বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি হবে ৩ ধাপে

32

যুগবার্তা ডেস্কঃ গত ১৯ এপ্রিল বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হলেও এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতো দূরের কথা, মহাসচিব বা স্থায়ী কমিটির নাম ঘোষণা করতে পারেনি দলটি। এ নিয়ে দলের শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ে চলছে কানাঘুষা।
কে হবেন দলের মহাসচিব, স্থায়ী কমিটি থেকে কারা কারা বাদ পড়ছেন, নতুন কোন মুখ স্থায়ী কমিটিতে আসছেন এমন সব প্রশ্ন দেখা দিয়েছে নেতাকর্মীদের মধ্যে। কাউন্সিলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত দলের চেয়ারপারসন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে অনুমোদন দেন কাউন্সিলররা।
এ সময় পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য চেয়ারপারসনকে ক্ষমতা ও দায়িত্ব দেয়া হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে দলের গুরুত্বপূর্ণ মহাসচিব এবং দলের স্থায়ী কমিটি প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চেয়ারপারসন।
বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, তিনটি ধাপে দলটির নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। প্রথমে স্থায়ী কমিটি, তারপরই মহাসচিবেরে নাম ঘোষণা করা হবে। এই দুটি বিষয়ে ফয়সালা হলে পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে।
নতুন সংশোধনী অনুযায়ী এবারের কমিটিতে এক নেতা এক পদেই থাকতে পারবেন। অর্থাৎ একই ব্যক্তি কেন্দ্রীয়, সহযোগী বা জেলা/উপজেলা পর্যায়ের কমিটিতে থাকতে পারবেন না। বর্তমানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতা একাধিক পদে আছেন।
এ নিয়ে নতুন জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে আসতে আগ্রহী সংশ্লিষ্ট নেতারা বেশ বিপাকে পড়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া কাউন্সিলে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আকার বড় করে গঠনতন্ত্রের সংশোধনী পাস করা হয়।
এতে বিভিন্ন পদের সংখ্যা বৃদ্ধি, নতুন পদ সৃষ্টি ও উপকমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সংখ্যা নির্ধারণের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে চেয়ারপারসনের ওপর। সব মিলিয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির নেতার সংখ্যা পাঁচশ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
নতুন কমিটি প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বিগ্রেডিয়ার অব. হান্নান শাহ্ বলেন, কমিটির বিষয় নির্ভর করে আমাদের নেত্রীর (খালেদা জিয়া) ওপর। দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটি এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে ব্যাপক চিন্তা-ভাবনা ও সতর্কতা অবলম্বন করছেন খালেদা জিয়া।
তিনি জানান, আমরা আশাবাদী, চলতি সপ্তহেই স্থায়ী কমিটি এবং মহাসচিবের নাম ঘোষণা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্থায়ী কমিটির পরিধি বাড়ানো হবে না।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য নাম গোপন রাখার শর্তে বলেন, মির্জা ফখরুলই বিএনপির মহাসচিব হচ্ছেন, এটা প্রায় নিশ্চিত। আমাদের নেত্রী এবং তারেক রহমানও এ বিষয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছেন।
নতুন কমিটির বিষয়ে বিএনপির প্রচার সম্পাদক জয়নাল আবদিন ফারুক বলেন, আমরা ১৯ মার্চ কাউন্সিলের দিন দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে নতুন কমিটি দেয়ার সর্বময় ক্ষমতা দিয়েছি।
এক নেতার এক পদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এক নেতার এক পদ হওয়ার কারণে আমাকেও নোয়াখালী জেলার দায়িত্ব ছেড়ে দিতে হবে। তাতে আমি খুশি, কেননা এটা দলের জন্য ভালো। নতুনদের নেতৃত্বে আসতে দেয়া সহজ হবে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি একটি বড় দল। তাই পূর্নাঙ্গ কমিটি হতে একটু সময় তো লাগবেই। এমনকি এক মাসও লাগতে পারে বলে তিনি জানান।
সূত্র জানায়, আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটি ঘোষণা করার বিষয়ে সিংহভাগ সিনিয়র নেতা একমত পোষণ করেছেন। বর্তমান এই কমিটিতে রয়েছেন ১৯ সদস্য। এর মধ্যে ড. আর এ গণি ও সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন মারা গেছেন। খোন্দকার দেলোয়ারের মৃত্যুর পর মহাসচিবের (ভারপ্রাপ্ত) দায়িত্ব পালন করছেন সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন- বেগম খালেদা জিয়া, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, এম শামছুল ইসলাম, লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, এম তরিকুল ইসলাম, ব্রিগেডিয়ার জে. (অব.) আ স ম হান্নান শাহ, এম. কে আনোয়ার, বেগম সারওয়ারী রহমান, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান।
এদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে নতুন পাচঁটি মুখ আসতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। বাদ পড়তে পারেন এম শামসুল ইসলাম, বেগম সারওয়ারী রহমান, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার। অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন শাহ্ মোয়াজ্জেম হোসেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আব্দুল্লাহ আল নোমান, আমীর খসরু মাহমুদ, সাদেক হোসেন খোকা।