বিএনপি পুনর্গঠনের উদ্যোক্তা কামরুল হাসান নাসিমের বিবৃতি

98

বিএনপি পুনর্গঠনের নেতা কামরুল হাসান নাসিম এক বিবৃতিতে বলেন, ২০১৫ সালের ৯ জানুয়ারী থেকে দলের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ও দেশ সেবায়(ক্ষমতা) গেলে ‘উচ্চ আয়ের বাংলাদেশ’ করার নিমিত্তে দলের পক্ষ থেকে ‘সংকটকালীন মুখপাত্র’ হিসাবে যা বলেছি তা কম বেশী তুলে ধরার জন্য। এমন সংস্কৃতি গণমাধ্যমের(প্রিন্ট-ইলেক্ট্রনিক-অনলাইন) প্রচলিত ব্যবসা বান্ধব সাংবাদিকতাকে পিষ্ট করে মুল ধারার সাংবাদিকতাকে কাছে টানে- যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক বলে বিবেচিত হয়। কারণ, পারিবারিক রাজনৈতিক সূত্রিতায় বিশেষজন না হয়ে কিংবা দলের দায়িত্বশীল পদে না থেকে সাধারণ মানুষেরও যে লড়াই করার সুযোগ থাকে তেমন নজীর কেবল জাতীয় ভাবে আমি অন্তত বড় ক্যানভাসে শুরু করতে পেরেছি। কিন্তু শুরু করলেই হবে না। শেষটা দারুণ কিছু হতে হবে। রাজনৈতিক আদর্শিক যে লড়াইটা শুরু করেছি এর চূড়ান্ত রুপ দলীয় বিপ্লবের মধ্য দিয়েই শেষ হবে। এখানে দলের পক্ষ থেকে ব্যক্তি বিশেষের ডাকা আহুত কাউন্সিল ‘কথিত’ হলেও সারাদেশের বড় একটা অংশের নেতাকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এই কাউন্সিল প্রতিহত করার চেষ্টায় যাই নাই। এক কথায় কাউন্সিল ‘কথিত’ হলেও ঠেকানোর চেষ্টায় উৎসাহিত হই নাই। দলের সব পর্যায়ের সমর্থনকে বিবেচনায় এনে কাউন্সিলরদের আবেগে আঘাত করে দলীয় বিপ্লবের চলমান প্রক্রিয়াকে অন্তত ১৯ মার্চ ২০১৬ পর্যন্ত স্থগিত করেছি বা রেখেছি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, গেল ২০ বছরের কাউন্সিলরদের মাধ্যমেই দল পুনর্গঠন করা হবে এবং দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেই বসবে জাতীয়তাবাদী জনতার উচ্চ আদালত। আর তেমন কিছু ‘কথিত’ কাউন্সিল সমাপ্তির পর হতেই চাঙ্গা হয়ে উঠবে। সেই লক্ষ্যে এখনো পর্যন্ত গেল ২০ বছরের কাউন্সিলরদের কাছে চিঠি যাচ্ছে। আমি আগেও বলেছি, এখনো বলছি- ‘বিপ্লব’ দিন ক্ষন দিয়ে হয় না।

খুব স্পষ্ট করে দলের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে, আমাদের দলের মধ্যকার গুনগত পরিবর্তন আসতে হবে।দলের অসুখ আছে ৫টি। স্মরণ করিয়ে দেই। সেগুলো হলো- এক, জনস্বার্থে রাজনীতি না করা। দুই, জাতীয়তাবাদী থেকে জামায়াতেবাদী হয়ে পড়া। তিন, বিদেশী শক্তির উপর নির্ভরশীল হওয়া। চার, নাশকতাকে রাজনীতির হাতিয়ার করা। পাঁচ, দল পরিচালনায় আমাদের দুই শীর্ষ নেত্রী নেতা খানিকটা কার্যত ব্যর্থ। রাজনৈতিক বিবেচনায় বাংলাদেশের রাজনীতির ‘নেতৃত্ব’ গুন বিচারে প্রতিপক্ষ দলের প্রধান এবং আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফলত আমাদের মহান নেতা জিয়াউর রহমানের পরের ভার্সন। অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চিন্তার জায়গাটাতে তাঁদের মধ্যকার বেশ কিছু মিল রয়েছে। এমন কি শাসন ব্যবস্থায় নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার কৌশলেও তাঁরা একই পথের পথিক। যদি একজন শেখ হাসিনা রাজনৈতিক ভাবে নেতৃত্বের প্রশ্নে শহীদ জিয়ার পরের ভার্সন হন, তবে হাসিনার নেতৃত্বের চেয়েও উন্নত ভার্সন আমদের প্রিয় দল বিএনপি থেকে আসুক। জাতীয়তাবাদী হয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বে এমন কিছু হতে পারলেই বাংলাদেশের ও বিএনপির রাজনীতি সমৃদ্ধ হওয়ার সুযোগে থাকবে। নচেত বেগম জিয়া ও তাঁর অদ্ভুত চরিত্রের পুত্রের মাধ্যমে আমাদের আর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার সুযোগ থাকবে না।

দলের পক্ষ থেকে আমি দাবী করছি, এখন যে ধরনের রাজনীতি করা হচ্ছে তা ব্যক্তিকেন্দ্রিক। নিজেদের করা সামাজিক অন্যায়(মামলা) থেকে পরিত্রাণের জন্য আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৬০/৭০ টি আসন নিয়ে বিরোধী দল হওয়ার জন্যই বর্তমানের ‘অগণতান্ত্রিক ও অবৈধ নেতৃত্ব’ তাকিয়ে আছে। যা চলতে থাকলে বিএনপিকে দুর্বল করবে না শুধুই, নিজেদের সন্তানকে গলা টিপে হত্যা করার মতোই কিছুই হবে। কিন্তু রুগ্ন, অসুস্থ, বিবর্ণ চিন্তায় পরিবেষ্টিত ও চাকুরে কিছু রাজনীতিকদের একের পর এক নাটকীয় রাজনীতি অনেক কিছুকে সহজ করছে না। রাজনৈতিক লেখাপড়ায় আপ্লুত না থেকে তাঁরা আছেন অর্থ ও সামান্য স্বার্থের লোলুপে।গেল কিছু দিনের মধ্যে দলের চেয়ারপার্সন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বানানোর চেষ্টায় অর্থাৎ একই দলে মা ও পুত্রকে এক রকম জোর করে দলের শীর্ষ দুটি পদ নিজেদের করে রাখার বন্দোবস্তে যে সকল আমলাধারী রাজনীতিকদের দেখা গেছে- জাতীয়তাবাদী জনতার আদালতে তাঁদের বিচার আসন্ন। এমন সংস্কৃতির নাম গণতন্ত্র নয়। আমি দেশবাসীর কাছে, দলের নেতাকর্মীদের কাছে প্রশ্ন রাখছি- একটি পদেও যেখানে নির্বাচন করা হচ্ছে না এই কাউন্সিলে- তাহলে দলীয় বিপ্লবের, না কথিত কাউন্সিলের গুরুত্ব বেশী?

দলের পক্ষ থেকে বলছি, বিএনপি পুনর্গঠনে আমরা কতটুকু সহিষ্ণুতার পরিচয় রেখেছি তা গণমাধ্যম বলতে পারবে। এই বছরের শুরুতে ২ ও ১৭ জানুয়ারীতে দলীয় বিপ্লবের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহড়ায় আমরা অহিংস থেকেছি। মার খেয়েছি, আমাদের সাংস্কৃতিক লড়াইয়ের বস্তুবাদী অনুষঙ্গকে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। আমরা কেন নিজেরা নিজেদেরকে মেরেছি! কি বলতে চায় এই প্রজন্মের ছেলে মেয়েরা- তেমন কিছু শুনতে চায় নাই এক পক্ষ।অথচ আমাদের ছেলেমেয়েরা বলতে গিয়েছিল, দলের কার্যালয়ের সামনেই বসবে জাতীয়তাবাদী জনতার উচ্চ আদালত। আমরা ‘কথিত’ কাউন্সিলের আগেও আমরা আবার যেতে পারতাম। যাওয়া হয় নাই। অন্তত দলের মধ্যে সাংগঠনিকভাবে স্পিরিট নষ্ট যাতে না হয়- সেই সম্মান রাখতে। আমরা আশা করবো, এমন সংস্কৃতিতে আমরা সকলেই থাকবো। একটি উচ্চ আদালত বসলে সেখানে ‘বাদী’ হিসাবে আমার পরাজয়ও তো হতে পারে। কিন্তু রায় নিতে হবে। বিপ্লবে আইন নেই। সফল হলে নতুন আইন প্রণীত হয়- মনে রাখা দরকার সেটি। এখানে কথিত কাউন্সিল করে নির্বাচন কমিশনের আজকের সমর্থনও ফিকে হয়ে যাবে তখন।

সুন্দরের জন্য অর্থাৎ দেশের জন্য একজন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যেমন পুরো দেশের শাসনভার নিয়ে নিয়েছিলেন দলকে সঠিক পথে ফেরাতে- আমি তাঁর চেয়েও দারুণ অভিলাষে থেকে নিকট সময়ের মধ্যে শুধু দল নয় রাজনৈতিক পরিক্রমায় আরো বড় কিছু করার খন্ডকালীন নেতৃত্বে থাকছি ও থাকবো। প্রচলিত রাজনীতি আমার জন্য সঠিক নিকেতন নয়, কিন্তু লিখিত পান্ডুলিপি রচনা করে সমাজ ও রাষ্ট্রের পরিবর্তন নিয়ে আসাও দুরহ। আমি চেষ্টা করবো বিএনপিকে যোগ্য নেতৃত্বের কাছে দিয়ে এবং অসুখ সারিয়ে শ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক দল হিসাবে আবির্ভূত করাতে। দল বিএনপিই। এখানে আসল ও নকল বলে কিছু নেই।বিএনপি পুনর্গঠনে দলীয় বিপ্লব আসন্ন; সবার মধ্যে জিয়ার আদর্শের আসল স্পিরিট থাকতে হবে।। সঙ্গত কারণেই থামছে না আদর্শিকভাবে সেই স্পিরিট বিবেচনায় আসল ও নকলের লড়াই।