বিএনপি’র দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে রাজশাহীতে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

default

মো.পাভেল ইসলাম রাজশাহী: দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমকে ব্যাহত ও বিএনপি’র অব্যাহত দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, রাজশাহী মহানগরের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল বৃহষ্পতিবার বেলা ৩টায় কুমারপাড়াস্থ দলীয় কার্যালয় থেকে বের হয়। বিক্ষোভ মিছিলটি নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদিক্ষণ শেষে সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে এসে শেষ হয়। মিছিল শেষে সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র জননেতা এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন।

প্রতিবাদ সমাবেশে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, রাজশাহী মহানগরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল সভাপতিত্ব করেন। সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, রাজশাহী মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ডাবলু সরকার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জননেতা এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, বিজয়ের এই মাসে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, রাজশাহী মহানগর বিশালমত মিছিল ও সমাবেশের মাধ্যমে আরেকটি ইতিহাস সৃষ্টি করলো। এই মানুষগুলোকে মাদ্রাসা মাঠে ঢোকালে মাদ্রাসা মাঠ ভরপুর হয়ে যাবে। যেইটার জন্য বিএনপি কয়েকদিন ধরে ঢাক-ঢোল বাজিয়ে রাজশাহীর আটটি জেলা ভাড়া করে লোকজন নিয়ে এসে তারা মাঠে ভর্তি করে দেখাতে চায়। আসুন-দেখুন, মাত্র একদিনের নোটিশে আমরা কী রকম বড় মিছিল ও সমাবেশ করতে পারি। আমরা শুধুমাত্র রাজশাহী মহানগর এই আয়োজন করেছি। রাজশাহী জেলা ও অন্যান্য জেলাকে আলাদাভাবে প্রোগ্রাম করতে বলেছি। আওয়ামী লীগ জনগণের দল। আওয়ামী লীগ মানেই জনগণের সংগঠন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তিল তিল করে তাঁর যৌবনের সমস্ত উত্তাপ দিয়ে তিনি দলটিকে সুসংগঠিত করেছিলেন। সেই দল আওয়ামী লীগকে দুর্বল ভাবেন না, শেখ হাসিনাকে দুর্বল ভাবেন না।

খায়রুজ্জামান লিটন আরো বলেন, লন্ডনে বসে ক্যাসেট বাজায় তারেক জিয়া। আর সেই তারেক জিয়ার ক্যাসেট শুনে এরা এখানে আওয়াজ দেয়। আমরা বলতে চাই আপনাদের হাওয়া ভবন, চম্পা ভবন, খোয়াব ভবন ছিল। খোয়াব ভবনের মতো খোয়াব আর দেখেন না। আর খোয়াব দেখে লাভ নাই। আবারো ক্ষমতায় বসবেন, লুটপাট করবেন- আপনাদের সেই স্বপ্ন আর পূরণ হবে না।

খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, আপনারা সমাবেশ করছেন, আমরা জানি কেন করছেন। নির্বাচনও করবেন। এখন বলছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচন করবেন না, শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন করবেন না। আপনাদের জন্য নির্বাচন থেমে থাকবে না। নির্বাচনে আসেন, কিছু আসন পেলেও পেতে পারেন। জনগণ যদি দেয়, তাহলে কিছু আসন পেতে পারেন।

তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে ব্যাপক উন্নয়ন দৃশ্যমান। আমরা যা জীবনেও কল্পনা করতে পারিনি, সেই রকম চকম দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশে নদীর তল দিয়ে টানেল তৈরি হচ্ছে। ঈশ্বরদীতে পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে, যেখানে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। সর্বদিক দিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশকে কাঙ্খিত জায়গায় নিয়ে যাবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনা, যিনি স্বাধীনতা আনতে দেখেছেন, স্বাধীনতার সুতিকাগার দেখেছেন, তাকে গণতন্ত্র শেখাবার চেষ্টা করেন না মির্জা ফখরুল সাহেবেরা। আপনারা হেরে যাবেন, পারবেন না।

বিএনপির উদ্দেশ্যে খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, সরকার অনুমতি দিয়েছে সমাবেশ করেন। ভদ্রভাবে করেন, ৮ জেলা থেকে লোক নিয়ে এসে করেন, কোনটাতে আপত্তি নেই। কিন্তু যদি শুনি কোথাও কোন গাড়ি ভেঙেছেন, যানবাহনে আগুন দিয়েছেন বা জনগণের মাঝে অশান্তি তৈরি করেছেন, তাহলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কী করবে, সেটি তাদের ব্যাপার। কিন্তু দলীয়ভাবে আমরা ক্ষমতাশীন দল ছেড়ে দিতে পারি না। জনগণ আমাদের রায় দিয়েছে, জনগণের পক্ষে কাজ করার জন্য, উন্নয়ন দেবার জন্য, তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন করবার জন্য, আমরা সেটি রক্ষা করতে ওয়াদাবদ্ধ।

সভাপতির বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা ঘোষিত প্রতিটি আন্দোলন ও সংগ্রামে ইস্পাত কঠিন ঐক্য নিয়ে বিএনপি’র দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের রাজনীতি রাজপথেই মোকাবিলা করা হবে। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে স্বাধীন আমাদের এই দেশ। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে বিএনপি যতই ষড়যন্ত্র করুক না কেন, আমরা বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে তাদের এই ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত জনগণকে সাথে নিয়ে রাজপথেই রুখে দিবো।

সমাবেশে মোঃ ডাবলু সরকার বলেন, বিএনপি এখন দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তারা রাজপথের রাজনীতিতে ব্যর্থ হয়ে বর্তমান সরকারের অপপ্রচার ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের রাজনীতিতে শুরু করেছে। বিএনপি’র নেতারা বলছে রাজপথ নাকি তাদের দখলে! আমি তাদেরকে বলতে চাই, আসুন, দেখে যান রাজপথ কার দখলে, রাজপথ আমাদের দখলে, রাজপথ আওয়ামী লীগের দখলে। আমরা অতীতে রাজপথে ছিলাম, বর্তমানেও রাজপথে আছি, ভবিষ্যতেও রাজপথে থাকবো।

তিনি বলেন, জনগণ বিএনপি’র দুঃশাসন ভুলে যায় নি। বিএনপি হাওয়া ভবন থেকে খোয়াব ভবন চম্পক ভবন করে দেশের অর্থ সম্পদ লুণ্ঠন করে বিদেশে পাচার করেছিলো। তাদের শাসনামলে বাংলাদেশ পাঁচ বার দূর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলো। তারা দেশের সকল খাতকে ধ্বংস করেছিলো। তাদের আমলে ১০ ট্রাক অস্ত্র আনা হয়েছিলো দেশে জঙ্গীবাদ কায়েমের লক্ষ্যে। বিএনপি সারাদেশে হত্যা, খুন করে দেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলো। তাদের আমলে সরকারী মদদে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে ২২ জন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যা করেছিলো, এর মূল হোতা ছিলো তারেক রহমান।

তিনি আরো বলেন, বিএনপি আবারো ক্ষমতায় এলে দেশে কোন শান্তি থাকবে না, দেশে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। লক্ষ লক্ষ মানুষকে তারা হত্যা করবে, তাই বিএনপিকে রাজনৈতিক ভাবে প্রতিহত করা সকলের নৈতিক দায়িত্ব কারণ এ দলটি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, দলটির জন্ম হয়েছে ক্যান্টনমেন্টের সেনা ছাউনি থেকে।

তিনি বলেন, বিএনপিকে সমুচিত জবাব দিতে হলে আমাদেরকে রাজপথে থাকতে হবে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে বিএনপি-জামায়াত যতই ষড়যন্ত্র করুক না কেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে জনগণকে সাথে নিয়ে রাজপথে থেকে আমরা এই দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা করবো।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সদস্য বেগম আখতার জাহান, রাজশাহী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, রাজশাহী মহানগরের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা নওশের আলী, সৈয়দ শাহাদত হোসেন, অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা, রেজাউল ইসলাম বাবুল, ডাঃ তবিবুর রহমান শেখ, নাঈমুল হুদা রানা, বদরুজ্জামান খায়ের, যুগ্ম সম্পাদক মোস্তাক হোসেন, আহ্সানুল হক পিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. আসলাম সরকার, মীর ইসতিয়াক আহমেদ লিমন, প্রচার সম্পাদক দিলীপ কুমার ঘোষ, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক মীর তৌফিক আলী ভাদু, আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. মুসাব্বিরুল ইসলাম, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক জিয়া হাসান আজাদ হিমেল, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক ফিরোজ কবির সেন্টু, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক রবিউল আলম রবি, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ইয়াসমিন রেজা ফেন্সি, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক মকিদুজ্জামান জুরাত, শিল্প ও বানিজ্য সম্পাদক ওমর শরীফ রাজিব, শ্রম সম্পাদক আব্দুস সোহেল, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক কামারউল্লাহ সরকার কামাল, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক কামারউল্লাহ সরকার কামাল, উপ-দপ্তর সম্পাদত পংকজ দে, উপ-প্রচার সম্পাদক সিদ্দিক আলম, কোষাধ্যক্ষ হাবিুল্লাহ ডলার, সদস্য মুশফিকুর রহমান হাসনাত, নজরুল ইসলাম তোতা, শাহাব উদ্দিন, আশরাফ উদ্দিন খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ আব্দুল মান্নান, আতিকুর রহামন কালু, হাফিজুর রহমান বাবু, আব্দুস সালাম, সৈয়দ মন্তাজ আহমেদ, মজিবুর রহমান, ইসমাইল হোসেন, বাদশা শেখ, আলিমুল হাসান সজল, জয়নাল আবেদীন চাঁদ, ইউনুস আলী, মোখলেশুর রহমান কচি, এ্যাড. রাশেদ-উন-নবী আহসান, মাসুদ আহমদ, আশীষ তরু দে সরকার অর্পণ, থানা আওয়ামী লীগের মধ্যে রাজপাড়া থানার সাধারণ সম্পাদক শেখ আনসারুল হক খিচ্চু, বোয়ালিয়া (পূর্ব) থানার সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুমার ঘোষ, বোয়ালিয়া (পশ্চিম) থানার সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান রতন, মতিহার থানার সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন, মহানগর শ্রমিক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওয়ালী খান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শরীফ আলী মুনমুন, মহানগর যুবলীগের সভাপতি রমজান আলী, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আব্দুল মোমিন, সাধারণ সম্পদাক জেডু সরকার, মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সালাম রেজা, সাধারণ সম্পাদক কানিজ ফাতেমা মিতু, মহানগর যুব মহিলা লীগ সভাপতি এ্যাড. ইসমত আরা, সাধারণ সম্পাদক নিলুফার ইয়াসমিন নিলু, মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি নূর মোহাম্মদ সিয়াম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি গোলাম কিবরিয়া, সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি ডাঃ মনন কান্তি দাস, মহানগর তাঁতী লীগ সভাপতি আনিসুর রহমান আনার, সাধারণ সম্পাদক মোকসেদ-উল-আলম সুমন প্রমুখ।