিচারকের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ যদি প্রাথমিকভাবে মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয় তাহলে সেখানেই তদন্ত প্রক্রিয়া থেমে যাবে। আবার প্রাথমিক অভিযোগ যদি সত্য বলে প্রমাণিত হয় তাহলে তদন্ত কমিটি লেখিতভাবে প্রতিবেদন স্পিকারের নিকট জমা দেবে। তা পর্যালোচনার পর জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে। জাতীয় সংসদের উক্ত বৈঠকে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যগণ সংশ্লিষ্ট বিচাকের বিরুদ্ধে তদন্ত করার প্রয়োজন মনে করলে তদন্ত কমিটি গঠন করা। তবে সেই তদন্ত কমিটিতে কোনো সংসদ সদস্য থাকবেন না। এই কমিটিতে তিনজন সদস্য থাকবেন তা হলেন বাংলাদেশের সাবেক বিচারপতি তিনি এ কমিটির চেয়ারম্যান, সাবেক এ্যার্টনী জেনারেল ও সাবেক আইন বিশেষজ্ঞ। তবে এখানে শুধু এ্যার্টনী জেনারেলের ক্ষেত্রে বয়স ৬৭ বছর আর অপরদের ক্ষেত্রে বয়স ৬৭টি বেশি হওয়া।আনিসুর রহমান তপন ও ফারুক, আমাদের সময়.কম