বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি

120

যুগবার্তা ডেস্কঃ কী বৃষ্টিটাই না হলো! শহর ঢাকাকে একেবারে ধুয়ে মুছে দিয়ে গেছে। টানা বর্ষণের কারণে ঘর থেকে এ ক’দিন বের হওয়া মুশকিল ছিল। জরুরী কাজ ছাতা মাথায় দিয়ে সারতে হয়েছে। সব দেখে মনে হয়েছে আষাঢ় মাস। আসলে তো বৈশাখ। মাসের শেষভাগে ঝড় বৃষ্টি হয় টয়। কিন্তু শুরুতেই আকাশ ভেঙ্গে পড়ায় অনেকেই অবাক। নিজেদের জটিল ভাষায় বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন আবহাওয়াবিদরা। বলেছেন, হিমালয় থেকে কিছুটা শুষ্ক শীতল পশ্চিমা বায়ু আসছিল। বঙ্গোপসাগর উপক‚ল থেকে আসছিল জলীয় বাষ্প মেশানো উষ্ণ পূবালী বায়ু। দুটির সংযোগে অকাল বর্ষা। চলতি এপ্রিল মাসের ১৮ তারিখ থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত রাজধানী ঢাকায় মোট বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১৫৮ মিলিমিটার। গড়ে প্রতিদিন বৃষ্টি হয়েছে ২২ দশমিক ৫৮ মিলিমিটার। শুরুর দিকে প্রায় সবাই উপভোগ করেছেন বৃষ্টি। কিন্তু অচিরেই কমে আসে আবেগ উচ্ছাস। দুর্ভোগ বেড়ে যায় রাজধানীবাসীর। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে থৈ থৈ করে পানি। কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ হয়ে আসা যাওয়ার সময় দেখা যায়, ভিআইপি সড়কের কাওরান বাজার অংশ পানিতে ডুবে গেছে। এর চেয়ে নিচু সড়ক অনেক আছে। সেগুলোর অবস্থা অনুমান করা যায় বৈকি। তবে দুর্ভোগের আলোচনায় অতি অবশ্যই চলে আসবে মৌচাক মালিবাগ এলাকা। এই এলাকার প্রধান সড়কটিকে নদী বললেও চলে। এবারও নদীতে উপুড় হয়ে পড়েছে রিক্সা। যাত্রীরা নোংরা জলে হাবুডুবু খেয়েছে। প্রত্যেকটি দৈনিকে এসেছে সেই ছবি। টেলিভিশনগুলো দেখিয়েছে। কিন্তু যারা দেখার তারা কি দেখেছেন?
অবশ্য এখন মেঘমুক্ত ঢাকার আকাশ। গত বুধ ও বৃহস্পতিবার বৃষ্টি হয়নি। কিন্তু বৃষ্টির বিপরীতে এত উষ্ণতা লুকিয়ে ছিল, কে জানত? এখন জানা হচ্ছে। গত দুই দিনে প্রাণ যায় অবস্থা হয়েছে ঢাকাবাসীর। এপ্রিল মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। মে মাসটা বৃষ্টির। কিন্তু এই মাসে বৃষ্টি স্বাভাবিকের চেয়ে কম হতে পারে। আর তাহলে তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যাবে। আবহাওয়া অফিস তেমনটিই জানাচ্ছে। তাদের আশঙ্কা, সারাদেশে বৃষ্টিপাত আর না হলে শনি রবিবারের মধ্যে তাপমাত্রা বেড়ে ৩৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস হয়ে যেতে পারে। মাসের বাকি দিনগুলোতে তাপমাত্রা বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রী সেলসিয়াসে। প্রকৃতির তাপমাত্রা বেড়ে ৪০ ডিগ্রী সেলসিয়াসে পৌঁছালে তাকে তাপদাহ বলা হয়। এ ধারা অব্যাহত থাকলে মে মাসের মধ্যেই তাপমাত্রা তাপদাহে পৌঁছে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।
এবার একটু ভাল খবর দেয়া যাক। রাজধানীর ফুটপাথ দখলমুক্ত করার কাজ বেশ ভালভাবেই এগিয়ে চলেছে। ধারাবাহিক উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছে দুই সিটি কর্পোরেশন। রুটি কলা চা বিস্কুট ইত্যাদি নিয়ে যে যেখানে খুশি বসে যাচ্ছেন। সঙ্গে সঙ্গে জমে উঠছে বাজার। এত সহজে মানুষের হাঁটার পথ কেউ দখল করে নিতে পারে? ঢাকায় পারে। এদের বিতাড়িত করতে কাজ করছেন ঢাকার দুই মেয়র। সেই ধারাবাহিকতায় ৮টি দূতাবাসকে ফুটপাথ থেকে কংক্রিট প্লান্টারসহ অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা অপসারণের নির্দেশ দিয়ে চিঠি পাঠায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন। চিঠি পেয়ে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস ফুটপাথ থেকে প্লান্টার সরিয়ে পথচারীদের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়। ব্যবস্থা গ্রহণ করে কানাডা দূতাবাস। ইতালি, রাশিয়া, সৌদি আরব দূতাবাস ও পাকিস্তান হাইকমিশনের সামনের ফুটপাথ থেকেও কংক্রিট প্লান্টার ব্লক অপসারণ করা হয়। সর্বশেষ বুধবার গুলশানে অস্ট্রেলিয়া দূতাবাসের সামনের ফুটপাথ দখল করে রাখা স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন। অস্ট্রেলিয়া দূতাবাস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর ভবনের সামনের ফুটপাথ থেকে ৩৩টি কংক্রিটের টব অপসারণ করা হয়। আগামী ৭ মে’র মধ্যে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ নিজ উদ্যোগে এর পেছনের অংশ ও দক্ষিণ দিকের ফুটপাথ থেকে লোহার পোলসহ অন্যান্য স্থাপনা সরিয়ে নেবে বলে জানিয়েছেন উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ সাঈদ আনোয়ারুল ইসলাম। আর তা হলে দক্ষিণ পাশের রাস্তাটি প্রায় ১০ ফুট প্রশস্ত হবে। ফুটপাথ দখলমুক্ত করার এই কাজ অব্যাহত থাকবে বলে আশা রাজধানীবাসীর।-জনকণ্ঠ